কুরবানী কার উপর ওয়াজিব? কুরবানীর উপকারিতা কি?

কুরবানী কার উপর ওয়াজিব? কুরবানীর উপকারিতা কি? : প্রত্যেক স্বাধীন বিত্তশালী মুসলমান নর-নারীর উপর কুরবানীর দিনে কুরবানী করা ওয়াজিব। শহরে বা গ্রামে, বন জঙ্গলে বা মাঠে প্রান্তরে যেখানেই বসবাস করুক না কেন। শর্ত হলো নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া। কুরবানীর ওয়াজ কারী কারণ হলো কুরবানীর সময় হওয়া। এর রোকন চতুষ্পদ হালাল প্রাণী জবাই করা। কুরবানীর হুকুম বা উপকারিতা হলো দুনিয়াতে ওয়াজিব দায়িত্বে হতে মুক্তি লাভ করা এবং আখেরাতে সাওয়বের অধিকারী হওয়া। রসুলুল্লাহ (স.) এরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্যেও কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারের কাছেও না আসে।


কাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়
গোলাম, দাসী, কাফির নর-নারী মুসাফিরের উপর এবং মক্কায় অবস্থানকারী মুসাফির হাজির (যিনি হজ্জের সফররত) উপরে কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। অপর এক বর্ণনা মতে ইহরামধারী মুহরিম ব্যক্তির উপরও কুরবানী ওয়াজিব নয়। চাই সে মক্কার বাসিন্দা হোক না কেন।

কোরবানি কি শুধু নিজের পক্ষ থেকে ওয়াজিব?

কেবল নিজের পক্ষ হতে কুরবানী ওয়াজিব। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) সূত্রে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) হতে বর্ণিত আছে যে, নাবালেগ শিশুদের পক্ষ থেকে কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। (ফতুয়া এর উপরেই)

কোন পশু কতজনে কোরবানি করতে পারবে?
ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এই তিন প্রকার পশু একজন ব্যক্তি কুরবানী করতে পারবে। একের অধিক অংশীদার হতে পারবে না। যদি অংশীদার হয় তাহলে কুরবানী হবে না। আর গরু, মহিষ, উট এই তিন প্রকার প্রাণীতে সর্বোচ্চ ৭জন অংশীদারে কোরবানি করতে পারবে। যে কোন সংখ্যা হতে পারবে (জোর বা বেজোর হওয়া শর্ত নয়)


কোন পশুর বয়স কত হতে হবে?
ছাগল, ভেড়া, দুম্বা কমপক্ষে এক বছর বয়স হতে হবে। বিশেষ করে ছাগল-ভেড়া এক বছর হতে হবে। কিন্তু দুম্বা যদি ছয় মাস বয়স হয় এবং সেই দুম্বা এক বছর বয়সী দুম্বার সাথে মিশে যায় এবং এদের মাঝে পার্থক্য বোঝা না যায়, সে ক্ষেত্রে সেই ছয় মাস বয়সের দুম্বা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয আছে।


গরু মহিষ কমপক্ষে দুই বছর বয়স হতে হবে। দুই বছরের কম হলে কুরবানী সহিহ্ হবে না। আর উটের বয়স হতে হবে পাঁচ বছর। এর কম হলে কুরবানী সহিহ্ হবে না। (আল্লাহ সর্বাজ্ঞ)

কি ধরনের প্রাণী দ্বারা কুরবানী জায়েজ নেই?
সে সব পশু দ্বারা কুরবানী জায়েজ নয় যেগুলোর উভয় চোখ বা এক চোখ অন্ধ। এমন খোঁড়া যেটি কুরবানির স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম, চর্মরোগে আক্রান্ত, হিজরা, অতিরিক্ত দুর্বল বা যেসব প্রাণীর কান বা লেজের বেশিরভাগ কাটা, দৃষ্টিশক্তির বেশিরভাগ নষ্ট। এমন দন্তহীন প্রাণী যে ঘাস খেতে অক্ষম। যে পশুর স্তনের বোটা কাটা বা শুষ্ক, অথবা কাজে অধিক ক্ষমতাবান হওয়ার জন্য ঔষধ ব্যবহারের ফলে যার দুধ বন্ধ হয়ে গেছে এমন পশু, এবং যে পশু নাপাক ছাড়া অন্য কোন খাদ্য গ্রহণ করে না ইত্যাদি। এমন পশু দ্বারা কুরবানী করা যায়েজ নেই।

বি.দ্র. খাসি, শিং ভাঙ্গা, শিং বিহীন প্রাণী, উম্মাদ তবে ঘাস-কুটা ভক্ষণ করে, চর্মরোগাক্রান্ত মোটা তাজা পশু, কিছু দাঁত বিনষ্ট যা ঘাস খেতে সক্ষম, এবং যার জন্ম থেকেই কান নেই এসকল পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয আছে।

Leave a Comment