উমুমী গাশ্ত কাকে বলে? দাওয়াত ও তাবলীগ কি?

দাওয়াত অর্থ আহবান করা তাবলীগ অর্থ প্রচার। দাওয়াত ও তাবলীগ অর্থ আহ্বান করা ও প্রচার করা। তাবলীগের কাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো উমুমী গাশ্ত এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা উল্লেখ করা হলো।

উমুমী গাশ্ত কাকে বলে:

পরামর্শ করে উমূমী গাশ্তের দিন ও সময় নির্দিষ্ট করা। যে সময় মহল্লায় লোক জন বেশী পাওয়া যায় এমন সময় কোন এক ওয়াক্ত ফরজ নামায সামনে রাখা, যাতে গাশ্তের পর লোকেরা পরবর্তী নামাযের জন্য আসে এবং নামাযের পর ঈমান ও আমলের মেহনত সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা যায়। শুধু আসরের পর হওয়া জরুরী নয়। গাশ্তের আগে পরামর্শ করা যে, কে এ‘লান দিবে, কে গাশ্তের আদব বলবে, কে ঈমান ও এক্বীনের কথা বলবে, কে জিকির করবে, কে এস্তেকবালে থাকবে, কে নামাযের পর কথা বলবে ইত্যাদি।

গাশ্তের এ‘লান

যে নামাযে ইমাম সাহেব সালামের পর-পর দোয়া করে সেই  নামাযের দোয়ার পর এ‘লান হবে । আর যে নামাযের পর ইমাম সাহেব সালামের সাথে সাথে দোয়া করে না সেই নামাযের সালামের পর পর এ‘লান হবে।

এ‘লান

যিনি এ‘লান দিবেন তিনি আগের থেকে নামাযের প্রস্তুতি নিয়ে সামনের  কাতারে মাঝের দিকে থাকবে, অতপর এ‘লানের সময় দাঁড়িয়ে মুসুল্লীদের দিকে মুখ করে বলবে,  “ইন্শায়াল্লাহ দোয়ার পর বা বাকী নামাযের পর মহল্লায় দাওয়াতের আমল হবে, মসজিদে ঈমান ও এক্বীনের কথা হবে, আমরা সবাই বসবো বহুত ফায়দা হবে”

গাশ্তের আদব

এখানে কয়েকটি বিষয় আলোচনা করতে হবে,  যেমনঃ- দ্বীনের আহমিয়াত বা গুরুত্ব, দাওয়াতের জরুরত বা প্রয়োজনীয়তা

দাওয়াতের ফযিলত ও দাওয়াতের তরতীব। 

উক্ত চারটি বিষয় সংক্ষেপে এভাবে বলা যায়,

আহমিয়াত, জরুরত, ফযীলত ও তরতীব।

   نحمده و نصلى على رسوله الكريم اما بعد فاعود بالله من الشيطان الرجيم بسم الله الرحمن

   الرحيم- و من احسن قولا ممن دعا الى الله و عمل صالحا و قال اننى من المسلمين و قال تعالى

   قل هده سبيلى ادعو الى الله على بصيرة انا و من اتبعنى –

আল্লাহ তা‘য়ালা সমস্ত জিন ও ইনসানের দুনিয়া ও আখেরাতের সুখ-শান্তি ও সফলতা রেখেছেন একমাত্র দ্বীন মানার মধ্যে। দ্বীন আল্লাহ তা‘য়ালার নিকট অতি প্রিয়, আর দ্বীন হলো, আল্লাহ তা‘য়ালার হুকুম এবং নবী (স.) এর তরীকা, এই দ্বীন প্রত্যেকটি মানুষের জন্য এমন জরুরী যেমন মাছের জন্য পানি এবং শরীরের জন্য মাথা। মাছ যেমন পানি ছাড়া বাচতে পারেনা, শান্তি পেতে পারে না, তেমনি কোন মানুষ দ্বীন ছাড়া শান্তি পেতে পারেনা। 

আর এই দ্বীন বাকি থাকবে দাওয়াতের দ্বারা,  সুতরাং দাওয়াত থাকবে তো দ্বীন থাকবে আর দ্বীন থাকবে তো দুনিয়া থাকবে। আর যখন দাওয়াত থাকবে না তো দ্বীন থাকবে না আর দ্বীন না থাকলে দুনিয়াও থাকবে না। 

এই দ্বীন প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে কিভাবে এসে যায়, এজন্য যুগে-যুগে নবী-রসূলগণ এসে মানুষের ময়দানে মেহনত করেছেন। আর এই মেহনত করতে গিয়ে সকল নবী-রসূল কম-বেশী কষ্ট-মুজাহাদা করেছেন, তাদেরকে (নাউযুবিল্লাহ) মিথ্যাবাদী, যাদুকর, বুকা ইত্যাদি বলা হয়েছে। 

যারা নবী-রসূলের কথা মেনেছে ,আল্লাহ তা‘য়ালা তাদেরকে দুনিয়াতেও কামিয়াব করেছেন, এবং আখেরাতেও কামিয়াব করবেন। আর যারা তাদের কথা মানেনি, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে দুনিয়াতেও নাকাম ও ধ্বংস  করেছেন এবং আখেরাতেও তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম। নবী-রসূলগণ এসে যখন মানুষের ময়দানে দাওয়াত দেওয়া শুরু করতেন তখন মানুষের মধ্যে আস্তে-আস্তে দ্বীন আসা শুরু হতো, পুনরায় যখন এক নবীর ইন্তেকালের পর অন্য নবী আসা পর্যন্ত দাওয়াত বন্ধ থাকত, তখন দাওয়াত বন্ধ থাকার কারণে মানুষের মধ্য থেকে দ্বীন বিদায় নেওয়া শুরু করতো।

যেমনঃ- হযরত ঈসা (আ.) কে আল্লাহ তায়ালা উঠিয়ে নেওয়ার পর আমাদের নবী (স.) তাশরীফ আনার আগ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ বছর এই দাওয়াতের কাজ বন্ধ ছিলো, ফলে ঐ যুগ আয়্যামে জাহিলিয়াতে পরিণত হয়েছিলো। তারা এত খারাপ হয়েছিলো যে, তাদের ঘরে কন্যা সন্তন হলে তারা তাকে জীবিত কবর বা দাফন করে দিতো।

যেমনঃ- আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন,

     و ادا بشر احدهم بالانثى ظل وجهه مسودا و هو كظيم-

অর্থঃ- আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সু-সংবাদ দেওয়া হতো তখন তার চেহারা কালো হয়ে যেতো এবং সে রাগান্মিত হয়ে যেতো। এবং পবিত্র কাবা ঘরে ৩৬০টি মূর্তি প্রবেশ করিয়ে ছিলো, এবং পবিত্র কাবা ঘর বেবস্ত্রবস্থায় তওয়াফ করতো। একজনের ঘাটের পানি যদি অন্য জনের উট পান করতো বা একজনের গাছের পাখির বাসার ডিম যদি অন্য কেউ কোন ভাবে ভেঙে ফেলতো তবে এনিয়ে যুগ-যুগ ধরে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেত। যদি বাবা প্রতিশোধ নিতে না পারতো তাহলে মৃত্যুর পূর্বে ছেলেদেরকে অসিয়ত করে যেত যে আমি তো এর প্রতিশোধ নিতে পারলাম না তোমরা এর প্রতিশোধ নিও। এবং যুদ্ধ চালিয়ে যেও।

মারা-মারী, কাটা-কাটি তাদের স্বভাবে পরিণিত হয়েছিলো, এগুলো না করলে যেন তাদের ভাতই হজম হতো না। অতপর যখন আমাদের নবী (স.) এসে তাদের মধ্যে দাওয়াতের মেহনত শুরু করলেন, তখন ঐ মানুষই সোনার মানুষে পরিণিত হয়ে গেলো। এবং এতভালো হলেন যে, তাদের মত ভালো মানুষ আর দুনিয়াতে আসবে না । 

যেমনঃ- আল্লাহ তা‘য়ালা এরশাদ ফরমান,

    رضى الله عنهم و رضوا عنه-

অর্থঃ- আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি এবং তারাও আল্লাহর প্রতি রাযী-খুশি হয়েছেন। সূরা- বায়্যিনা-৮, মুজাদালা-২২

আমাদের নবী (স.) ও এই দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে এসেছেন, এবং এই দ্বীনের জন্য অনেক কষ্ট মুজাহাদা করেছেন ।

তিনি এরশাদ ফরমান,

     لقد اوديت فى الله و ما او دى احد مثلى و لقد اخفت فى الله و ما اخيف احد مثلى-

অর্থঃ-আল্লাহর দ্বীনের জন্য আমাকে যত কষ্ট দেওয়া হয়েছে এমন কষ্ট আর কাহাকেও দেওয়া হয়নি, এবং আমাকে যত ভয় দেখানো হয়েছে  এমন ভয়ও কাহাকে দেখানো হয়নি। 

আর যেহেতু আমাদের নবীর পর কোন নবী আসবেন না, যেমন এরশাদে বারী তা‘য়ালা,

   ما كان محمد ابا احد من رجالكم و لكن رسول الله و خاتم النبين-

অর্থঃ- মুহাম্মাদ (স.) তোমাদের কাহারো পিতা নন বরং আল্লাহর রসূল এবং শেষ নবী। (সূরা আহযাব-৪০)

এবং নবী (স.) এরশাদ ফরমান ঃ- 

   انا خاتم النبين لا نبى بعدى-

অর্থঃ- আমিই শেষ নবী আমার পর আর কোন নবী আসবেন না। এজন্য এ দাওয়াতের জিম্মাদারী এই উম্মাতে মুহাম্মাদীকে দেওয়া হয়েছে।

যেমন আল্লাহ তা‘য়ালা ফরমান,

   قل هده سبيلى ادعو الى الله على بصيرة انا و من اتبعنى-

অর্থঃ- আপনি বলে দিন, এটাই আমার রাস্তা যে, আমি পূর্ণ বিশ্বাসের সহিত আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই, এবং যারা আমার অনুসারী তারাও (আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়) সূরা ইউসুফ-১০৮

অন্য আয়াতে এসেছে,

   و من احسن قولا ممن دعا الى الله و عمل صالحا و قال اننى من المسلمين-

অর্থঃ-ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে উত্তম কথা আর কাহার হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করে এবং সৎ কাজ করে এবং বলে যে আমি মুসলমানদের মধ্য হতে একজন। সূরা হা-মীম-৩৩ 

এবং অসংখ্য হাদীসেও এই জিম্মাদারী সম্পর্কে এরশাদ হয়েছে।

যেমন

১.بلغوا عنى و لو اية-   

অর্থঃ- হুযুর (স.) এরশাদ ফরমান, তোমরা আমার পক্ষ থেকে পৌছিয়ে দাও, যদিও একটি আয়াত হয়।

২. فليبلغ الشاهد الغائب-    

অর্থঃ- হুযুর (স.) এরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিতদের নিকট পৌছিয়ে দেয়। 

৩.ما من رجل يكون فى قوم يعمل فيهم بالمعاصى يقدرون ان يغيروا عليه و لا يغيرون الا اصاب بهم الله بعقاب قبل ان يموتوا- او كما قال صلى الله عليه و سلم-                                           

অর্থঃ- হুযুর (স.) এরশাদ করেন, যদি কোন গোত্রে কোন ব্যক্তি কোন গুণাহ করে আর ঐ গোত্রের লোকদের ঐ ব্যক্তিকে গুণাহ থেকে বাধা দেওয়ার শক্তি থাকা সত্যেও তাকে উক্ত গুণাহ থেকে বাধা না দেয় তাহলে মৃত্যুর পূর্বেই আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর আযাব পাঠিয়ে দিবেন। এবং এই জিম্মাদারীর জন্য আল্লাহ তা‘য়ালা এই উম্মতকে অনেক ফযিলতও দিয়েছেন। যেমন, আল্লাহ তা‘য়ালা কুরআনে কারীমে এই উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলেছেন।

আল্লাহ তা‘য়ালার এরশাদঃ-

   كنتم خير امة اخرجت للناس تأمرون بالمعروف و تنهون عن المنكر وتؤمنون بالله-

অর্থঃ- তোমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত মানুষের কল্যাণের জন্য তোমাদের বাহির করা হয়েছে,  তোমরা সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে। এবং আল্লাহ তা‘য়ালার উপর ঈমান আনিবে। ( সূরা আলে ইমরান-১১০)

অন্য আয়াতে আছে,

   و من احسن قولا ممن دعا الى الله و عمل صالحا وقال اننى من المسلمين- 

অর্থঃ- আর ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে উত্তম কথা আর কাহার হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে এবং নেক আমল করে এবং বলে যে আমি মুসলমানদের মধ্যে একজন। সূরা হা-মীম, ৩৩

এক হাদীসে আছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (স.) কে আমি একথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাস্তায় কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকা ক্বদরের রাত্রে হাজারে আসওয়াদের সামনে এবাদত করার চেয়েও উত্তম কাজ। (ইবনে হাব্বান) 

অন্য হাদিসে এসেছে,

হযরত সোহায়েল (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (স.) কে আমি একথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাস্তায় তোমাদের কাহারো কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকা তার পরিবার- পরিজনের মধ্যে অবস্থান করে সারা জীবন নেক আমল করার চেয়েও উত্তম। (মোস্তাদরাকে হাকিম)

অন্য হাদীসে আছে,

হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (স.) এরশাদ ফরমান আল্লাহর রাস্তায় এক সকাল অথবা এক বিকাল এই দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম। (নাসাঈ)

এক হাদীসে আছে,

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (স.) এরশাদ ফরমান আল্লাহর রাস্তার ধুলা-বালি এবং দোযখের ধোয়া কোন বান্দার পেটে কখনো একত্র হবে না (নাসাঈ)

তরতীব

লাভ বলার পর বলবে, এত লাভের কাজ করতে আমরা সবাই রাযী আছি না? অতপর বলবে প্রত্যেক কাজের জন্য একটি নিয়ম ও তরতীব আছে, তো এ দাওয়াতের কাজেরও একটি তরতীব আছে। আর তা হলো, একটি জামাতের দুটি অংশ হবে, এক অংশ মসজিদের ভেতরে আমল করবে, অপর অংশ মসজিদের বাহিরে। মসজিদের ভেতরে যে অংশ থাকবে, তার মধ্যে একজন ঈমান ও এক্বীনের কথা বলবে।

যেমনঃ- আল্লাহ তা‘য়ালার একত্ববাদের, তাঁর কুদরতের, তাঁর সিফাতের কথা বলবে। এবং নবী-রসূলদের ঘটনাবলী ও আখেরাতের কথা বলবে। একজন জিকিরে থাকবে। অর্থ্যাৎ জিকির, কুরআন তেলওয়াত ও দোয়া, কান্না-কাটির মধ্যে থাকবে।

একজন এস্তেকবালে থাকবে। অর্থ্যাৎ জামাত গাশতে যাওয়ার পর মসজিদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকবে যদি কোন লোক মসজিদে আসে তাহলে তাকে অজু করিয়ে নামায পড়িয়ে ঈমান ও এক্বীনের হালকায় বসিয়ে দিবে। এবং বাকী সময় জিকিরে-ফিকিরে থাকবে। আর কিছু লোক ঈমান ও এক্বীনের কথা শুনবে। আর মসজিদের বাহিরে যে অংশ যাবে তার মধ্যে একজন রাহবার, একজন মুতাকাল্লিম, কয়েক জন মামূর ও একজন জিম্মাদার হবে। রাহবার এলাকার হলে ভালো হয় । কেননা আমরা অন্য যায়গার মানুষ  এই এলাকার রাস্তা-ঘাট ও লোকজনের অবস্থা সম্পর্কে জানি না। এবং রাহবারের অনেক লাভও রয়েছে।

যেমন-

  এক হাদীসে এসেছে, الدال على الخير كفاعله- 

অর্থঃ- কোন নেক কাজের শুধু রাস্তা দেখিয়ে দেওয়া স্বয়ং ঐ কাজকরনেওয়ালার  মতই নেকী।

তো এত লাভের কাজ করতে এলাকার কে রাযী আছি?

কেউ রাযী হলে এবার তার জিম্মাদারী বুঝিয়ে দেওয়া যে, রাহবার ভায়ের কাজ হলো, জামাতকে রাস্তা দেখিয়ে কোন মুসলমান ভায়ের কাছে নিয়ে গিয়ে তার সাথে সালাম মুছাফাহা করে একথা বলবে যে, আল্লাহর ঘর থেকে আল্লাহর মেহমানরা আল্লাহ এবং আল্লাহর রসূলের কথা নিয়ে এসেছে, কি বলে একটু শুনি। এবং তার কিছু গুণাবলীও বলবে। যেমনঃ- ইনি আমাদের এলাকার একজন হাজী সাহেব, বড় ব্যবসায়িক, সমাজ সেবক ইত্যাদি। এবং তাকে মুতাকাল্লিম ভায়ের  হাতে তুলে দিবে।   

এবং কোন বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করবে না। বরং এক এক করে তিনবার পর্যন্ত সালাম দিতে থাকবে যদি স্বাক্ষাত হয় তাহলে মুতাকাল্লিম ভাই তাকে নরম ভাষায়, মিষ্টি সুরে, মহব্বতের সাথে, নিজেকে ছোট ও তাকে বড় মনে করে তিন কথা যেমনঃ- তওহীদ, রিসালাত ও আখেরাত এর উপর সংক্ষিপ্ত ভাবে দাওয়াত দিয়ে নগদ মসজিদে আনার জন্য চেষ্টা করবে। 

যদি রাযী হয় তাহলে একজন মামূরসহ তাকে মসজিদে পাঠিয়ে দিবে। আর যদি কোন কারণবসতঃ নগদ না আসে তাহলে তাকে দায়ী বানিয়ে হার উপর রেখে আসবে যে, ঠিক আছে আপনি আরো লোক-জন নিয়ে অমুক সময় মসজিদে আসবেন। 

আর যদি বাড়ীর লোকের সাথে স্বাক্ষাত না হয়, তাহলে একথা বলে আসা যে, আমরা মসজিদ থেকে আসছিলাম অমুকে আসলে মসজিদে পাঠিয়ে দিবেন।

উমূমী গাশ্তের দাওয়াতঃ-

যাকে দাওয়াত দিবে তার হালাত বা অবস্থানুযায়ী বিভিন্ন ধরনের দাওয়াত হতে পারে।

যেমনঃ- সালাম মুসাফাহার পর সালাম-মুছাফাহার লাভ বলবে, অতপর বলবে, আল্লাহ তা‘য়ালার শুকরিয়া যে, আল্লাহ তা‘য়ালা আমাদেরকে মুসলমান বানিয়েছেন, আমরা একটি অনেক দামী কালেমা পড়েছি।

                                  لا اله الا الله محمد رسول الله    

অর্থঃ- আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই হযরত মুহাম্মাদ (স.) আল্লাহর রসূল। 

(এই কালিমা নিজে একটু পড়ে তাকে পড়ার সুযোগ দিবে, যাতে সে কালেমাটি পাঠ করে।) 

এই কালেমা যখন আমরা পড়েছি তখন আল্লাহ তা‘য়ালার অন্যান্য হুকুম মানা আমাদের জন্য জরুরী হয়ে গিয়েছে। সুতরাং আমরা যদি আল্লাহর হুকুম মানি এবং নবী (স.) এর তরীকানুযায়ী চলি তাহলে আল্লাহ তা‘য়ালা আমাদেরকে দুনিয়াতেও সুখ-শান্তি ও কামিয়াবী দান করবেন এবং আখেরাতেও চির সুখ-শান্তি ও কামিয়াবী দান করবেন।

এই সুখ-শান্তি ও কামিয়াবী আমার, আপনার এবং সমস্ত উম্মতের মধ্যে কি ভাবে এসে যায় এজন্য এক যবরদস্ত মেহনত করার প্রয়োজন, মেহনত ছাড়া কোন কিছুই অর্জন হয় না, এই মেহনত সম্পর্কে মসজিদে বহুত জরুরী কথা হচ্ছে, আমরা তো আপনাকে নগদ নেওয়ার জন্য এসেছি, কি বলেন, যাওয়া যায় না? 

মোট কথা তাওহীদ, রিসালাত ও আখেরাতকে সামনে রেখে যে ভাবেই হোক দাওয়াত দেওয়া। 

মামূরদের কাজ হলো, তারা জিকির করতে থাকবে, কোন কথাবার্তা বলবে না, কোন দিক তাকাবে না বরং নীচের দিকে তাকিয়ে চলবে।   আর যেহেতু তাদের কাজ  জিকির করা এজন্য তারা কাউকে সালাম দিবেও না এবং সালামের উত্তরও দিবে না বরং একেবারে চুপ-চাপ থাকবে। যখন মুতাকাল্লিম ভাই দাওয়াত দেয় তখন জিকির বন্ধ করে দাওয়াত শুনবে এবং মনে করবে যে, এ দাওয়াত আমাকেই দেওয়া হচ্ছে।                                                                   যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাকে সাথীগণ একেবারে ঘিরে দাঁড়াবে না বরং তাকে এক পাশে রেখে দাঁড়াবে। কেননা এতে সে ভয় পেতে পারে। 

এমন কথা না বলা যার দ্বারা তার মানহানী, অসম্মানী বা লজ্জার কারণ হয়। সে একজন মুসলমান হিসেবে তার মর্যাদার দিকে লক্ষ রেখে দাওয়াত দিবে। 

আর জিম্মাদারের কাজ হলো জামাতকে পরিচালনা করা জামাতের মধ্যে যদি কোন বে-উসূলী হয় তাহলে সংশোধন করে দেওয়া। এবং তিনি যদি চান তাহলে কোন বে-উসূলী হলে জামাত ফিরিয়েও আনতে পারেন, আবার সংশোধন করে সামনেও চালাতে পারেন। 

রাহবার, মুতাকাল্লিম এবং জিম্মাদার এই তিন জন কথা বলবে, কিন্তু মামূর কোন কথাই বলবে না।

পুরা জামাত নীচের দিকে তাকিয়ে নযরের হেফাজত করে চলবে। নাজায়েয জিনিস তো দূরের কথা, কোন দুনিয়াবী জায়েয জিনিসও দেখবে না। কেননা যেদিকে চোখ যায় সে দিকে মন ও ফিকির চলে যায়। কোন ভায়ের গেট বা দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে না বরং এক পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে। 

রাস্তার ডান দিক দিয়ে চলবে। এবং রাস্তায় চলার অন্যান্য আদবের প্রতিও লক্ষ রাখবে।

মহল্লা লম্বা হলে প্রথমে জামাত শেষ মাথায় গিেেয় দাওয়াত দিতে দিতে মসজিদের দিকে আসবে। আর যদি মহল্লা গোলাকার হয় তাহলে ডান দিক দিয়ে শুরু করে বাম দিক দিয়ে মসজিদের দিকে আসবে। বা অবস্থানুযায়ী দাওয়াত দিবে। 

এমন সময় দাওয়াত শেষ করা যে, মসজিদে এসে জরুরত থেকে ফারেগ হয়ে পরবর্তী নামায তাকবীরে উলার  সাথে আদায় করা যায়।    গাশ্তের আদব বলার পর যারা দাওয়াতে যাবে তারা মসজিদের বাহিরে গিয়ে মুতাকাল্লিম, জিম্মাদার এবং কোন দিকে দাওয়াতের আমল হবে তা নির্দিষ্ট করবে।

দাওয়াত শেষ হলে মসজিদের একটু দূরে এসে রাহবার ভাই  জিম্মাদার সাহেবকে বলবে, দাওয়াত তো আজকের মত এখানেই শেষ, তখন জিম্মাদার সাহেব বলবে ভাই! দাওয়াত তো ইন্শায়াল্লাহ কেয়ামত পর্যন্ত চলবে। যে ভাবে দাওয়াত দেওয়ার কথা ছিল আমরা সেভাবে দিতে পারি নেই, অনেক কমতি হয়েছে, এজন্য আমরা জিকির পরিবর্তন করে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তে পড়তে মসজিদের দিকে যায়।

অতপর সবাই এসে প্রথমে ঈমান ও এক্বীনের কথায় বসবে। অতপর যদি কোন জরুরত থাকে সেখান থেকে যাবে। ঈমান ও এক্বীনের মজলিসে এসে কেউ সালাম দিবে না, বরং চুপ-চাপ বসে যাবে। 

আর যেহেতু উমূমী গাশ্তের জামাত বেশী দূরে যেতে পারেনা এজন্য  মহল্লা বড় হলে দুই-তিন জনের একটি খুছূছী  জামাত বানিয়ে ঐ সময় পাঠানো, যাতে উভয় জামাতের দাওয়াতের দ্বারা মেহনত পুরা হয়।

সফরের নিয়ম ও আদব

যৌন তত্ত্ব

গোপন মাসাআলা

আমাদের ইউটিউব ইউটিব চ্যানেল

Spread the love

Leave a Comment