ইয়া নবী সালাম আলাইকা শরয়ী বিধান ও বিশ্লেষণ

ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসূল ছালাম আলাইকা, ইয়া হাবিব সালাম আলাইকা এই ভাবে বিশ্ব নবী (সা.) কে সালাম দেওয়ার শরয়ী বিধান ও বিশ্লেষণ

বিশ্বনবী (সা.) প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফযিলতের কাজ। এতে কোন সন্দেহ নেই। দরুদ ও সালাম পাঠের নিয়ম নীতি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সমাজে যে পদ্ধতিতে প্রচলিত মিলাদ ও কিয়ামের মাধ্যমে দরুদ ও সালাম পাঠ করা হয়, তার কোন ভিত্তি শরীয়তে নেই। صلوة সালাত শব্দটি যখন বিশ্বনবী (সা.) দিকে নিসবাত বা ব্যবহার করা হয়, তখন তা দ্বারা অর্থ হয়  দরুদ। صلوة সালাত শব্দ দ্বারা দরুদের অর্থ প্রকাশিত হয়। সেই হিসাবে সালাত অর্থ দরুদ এবং সালাম অর্থ শান্তি বা সালাম নামেই ব্যবহৃত হয়। سلام সালাম শব্দটি আরবি।

এ শব্দটি ব্যবহারে পরস্পর বিনিময়ে বহু নেকীর সুসংবাদ রয়েছে। হাদিসে পাকের মধ্যে এরশাদ হয়েছে তোমরা বেশী করে সালামের প্রচলন কর। তোমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ কায়েম হবে, দুশমনি দূর হবে। অন্য হাদিসে আছে, যে সালাম দেয় তার ত্রিশটি নেকী হয়, আর যে উত্তর দেয় তার দশটি নেকী লেখা হয়। সালাম দেওয়া সুন্নত, কিন্তু উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। এ বিষয়ে আরো বহু ফযিলতপূর্ণ হাদিস বর্ণিত আছে। কিন্তু সালাম দেওয়া ও তার উত্তর দেওয়া যেহেতু নেকীর কাজ, সেহেতু এ জন্য শরীয়তে নিয়ম-নীতি রচনা করা হয়েছে।

তা হচ্ছে এই যে, সালাম سلام শব্দটি আরবি। আরবি ভাষায় যে শব্দটির স্বয়ং সম্পূর্ণ অর্থ আছে এবং তার কোন কাল বা সময়ের সহিত সম্পৃক্ত নয়, সে শব্দকে ইছম (বা ঘড়ঁহ) বিশেষ্য বলে। ইছম বা বিশেষ্য দুই প্রকার। যথা-১) মারেফা অর্থাৎ পরিচিত বা নির্দিষ্ট ২) নাকেরা অর্থাৎ অপরিচিত বা অনির্দিষ্ট। আরবি ভাষায় মারেফা বা নির্দিষ্ট ও পরিচিত  বিশেষ্যের গুরুত্ব নাকেরার থেকে অনেক বেশী।

মারেফা অর্থাৎ নির্দিষ্ট বা পরিচিত ইসম বা বিশেষ্যসমূহের কিছু আলামত বা চিহ্ন রয়েছে। নাকেরা বা অনির্দিষ্ট ইসমকে মারেফায় পরিণত করার জন্য কিছু নিয়ম আছে। যেমন- নাকেরা ইসমের শুরুতে আলিফ-লাম যোগ করলে তা মারেফায় পরিণত হয় এবং এযাফতের দ্বারা নাকেরা শব্দটি মারেফায় পরিণত হয়ে যায়। আরবি ভাষায় আলিফ-লাম দ্বারা যে সকল ইসম বা বিশেষ্য মারেফা ব্যবহৃত হয়, তার শুরুতে যদি ইয়া(يا)  হরফে নেদা ব্যবহার করা হয়, তখন আলিফ-লামের পূর্বে  (ايها)আইয়্যুহা শব্দটি ব্যবহার করা জরুরী হয়। মারেফার আলামত ছাড়া যত ইসম বা বিশেষ্য আছে সবগুলোকে নাকেরা বা অপরিচিত ও অনির্দিষ্ট এসম বলা  হয়।

অতএব,(يانبي)  ইয়া নাবী সালাম আলাইকা বাক্যের মধ্যে নবী শব্দটি নাকেরা বা অপরিচিত ও অনির্দিষ্ট। কেননা নবী শব্দটির পূর্বে মারেফার কোন আলামত নেই। তাই তার অর্থ বুঝায় হে অপরিচিত ও অনির্দিষ্ট নবী (নাউযুবিল্লাহ্)। যা বিশ্ব নবী (সা.) এর শানে  চরম পর্যায়ের  বেআদবী। কেননা বিশ্বনবী (সা.) কোন অপরিচিত ও অনির্দিষ্ট নবী নন। বরং তার চেয়ে পরিচিত কোন ব্যক্তিই কিয়ামত পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তিনিই নবমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে একমাত্র বেশী সুপরিচিত ও প্রশংসনীয় ব্যক্তিত্ব। সুতরাং তাকে অনির্দিষ্ট ভাবে সম্বোধন করে সালাম প্রেরণ করা চরম বেয়াদবী। প্রচলিত মিলাদে কিয়াম বা দাঁড়িয়ে যে সালাম পাঠ করা হয়। তা কোন ভাবেই ঠিক নয়। কারণ-

১) নবী نبى শব্দটি নাকেরা ব্যবহার করার কারণে বিশ্বনবী (সা.) কে অপরিচিত ও অনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

২)   ইয়া নবী সালাম আলাইকা (يا نبى سلام عليك يا رسول سلام عليك) বাক্যের মধ্যে সালাম শব্দটি তানভীন ছাড়া ব্যবহারের কারণে নাকেরা ব্যবহারের কারণে সালামের আদব রক্ষা হয় না। কারণ আমরা পরস্পর যখন সালাম বিনিময় করি, তখন সালাম শব্দটি আলিফ-লাম দ্বারা মারেফা করে ব্যবহার করে থাকি। যেমন- السلام عليكم وعليكم السلام আস্সালামু আলাইকুম। উক্ত বাক্যের মধ্যে লক্ষ্য করলে সালাম শব্দটি আলিফ-লাম দ্বারা মারেফা ব্যবহারিত হয়েছে।

যা আরবি গ্রামার অনুযায়ী সঠিক। কিন্তু ইয়া নাবী সালাম আলাইকা বাক্যের মধ্যে সালাম শব্দটি তানভীন ছাড়া নাকেরা বা অনির্দিষ্ট ব্যবহার করার কারণে সালামের আদব রক্ষা হয়নি। কেননা বর্তমান মুসলিম সমাজে যদি কেউ কাউকে আস্সালামু না বলে শুধু সালাম আলাইকা বলে,(سلام عليك وعليك سلام)  তাহলে তাকে অবশ্যই সালামের প্রতি তামাশাকারী বলে সাব্যাস্ত করা হবে।

৩।    বিশ্ব নবী (সা.)-এর উপর দরুদ ও সালাম মাজি এবং আমর সিগার মাধ্যমে পাঠের কথা হাদিসে পাকের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং ইয়া নবী সালাম আলাইকার মধ্যে  মাজি ও আমরের কোন সিগা ব্যবহারিত হয়নি। অতএব, উক্ত পদ্ধতিতে নবীজি (সা.)-এর উপর সালাম পাঠ করা হাদিসের খেলাপ বলে উহা না-জায়েজ।

৪।    প্রিয় নবী (সা.) শানে দূর থেকে দরুদ ও সালাম মাজি ও আমরের সিগার দ্বারা এবং রওজার পাশে গিয়ে সালাত-সালাম মাজি ও আমরের সিগা ব্যবহারের সাথে সাথে সালাত ও সালাম শব্দটি আলিফ লাম দ্বারা মারেফা করে বিশ্বনবী (সা.) কে আল্লাহ্ পাকের ইছমে জাতের দিক এযাফতের দ্বারা মারেফার মাধ্যমে দরুদ ও সালাম পেশ করার নিয়ম পদ্ধতি নবী কারিম (সা.) যুগ থেকে এ পর্যন্ত চলে আসছে। যা কুরআন-সুন্নাহ্ মোতাবেক সঠিক। সুতরাং ইয়া নবী সালাম আলাইকার মধ্যে মাজি ও আমর বা আলিফ-লাম কোনটিই উল্লেখ না থাকার কারণে উক্ত পদ্ধতিতে সালাম পেশ করা বিশ্বনবীর শানে সঠিক নয়।

৫।    দূর থেকে বিশ্বনবী (সা.) এর উপর দরুদ ও সালাম পেশ করার কয়েকটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হলো-

صلى الله عليه وسلم (১)

صلى الله عليه وعلى اله وسلم (২)

صلى الله على النبي الامي وعلى اله وسلم (৩)

উল্লেখিত দরুদ ও সালামগুলোর মধ্যে সালাত ও সালামকে মাজির সিগা দ্বারা আদায় করা হয়েছে।

(১) اللهم صلى على محمد وعلى ال محمد كما  صليت على ابراهيم  وعلى ال ابراهيم انك حميد مجيد اللهم بارك على محمد وعلى ال محمد كما باركت على ابراهيم وعلى ال ابراهيم انك حميد مجيد-

(২) اللهم صلى على محمد نبى الامى وعلى اله وسلم تسليما-

উল্লেখিত দরুদের মধ্যে সালাত ও সালামকে আমরের সিগা  ব্যবহার করা হয়েছে, যা সঠিক।

বিশ্বনবী (সা.) এর রওজার পাশে স্বচক্ষে দেখে উল্লেখিত মাঝি ও আমরের সিগা ব্যবহারের সাথে সাথে আলিফ-লাম দ্বারা সালাত ও সালাম শব্দকে মারেফা করে নবী শব্দটি আল্লাহ্ পাকের জাতের দিকে এযাফতের মাধ্যমে মারেফা বানিয়ে দরুদ ও  সালাম পেশ করার দৃষ্টান্ত নিম্নে পেশ করা হলো-

الصلوة السلام عليك يارسول الله (১)

الصلوة السلام عليك يا حبيب الله (২)

الصلوة السلام عليك نبي الله (৩)

ইত্যাদি।

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, উল্লেখিত সালাত ও সালাম শব্দগুলো আলিফ-লাম দ্বারা মারেফা ও নবী-রাসূল শব্দকে আল্লাহ্ পাকের জাতি নামের সহিত এযাফতের মাধ্যমে মারেফা বানিয়ে সালাত ও সালাম পেশ করা হয়েছে, যা সঠিক ও শরীয়ত সম্মত।

অতএব, বিশ্বনবী (সা.) কে নাকেরা বা অনির্দিষ্ট বানিয়ে সালাত ও সালাম শব্দটিও  নাকেরা করে ইয়া নবী সালাম আলাইকা(يا نبي سلام عليك)  বলে বিশ্বনবীর শানে সালাম পেশ করা আরবি গ্রামার ও কুরআন-সুন্নাহ্ অনুযায়ী সঠিক নয়।

ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসূল সালাম আলাইকা, ইয়া হাবিব সালাম আলাইকা কুরআন-সুন্নাহ্, এজমা, কিয়াসে উল্লেখ নেই।

আল্লাহ্ পাক পবিত্র কুরআন শরীফে বিশ্বনবী (সা.) কে আলিফ-লাম দ্বারা মারেফা (নির্দিষ্টতার) সহিত সম্মান সূচক শব্দ আইয়্যুহা দ্বারা সম্বোধন করেছেন। যেমন-

يا اَيُّهَا النَّبِيُّ اِتَّقِ اللَّهَ وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِيْنَ وَالْمُنَافِقِيْنَ

অর্খ: হে নবী আল্লাহ্কে ভয় কর এবং কাফের ও মোনাফেকদের আনুগত্য করবেন না।

সূরায়ে আহযাফ, আয়াত নম্বর- ১

يَا اَيُّهَا  النَّبِيُّ  قُلْ  لِاََزْوَاجِكَ  اِنْ كُنْتُنّ َ تُرِدْنَ  الْحَيَاةَ  الدُّنْيَا  وَزِيْنَتَهَا  فَتَعَالَيْنَ    اُمَتِّعْكُنَّ وَاُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيْلًا

অর্থ : হে নবী আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে বলূন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার চাকচিক্য (বিলাসীতা) কামনা কর, তবে এসো আমি তোমাদের কিছু ভোগ সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদেরকে বিদায় দেই। সূরায়ে আহযাফ, আয়াত নম্বর- ২৮

يَا اَيُّهَا النَّبِيُّ اِنَّا اَحْلَلْنَا لَكَ اَزْوَاجَكَ اللَّاتِي اتَيْتَ اُجُوْرَهُنَّ

অর্থ : হে নবী আমি আপনার স্ত্রীদেরকে আপনার জন্য হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহর প্রদান করেছেন। সূরায়ে আহযাফ, আয়াত নম্বর- ৫০

يَا اَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِاََزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِيْنَ يُدْنِيْنَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيْبِهِنَّ-

অর্থ : আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা এবং মোমিনদের নারীগণকে বলে দিন, তারা যেন তাদের চাঁদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। সূরায়ে আহযাফ, আয়াত নম্বর- ৫৯

يَا اَيُّهَا النَّبِيُّ اِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَاحْصُوا الْعِدَّةَ   থ الى اخر  الاية

অর্থ : হে নবী (উম্মতকে) বলেদিন, তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে তালাক দিও ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা কর। সূরাতুত তালাক, আয়াত নম্বর- ১

يَا اَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا اَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاةَ اَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

অর্থ : হে নবী আল্লাহ্ আপনার জন্যে যা হালাল করেছেন, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে খুশি করার জন্য তা নিজের জন্যে হারাম করছেন কেন? আল্লাহ্ ক্ষমাশীল দয়াময়। সূরাতুত তাহরীম, আয়াত নম্বর-১

يَا اَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ –

অর্থ : হে নবী আপনার এবং আপনার অনুসারী মোমিনদের জন্য (সর্বক্ষেত্রে) আল্লাহ্ই যথেষ্ঠ। সূরাতুল আনফাল, আয়াত নম্বর-৬৪

يَا اَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِيْنَ عَلَى الْقِتَالِ اِنْ يَّكُنْ مِّنْكُمْ عِشْرُوْنَ صَابِرُوْنَ يَغْلِبُوْا مِائَتَيْنِ وَاِنْ يَّكُنْ مِّنْكُمْ مِائَةٌ يَّغْلِبُوْا  اَلْفًا  مِّنَ  الَّذِيْنَ كَفَرُوْا  بِاَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَفْقَهُوْنَ٦٥َ

অর্থ : হে নবী জিহাদের জন্য মোমিনদেরকে উদ্বুদ্ধ করুন তোমাদের মধ্যে যদি ২০ জন ধৈর্য্যশীল মুজাহিদ থাকে তাহলে তারা ২০০ জন কাফেরের উপর জয় যুক্ত হবে, আর তোমাদের মধ্যে ১০০ জন থাকলে তারা ১০০০ হাজার কাফেরের উপর জয়যুক্ত হবে। কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা জ্ঞানহীন। সূরায়ে আনফাল, আয়াত নম্বর- ৬৫

يَا اَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِمَنْ فِي اَيْدِيْكُمْ مِنَ الْاََسْرَى اِنْ يَّعْلَمِ اللَّهُ فِيْ قُلُوبِكُمْ خَيْرًا يُّؤْتِكُمْ خَيْرًا مِّمَّا اُخِذَ مِنْكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

অর্থ : হে নবী যারা আপনার হাতে বন্ধী রয়েছে তাদেরকে বলেদিন তোমাদের অন্তরে কল্যাণকর কিছু রয়েছে বলে আল্লাহ্ পাক যদি অবগত হন তাহলে তোমাদেরকে (মুক্তিপণ রূপে) যা কিছু নেওয়া হয়েছে তা অপেক্ষা উত্তম কিছু তোমাদেরকে (আল্লাহ্ পাক) দান করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ্ পাক ক্ষমাশীল দয়ালু। সূরায়ে আনফাল, আয়াত নম্বর- ৭০

يَا  اَيُّهَا   النَّبِيُّ   جَاهِد ِ  الْكُفَّار  َ وَالْمُنَا   فِقِيْنَ   وَاغْلُظْ  عَلَيْهِم ْ  وَمَاْْ وَاهُمْ  جَهَنَّمُ  وَبِئْسَ  الْمَصِيْرُ

অর্থ : হে নবী কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করুন, তাদের স্থান হচ্ছে জাহান্নাম এবং ওটা নিকৃষ্ট স্থান। সুরাতত তওবা, আয়াত নম্বর- ৭৩ ইত্যাদি।

উল্লেখিত আয়াতগুলোর মধ্যে আইয়্যুহা সম্মান সূচক শব্দটি উল্লেখ করে আল্লাহ্ পাক বিশ্বনবী (সা.) কে সম্বোধন করেছেন।

ইয়া নবী সালাম আলাইকার মধ্যে সম্মান সূচক শব্দ না থাকার কারণে পদ্ধতিটি পরিত্যাজ্য। কারণ ইয়া নবী সালাম আলাইকা  এই পদ্ধতিতে বিশ্ব নবী (সা.) কে সালাম পেশ করার নিয়ম পদ্ধতি কুরআন, হাদিস, এজমা, কিয়াস ও ইসলামী সোনালী যুগের কারও থেকে প্রমাণ নেই। এই পদ্ধতিটি নব-আবিস্কৃত বিদআত ও না-জায়েজ।

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, বিশ্বনবী (সা.) এর প্রতি আল্লাহ্ পাক সংবর্ধনার মাধ্যমে বিশ্বনবীকে সংবর্ধনার পদ্ধতি বিশ্ববাসীকে শিখিয়েছেন। সুতরাং ইয়া নবী সালাম আলাইকা বাক্যটির মধ্যে সম্মান সূচক শব্দ না থাকার কারণে বিশ্বনবী অসম্মানিত করা হচ্ছে।

আরশে ইলাহিতে আল্লাহ্ পাকের পক্ষ থেকে যে বাক্য দ্বারা বিশ্বনবী (সা.) সম্বোধন করা হয়

মিরাজের রজনীতে বিশ্বনবী (সা.) আল্লাহ্ পাকের আরশে আজীমে উপস্থিত হয়ে দরবারে ইলাহিতে যে বাক্যগুলো বলেছিলেন তা হলো

التحيات لله والصلوات والطيبات السلام عليك ايها النبي ورحمة الله وبركاته

السلام علينا وعلى عباد الله الصلحين-

উল্লেখিত বাক্যগুলো আল্লাহ্ ও তার রাসূলের মধ্যে বিনিময় হয়েছিল, যা আল্লাহ্ পাক তার মুমিন বান্দাদের উপর ৩/৪ রাকাত বিশিষ্ট নামাযের মাঝে ও শেষে এবং ২ রাকাত বিশিষ্ট নামাযের শেষে পাঠ করা ওয়াজিব করে দিয়েছেন। উক্ত আত্তাহিয়্যাতুর মধ্যে আল্লাহ্ পাক বিশ্বনবী (সা.) কে আস্সলামু আলাইকা আইয়্যুহান-নাবীয়্যু বলে সালাম পেশ করেছেন। যা বিশ্ব নবীর শানে আল্লাহ্ পাক সম্মান প্রদর্শনের  এক নীতিমালা রচনা করেছেন।

আস্সলামু কবলাল কালাম(السلام قبل الكلام)  অর্থাৎ কথা বলার পূর্বে সালাম প্রদান

বিশ্বনবী (সা.) হাদিসে পাকের মধ্যে এরশাদ করেন, কথা ও সংবর্ধনার পূর্বে সালাম পেশ কর। যা আল্লাহ্ পাক বিশ্বনবীর শানে আত্তাহিয়্যাতুর মধ্যে পেশ করেছেন। ইয়া নবী সালাম আলাকার মধ্যে সালাম শব্দটি প্রথমে ব্যবহার করা উচিত ছিল। কিন্তু তাহা হয়নি। এ কারণে সালাম বিনিময়ের সুন্নত তরিকা না থাকায় উক্ত পদ্ধতি শরীয়ত সম্মত নয়। কেননা আস্সলামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু(السلام عليك ايها النبى ورحمة الله وبركاته)  বলে আল্লাহ্ পাক নবীকে সালাম পেশ করেছেন। যার মধ্যে সালাম শব্দটি প্রথমে এবং নবীজি (সা.) নামকে পরে ব্যবহার করা হয়েছে, যা সম্পন্ন সঠিক। নামাযের ভিতরে ও বাইরে ১৩টি ফরজের মধ্যে ভিতরের ৬টি ফরজের শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়া ওয়াজিব।

যার মধ্যে বিশ্বনবীর শানে সালাম পেশ করার ভাষা ও আদব রয়েছে। সুতরাং বুঝা গেল, নামাযের মধ্যে বসে বসে বিশ্বনবী (সা.) প্রতি সালাম পেশ করা আল্লাহ্ পাকের হুকুম। অতএব, বসা অবস্থায় আদবের ভাষায় ও পদ্ধতিতে বিশ্ব নবী (সা.) প্রতি সালাম পেশ করাই হলো তার প্রতি আদব ও ভালবাসা। মোট কথা প্রচলিত মিলাদে কিয়ামের মাধ্যমে ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসূল সালাম আলাইকা ইত্যাদি ভাষা দ্বারা বিশ্বনবীকে সালাম পেশ করলে এটা কোন আদব নয়। বরং উহার মধ্যে ৪টি খারাপি রয়েছে।

১) কুরআন শরীফের মধ্যে বিশ্বনবী (সা.) কে ইয়া হরফে নেদার মাধ্যমে যখনি সম্বোধন করা হয়েছে তখনি আইয়্যুহা সম্মান জনক শব্দটি এবং আলিফ-লাম দ্বারা নবী শব্দকে মারেফার মাধ্যমে বিশ্বনবীর শানে ব্যবহার করা হয়েছে। যা ইয়া নবী সালাম আলাইকার মধ্যে নাই।

২) সালাম শব্দটিরও একই অবস্থা। যা আমরা পরস্পর ব্যবহার করি আস্সলামু আলাকুম অথবা সালামুন আলাইকুম দ্বারা। কিন্তু ইয়া নবী সালাম আলাইকার মধ্যে আলিফ-লাম এবং তানভীন ছাড়া সালামটি নাকেরা করে ব্যবহার করা হয়েছে যা সঠিক নয়।

৩) বিশ্বনবী (সা.) সংবর্ধনার পূর্বে সালাম দেয়া খোদায়ী বিধান। কিন্তু ইয়া নবী সালাম আলাইকার মধ্যে সংবর্ধনা আগে ও সালাম পরে থাকার কারণে খোদায়ী বিধানের খেলাফ হয়ে থাকে, বিধায় এ পদ্ধতি কোন ভাবেই সঠিক হতে পারে না।

৪) বিশ্বনবী (সা.) এর প্রতি দরুদ ও সালাম বসে পাঠ করাই আদব। তা না হলে নামাযের মধ্যে দরুদ ও সালাম দাঁড়িয়ে পাঠ করার হুকুম হতো। কিন্তু তা না হয়ে দরুদ ও সালাম নামাযের মধ্যে বসে পাঠ করার হুকুম হয়েছে।

আল্লাহ পাক তার পবিত্র কালামে নবীগণকে সালাম পেশ করেছেন তার কয়েকটি প্রমান আয়াত দ্বারা পেশ করা হলো।

سَلَامٌ عَلَى نُوحٍ فِي الْعَالَمِيْنَ (٦٩)

অর্থ : সমগ্র বিশ্বের মধ্যে নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।

سَلَامٌ عَلَى اِِبْرَاهِيْمَ(١٠٩

অর্থ : ইব্রাহিমের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

سَلَامٌ عَلَى مُوسَى وَهَارُوْن َ(١٢٠

অর্থ : মুসা এবং হারুনের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

سَلَامٌ عَلَى اِِلْ يَاسِيْنَ (١٣٠)

অর্থ : ইলিয়াসের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

উল্লেখিত আয়াতগুলির মধ্যে আল্লাাহ পাক সালাম শব্দটি প্রথমে ব্যবহার করেছেন, অতপর নবীগণের নাম উল্লেখ করেছেন। কিন্তু প্রচলিত মিলাদের কিয়ামের মধ্যে সালাম শব্দটি প্রথমে ব্যবহার না করে ইয়া নবী, ইয়া রসুল, ইয়া হাবিব বলে সম্বোধন করার পর সালাম শব্দটি ব্যবহার করা হয়, যাহা পবিত্র কুরআনের খেলাফ। অতএব পবিত্র কুরআনের খেলাফ আমল করে নেকীর আশা করা কুফরীর নামান্তর ছাড়া আর কিছুই নয়।

শিরক ফিররিসালত অর্থাৎ নবুয়াতের দায়িত্ব পালনে অংশীদার হওয়ার একটি মাত্র বিষয়  যা বিদআত বলে সাব্যস্ত তা সংক্ষিপ্ত আকারে সমাপ্ত করা হলো। এখন বর্তমান সমাজে আরো কিছু বিদআত বা কু-প্রথা হিসাবে চালু আছে যা থেকে সকল মুসলমানকে বিরত থাকা একান্ত প্রয়োজন। নিম্নে তার কিছু বিবরণ পেশ করা হলো-

প্রচলিত মিলাদ ও কিয়াম

translate

শেয়ার করুন