হযরত আদম (আ.) কৃষি কাজ করেছেন। তিনি আটা পিরেষছেন ও রুঠি বানিয়েছেন।

হযরত ইদ্রিস (আ.) লেখার কাজ এবং দর্জির কাজ করেছেন।

হজরত নুহ (আ.) গাছ ফেড়ে নৌকা তৈরি করেছেন। অর্থাৎ তিনি মিস্ত্রির কাজ করেছেন।

হযরত হুদ (আ.) ও হযরত সালেহ (আ.) ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন।

হযরত জুলকারনাইন যিনি বহুত বড় বাদশা  ছিলেন। অনেকে র মতে তিনি নবী ছিলেন। তিনি জাম্বিল বুনন করতেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ডালা, টুকরি, ধামা প্রভৃতির তৈরি করেছেন।

হযরত ইব্রাহিম (আ.) কৃষি কাজ এবং রাজমিস্ত্রি কাজ করেছেন, তিনি নিজ হাতে খানায়ে কাবা পুনর্নির্মাণ করেছেন।

হযরত লুত (আ.) চাষাবাদের কাজ করেছেন।

হযরত ইসমাইল (আ.) স্বীকার করেছেন।

হযরত ঈসা (আ.), হযরত ইয়াকুব এবং তাহার বংশধরগণ ছাগল পালন করতেন, এবং ছাগলের বাচ্চা বিক্রি করতেন।

হযরত ইউসুফ (আ.) দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্যশস্যের ব্যবসা করেছেন।

হযরত আইয়ুব (আ.) বকরি পালন করতেন, তিনি কৃষি কাজ করেছেন।

হযরত শোয়াইব এর বাড়িতে বকরি পালন করা হত। হযরত মুসা কয়েক বৎসর পর্যন্ত তার বাড়ি থেকে বকরি চড়াইছেন এবং বিবাহের মোহর হিসেবে ছিল বকরি চড়ানো।

হযরত হারুন (আ.) ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন,

হযরত ঈসা (আ.) ক্ষেত খামারে কৃষি কাজ করেছেন।

হযরত দাউদ (আ.) যুদ্ধের জন্য লৌহবর্ম তৈরি করতেন, অর্থাৎ কামারের কাজ করে লৌহ শিল্প প্রতিষ্ঠা করেছেন।

হযরত লোকমান (আ.) বিজ্ঞানের সুবিখ্যাত বড় বৈজ্ঞানিক ছিলেন, বকরিও চড়াতেন।

হযরত সুলাইমান (আ.) জাম্বিল বুনাতেন, এবং তিনি বাদশা ছিলেন।

হযরত যাকারিয়া (আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। সকল নবী রাসুল এবং আখেরী নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (স.) এর বকরি চরানোর কথা কিতাবে বর্ণিত আছে, এবং তিনি ব্যবসা-বানিজ্য করেছেন।

কিন্তু তাদের জীবনধারণ বকরি চরানোর উপর নির্ভর করত না, তবুও এই কাজ তারা করেছেন। উক্ত কাজে তারা দূষণীয় মনে করতেন না।

তাছাড়া যে সকল বড় বড় ইমামগণের লিখিত কিতাব এর মাসআলা হতে শরিয়তের আইন এর সনদ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, সেই সকল ইমামগণও কেউ কাপড় বুনন করতেন, কেউ চামড়ার কাজ করতেন, কেউ মিঠাই বানাতেন অথচ তাদের চাইতে অধিক সম্মানে কে হতে পারে?

আর আমরা অনেকেই মাদ্রাসায় পড়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্য করাকে খুব ভাল চোখে দেখিনা। অনেকেই বলে থাকে যে, তার এলেম কবুল হয়নি। নানা ধরনের কথা বলে তাদেরকে নিচু করা হয়। অথচ সাহাবায়ে কেরামগণও ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। তারা দ্বীনের খাদেম ছিলেন এবং তারা জীবিকা উপার্জনের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের নবী-রাসূলগণের আদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার এবং সাহাবায়ে কেরামদের মত সৎ ব্যবসায়ী এবং উপার্জনকারী হিসেবে কবুল করুন। আমীন

শেয়ার করুন