এপ্রিল ফুলের ইতিহাস ও মুসিলমদের করুণ পরিণতি

এপ্রিল ফুলের ইতিহাস ও মুসিলমদের করুণ পরিণতি

মুসলমানরা ইউরোপের স্পেনকে জয় করেছিল এবং আটশত বছর তারা সেখানে শাসন করেছিল । ১৪৯২ ইংরেজীতে আবার খৃষ্টানরা তা দখল করে ফেলেছিল। ৮০০ বছর স্পেনকে শাসন করে মুসিলম খলীফাগণ । কর্ডোভা, গ্রানাডাসহ বিভিন্ন নগরীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বড় বড় মসজিদ, পাঠশালা। সেখানে বসে আলেমরা কোরআন-হাদীসের দরস দিতেন, প্রতিটি মসজিদের মধ্যে তফসীরের বড় বড় কিতাব রচিত হয়েছে । কর্ডোভার মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। খৃষ্টানরা পড়ালেখা করার জন্য কর্ডোভার মসজিদ গুলোতে আসত, আটশ’ বছর মুসলমানরা যে দেশকে শাসন করে । এক সময় খৃষ্টানরা সে বিশাল অঞ্চলকে দখল করে ফেলে। মুসলমানদের সর্বশেষ রাজা ছিল হাছান। 

টাকা কামানোর সহজ উপায়

খৃষ্টানরা তাকে গদীচ্যুত করতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হল। তখন তারা ভিন্ন এক পথ অবলম্বন করল। হাছানের ছেলে ছিল আবু আবদুল্লাহ। মুসলমানদের সর্বশেষ রাজা আবু আবদুল্লাহকে বলল- তোমার বাবাকে যদি সিংহাসন থেকে নামাতে পার তাহলে তোমাকে আমরা ক্ষমতাসীন করব। লোভ দেখিয়ে ছেলেকে পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করিয়েছে। তখন আবু আবদুল্লাহ তার পিতা হাছানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল । হাছান দেখলেন, কোন উপায় নেই । তখন তিনি পালিয়ে গেলেন । পরিশেষে খৃষ্টানরা আবু আবদুল্লাহকে ক্ষমতায় বসিয়ে আল-হামরা প্রাসাদের চাবি আবু আব্দুল্লাহ থেকে নিয়ে নেয়। বিশাল রাজকীয় প্রাসাদ আল-হামরা, যেখানে বসে মুসলমানরা শাসন করেছিল । 

বর্তমানে হোয়াইট হাউজ যেমন আমেরিকার শাসন কেন্দ্র, তদ্রুপ স্পেনের মুসলমানদের জন্য ছিল আলহামরা। খৃষ্টানরা সে রাজ প্রাসাদ দখল করে ফেলল, আবু আবদুল্লাহকে তারা প্রস্তাব দিল, হে আবু আবদুল্লাহ! তোমরা অল্প মুসলমান যারা অবশিষ্ট আছ, তোমরা যদি বাঁচতে চাও, জাহাজে উঠ, তোমাদেরকে মুসলমান দেশ মরক্কোতে আমরা পাঠিয়ে দেব, তোমাদের কোন কষ্ট হবেনা । যে আবু আব্দুল্লাহকে রাজ শাসনে বসানোর জন্য লোভ দেখিয়েছিল, সে আবু আব্দুল্লাহকে স্বার্থ হাসিলের পর ছেঁড়া জুতার মত খৃষ্টানরা ছুঁড়ে ফেলে দেয় । সকল মুসলমানকে জাহাজের মধ্যে তুলে ফেলল, আর বলল তোমরা সমুদ্র পার হয়ে যাও। ভূ-মধ্য সাগর পাড়ি দিয়ে মুসলমানরা যখন সমুদ্রের মাঝখানে পৌঁছল তখন জাহাজটিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় তারা এবং মুসলমানদেরকে শহীদ করে ফেলে । 

এই ঘটনা তারা ঘটিয়েছে এপ্রিলের প্রথম তারিখ । এজন্য স্পেনের মুসলমানদের বোকা বানানোর এ দুঃখজনক ট্রাজেডীকে স্মরণ করা হয় পয়লা এপ্রিল । কোন কোন বর্ণনায় আছে, মসজিদের ভেতরে মুসলমানদেরকে প্রবেশ করিয়েছিল। পরে মসজিদ জ্বালিয়ে তারা ভস্মীভূত করে দেয়। এভাবে স্পেনের সর্বশেষ মুসলমানদেরকে তারা নিশ্চিহ্ন করে দেয় । এই এপ্রিলের প্রথম তারিখ মুসলমানদের জন্য আনন্দের দিন নয়। স্পেনের এই ভূখন্ডে মুসলমানরা আটশত বছর শাসন করেছে। তাফসীরে কুরতুবীর মত ত্রিশ খন্ডের বিশাল তাফসীর গ্রন্থ স্পেনের মাটিতে রচিত হয়েছে । 

আজকের স্পেন

পাকিস্তানের একজন বিচারপতি, বিশিষ্ট আলেম ও চিন্তাবিদ আল্লামা তাকী উসমানী স্পেন সফর করেছিলেন। সফর শেষে উর্দূ ভাষায় একটি ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন। বইটি পড়ে আমি চোখের পানিকে সংবরণ করতে পারিনি। বইয়ের নাম স্পেনে ক’দিন। স্পেনের আগে নাম ছিল উন্দুলুস। তিনি ভ্রমণ কাহিনীতে বলেন, আমি আমেরিকাতে যখন নামাজের সময় হয়েছে নামাজ আদায়ের জন্য দাঁড়িয়েছি, ইংল্যান্ডের বিমান বন্দরে নামাজের সময় নামাজের জন্য দাঁড়িয়েছি। বিমান বন্দরের কর্মকর্তারা আমার দিকে আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকেনি। 

তারা জানে আমি যা করছি তা মুসলমানদের প্রার্থনা বা নামাজ। কিন্তু যেই স্পেনের মাটিতে মুসলমানরা আটশত বছর শাসন করেছে, হাজার হাজার আলেম, মোহাদ্দেস, মোফাস্সির, মুসলিম বিজ্ঞানী ছিল সে স্পেনের মাটিতে নেমে যখন বিমান বন্দরে নামাজের সময় হল, তখন এক কোণায় আমি নামাজ পড়তে দাঁড়ালাম । এয়ার পোর্টের সকল কর্মকর্তা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়েছিল। তাদের প্রশ্ন, এই লোক কি করছে এটা!” অর্থাৎ এটা যে মুসলমানদের নামায একথাও তারা জানেনা। অথচ এই মাটিতে আযানের আওয়াজে পাঁচবার এই মাটি আন্দোলিত হত। আজ নামায কি জিনিষ তারা আর জানেনা । 

তিনি বলেন,

আমি যখন গাড়ি নিয়ে এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে যাচ্ছি আমি দেখতে পাচ্ছি, ভিতরে ভিতরে, চূড়ায় চূড়ায় ও পাহাড়ের পাদদেশে মসজিদের মিনারের মত সুন্দর সুন্দর মিনার। আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম এত মসজিদ এখানে? তারা বলল, না; এগুলো এক সময় মুসলমানদের মসজিদ ছিল । এখন প্রতিটি মিনার একেকটা গির্জা, যেখানে মুসলমানরা আটশত বছর নামায পড়েছে, সেই মসজিদ গুলোর মিনার হয়ে গেছে গির্জার স্তম্ভ। এটাই হচ্ছে এপ্রিল ফুলের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ।

কোন মুসলিমের পক্ষে এপ্রিল ফুল পালন সম্ভব নয় 

:

এপ্রিল মাস যখন আসে তখন মুসলমানদের এই কাহিনীগুলো মনে পড়ে। তাহলে প্রতীয়মান হল যে, চারটি কারণে এপ্রিলফুল পালিত হয় আর চারটি কারণই মুসলিম বোধ-বিশ্বাস ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে । কোন মানুষ যদি এই দিন এপ্রিল ফুল পালন করে, তবে অর্থ হল সে খৃষ্টান ইহুদীদের সাথে যোগ দিল। 

মুসলমানরা যে দিন নির্মমভাবে শহীদ হল সে দিন কি আমার আনন্দের হতে পারে? এদিন আমার ভাই শহীদ হল, মুসলমানদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল অথচ দিবসটি পালন করে আমি খুশি হব?! স্পেনের প্রতিটি মিনারাকে তারা গির্জা বানিয়ে ফেলল আর আমি বোকার মত আহমকী সংস্কৃতি উদযাপন করব? আমি প্রত্যেক যুবক ভাইকে বলব, তামাশা করে হলেও এই কাজ কখনো মুসলমানরা করতে পারেনা। কারণ, ঈমান-ইসলাম নিয়ে কোন ঠাট্টা করতে পারেনা । যার সাথে সিরিয়াস একটি বিষয় জড়িত, সে দিন কেউ ঠাট্টা করতে পারেনা । 

আমি আশা করব, মুসলমানদের পুরাতন ইতিহাসকে মুসলমানরা স্মরণ করবে। সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা অর্জন করতে হবে । আমরা শত শত বছর ধরে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এ দেশে আছি, যদি আমরা ঈমান-ইসলাম এর উপর সুদৃঢ় না থাকি, আমরা যদি ক্ষমতা নিয়ে টানাটানি করি, যেমন হাছান এবং আবু আবদিল্লাহ্ মসনদ নিয়ে টানাটানি করেছিল, আর সে ফাঁকে খৃষ্ঠানরা দখল করেছিল; আমাদের পরিণতিও হবে স্পেনের মত করুণ। আমাদের দেশে যাতে সে অবস্থা না হয়, স্পেনের ট্রাজেডি থেকে এই শিক্ষা আমাদেরকে গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফীক দান করুন । আমীন ।

Leave a Comment