দরুদ শরীফের ফযিলত

দরুদ শরীফের ফযিলত

عن ابى هريرة (رضـ)  قال  قال رسول  الله (صـ) من صلى على واحدة صلى الله عليه عشرا- رواه مسلم مشكوة ٨٦

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন হযরত রাসূলে করিম (সা.) এরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে আল্লাহ্ পাক তার উপর ১০ টি রহমত প্রেরণ করবেন। মিশকাত-১ খন্ড- পৃষ্ঠা- ৮৬

عن انس (رضـ) قال قال رسول الله (صـ) من صلى على صلوة واحدة صلى الله عليه عشر صلوات  وحطت  عنه عشر خطيات  ورفعت له عشر درجات- رواه النسائى مشكوة-٨٦

হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলে আকরাম (সা.) এরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ শরীফ পাঠ করবে আল্লাহ্ পাক তার উপর দশটি রহমত প্রেরণ করেন এবং দশটি গোনাহ্ ক্ষমা করে দেন ও  ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেবেন। নাছায়ী, মেশকাত- ৮৬

عن عبد الله ابن مسعود (رضـ) قال قال رسول الله  صلى الله  عليه  وسلم اولى الناس بى يوم القيامة اكثرهم على صلوة – رواه الترمذى مشكوة صـ ٨٦

হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসুদ (রা.) বলেন হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) এরশাদ করেন মানুষের মধ্য হইতে আমার উপর দরুদ শরীফ পাঠকারী ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আমার অতি নিকটবর্তী হবে। তিরমিযি-মেশকাত-৮৬

এছাড়াও বহু হাদিস দ্বারা দরুদ শরীফের ফজিলত ও গুরুত্ব প্রমাণিত হয়েছে, যা উল্লেখ করলে কিতাব বড় হবে ভেবে উল্লেখ করা হলো না।

দরুদ শরীফ কত প্রকার ও দরুদ শরীফ পাঠ করার নিয়ম

হাদিস গ্রন্থে তালাস করলে দেখা যায় দরুদে ইব্রাহিম হল সর্বাপেক্ষা উত্তম দরুদ যা নবী করিম (সা.) সাহাবাদেরকে নিজে শিখিয়েছেন। তাছাড়া বিভিন্ন ফযিলতের অনেক দরুদ হাদিসের কিতাবে বর্ণিত আছে। হযরত মাও: যাকারীয়া সাহেব (রা.) ফাযায়েলে দরুদ নামে কিতাবের মধ্যে ৪০ প্রকার এবং মাকবুল নামায নামা কিতাবের মধ্যে ৩৬ প্রকার ও মুনাজাতে মকবুলসহ অন্যান্য কিতাবের মধ্যে প্রায় ১০৩ প্রকার দরুদ উল্লেখ আছে। তবে উল্লেখ্য যে প্রচলিত মিলাদের মধ্যে সম্মিলিত ভাবে সুরালু কষ্ঠে যে দরুদ পড়া হয় তা কোন হাদিসের কিতাব বা অন্য কোন কিতাবে উল্লেখ নেই। যদি কেউ দেখাতে পারেন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা রইল।

দরুদ পড়ার নিয়ম

সমবেত কণ্ঠে সমস্বরে দুরুদ শরীফ পাঠের ব্যাপারে হাদিসের কোন কিতাবে সহীহ্ হাদিস তো দূরে থাক, জয়িফ বা দুর্বল কোন হাদিসেও উল্লেখ নেই। সুতরাং যত হাদিসের মধ্যে দুরুদের গুরুত্ব বা ফযিলত আসছে সকল হাদিস দ্বারা নিজে নিজে বা একা একা দুরুদ পাঠের নির্দেশ আসছে। অধিক মাত্রায় দরুদ শরীফ পাঠ করা অন্যান্য নফল ইবাদত হতে উত্তম। উচ্চ স্বরে হোক বা অনুচ্চস্বরে হোক উভয়টিই বৈধ।

নামাযের মধ্যে বসা অবস্থায় দরুদ ও সালাম এবং জানাযার মধ্যে দাঁড়ান অবস্থায় শুধু দরুদ পাঠ করার জন্য শরীয়তের স্থান নির্ধারিত। তাছাড়া অন্য কোন স্থান বা নিয়ম পদ্ধতি দরুদ ও সালাম পাঠের জন্য নির্ধারিত নেই।

ধ্যান খেয়াল ও মনোযোগ সহকারে সহীহ্ শুদ্ধ উচ্চারণে পবিত্র অবস্থায় দুরুদ শরীফ পড়তে হবে। দাঁড়ান, বসা, শোয়া, মাঠে, ঘাটে, হাটে, বাজারে, রাস্তা-ঘাটে চলা-ফেরা, যানবাহনে, নিজ ঘরে, মসজিদে-মক্তবে সর্ব অবস্থায় দুরুদ শরীফ পাঠ করা বৈধ। তবে ওজু অবস্থায় পবিত্র স্থানে কিবলামূখী হয়ে নিরিবিলি পরিবেশে দুরুদ পাঠ করলে বেশী তাছির পাওয়া যায় এবং মোস্তাহাবও বটে।

দরুদ ও সালাম পাঠের নিয়মের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তবে রাসূলে কারিম (সা.) এর কবর শরীফকে স্বচক্ষে দেখে এবং স্বশরীরে সেখানে হাজির হয়ে যদি কেউ সালাম পেশ করে, যেমন হাজী সাহেবগণ তখন দাঁড়িয়ে সালাম পেশ করাটাকে কোন কোন বুজুর্গ ব্যক্তি তার কিতাবে আদব বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রচলিত মিলাদ ও কিয়াম

translate

Spread the love

Leave a Comment