কেমন মেয়েকে বিবাহ করা উচিত হযরত ওমর (রা) থেকে শিক্ষা

কেমন মেয়েকে বিবাহ করা উচিত

কেমন মেয়েকে বিবাহ করা উচিত? যে বৈশিষ্ট্য দেখে বিবাহ করা উচিত, তা শিক্ষা দিলেন হযরত ওমর (রা.) রাতের বেলায় ওমর ফারুক (রা.) মানুষের অবস্থা জানার জন্য মদিনার অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতেন।  যদি জানতে পারতেন যে, কেউ বিপদগ্রস্থ তখন তাকে সাহায্য করতেন।  একদিন হযরত ওমর(রা.) রাতের আধারে ছদ্মবেশে ঘুরছিলেন মদিনার পথে পথে।

 হঠাৎ খলিফা হযরত ওমর (রা.) একটি ঘরের ভেতর থেকে দুজন মহিলার কথাবার্তা আওয়াজ শুনতে পেলেন।  এগিয়ে গেলেন ঘরের খুব কাছেই খেয়াল করে শুনতে লাগলেন মহিলাদের কথা।  তিনি কথার ধরন শুনে বুঝতে পারলেন হয়তো এরা মা মেয়ে হবে।  মা তার মেয়েকে বলছে, তুমি যে দুধ দোহন করে এনেছো তাতে কিছু পানি মিশিয়ে দাও, তাহলে দুধের পরিমাণ বেড়ে যাবে আর তা সকালে বিক্রি করে বেশি দাম পাবে।  

এর কথা শুনে মেয়েটি বলল, আমিরুল মুমিনীন হযরত ওমর এই আইন জারি করেছেন যে, কেউ যেন দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রি না করে।  তাই দুধে পানি মিশাতে পারবোনা।  মেয়ের কথা শুনে মা বলল, এই গভীর রাতে তো আর খলিফা ওমর (রা.) দেখবেন না যে, তুমি দুধে পানি মিশিয়েছো।  আর কেউ কি তা বুঝতে পারবে যে, তুমি দুধে পানি মিশিয়েছ।  

মায়ের কথার জবাবে সেই সোনালী যুগের এক যুবতী নারী কি বলে শুনুন.. যা আজ চৌদ্দশত বছর পরেও একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে চিরঅমর হয়ে আছে।  মেয়েটি বলল, মা যদিও আমিরুল মুমিনীন হযরত ওমর (রা.) দেখছেন না; কিন্তু তার আমির অর্থাৎ আল্লাহ তো নিশ্চয়ই দেখেছেন।  তাহলে এ কাজ আমি কিভাবে করতে পারি।

খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর (রা)

খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর (রা) বাইরে দাঁড়িয়ে শুনছিলেন মা-মেয়ের কথাবার্তা। একসময় রাত গড়িয়ে সকাল হলো।  হযরত ওমর (রা.) সে মেয়েটির খবর নিলেন, সেই মেয়ে যার হৃদয়ে আল্লাহর ভয় এত প্রবল।  খোঁজখবর নেওয়ার পর খলিফা হযরত ওমর (রা.) সুন্দর একটি সিদ্ধান্ত নিলেন, হযরত ওমর (রা.) স্বীয় পুত্র হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.) এর সাথে সেই খোদাভীরু মেয়েটির বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন।

 তারপর উভয়পক্ষের সম্মতিতে সেই মেয়েটির সাথে হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর এর বিয়ে হল।  অতঃপর এই ভাগ্যবতী মেয়েটির বংশধর থেকেই জন্ম নেয় হযরত ওমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ.)।  যিনি ছিলেন মুসলমানদের পঞ্চম খলিফা রাশিদা।  দেখুন এ মেয়েটির অন্তরএ ভয় ছিল যে, হযরত ওমর তো এই রাতে দেখবেননা।  কিন্তু হযরত ওমরের মালিক অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা তো নিশ্চয় দেখতে পাচ্ছেন।  

যখন অন্ধকার রাত নিরব চারপাশ, নির্জনতা নিস্তব্ধতার দেখার পর কেউ ছিলনা।  কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দেখছেন এ কথা স্মরণ করাই হল তাকওয়া বা খোদাভীতি। কেমন মেয়েকে বিবাহ করা উচিত?  এমন বৈশিষ্ট্য দেখে বিবাহ করা উচিত।  কারণ, স্ত্রী যদি দ্বীনদার না হয় তার সন্তান-সন্তুতী দ্বীনদার হওয়া কঠিন।  আল্লাহ আমাদের তাকওয়া অর্জন করার তৌফিক দান করুন।

ইসলামী জীবন

গুগলে খুজুন islamimedia

Spread the love

Leave a Comment