নাপাকের প্রকার ও তার বিধান

নাপাকের প্রকার ও তার বিধান

আল্লাহ তা’আলা বলেন, আপনি আপনার কাপড় পবিত্র রাখুন (সূরা মুদ্দাসসির)
রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, আল্লাহ তা’আলা পবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল করেন না। (বুখারী মুসলিম)
নাপাকি হলো শরীর, কাপড়, জায়গা এমন অবস্থায় হওয়া যা শরীয়ত অপরিচ্ছন্ন মনে করে এবং তা থেকে পবিত্রতা অর্জনের আদেশ দেয়।
নাপাকি ২প্রকার:
(১) নাজাসাতে হুকমিয়া( বিধান গত নাপাকি)
(২) নাজাসাতে হাকিকিয়া (প্রকৃত নাপাকি)
নাজাসাতে হুকমিয়া হল, কোন মানুষের এমন অবস্থায় হওয়া যে অবস্থায় নামাজ জায়েজ হয় না ।

বিধানগত নাপাকি আবার দুই প্রকার (১) ছোট নাপাকি (২) বড় নাপাকি

ছোটনা নাপাকি হলো, কোন মানুষের এমন অবস্থায় হওয়া যাতে অজু ওয়াজিব হয়। এবং ঐ অবস্থায় নামাজ জায়েজ হয় না, তবে সেই অবস্থায় কুরআনুল কারীম মৌখিকভাবে তেলাওয়াত করা যায়।

আর বড় নাপাকি হল: কোন মানুষের এমন অবস্থায় হওয়া যে, তাতে গোসল ওয়াজিব হয় এবং ঐ অবস্থায় নামাজ জায়েজ হয় না এমনিভাবে ওই অবস্থায় কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করা জায়েজ হয় না।

নাজাসাতে হাকিকিয়া (প্রকৃত নাপাক) দুই ভাগে বিভক্ত
(১) নাজাসাতে গলিজা (শক্ত নাপাক) তা হল যার নাপাক হওয়ার এমন দলীল দ্বারা প্রমাণিত যাতে কোন সন্দেহ নেই।
নাজাসাতে গলিজা এর উদাহরণ
(১) প্রবাহমান রক্ত
(২) মৃত প্রাণীর গোশত চামড়া
(৩) এমন প্রাণী যার গোশত খাওয়া হয়না
(৪) কুকুরের উচ্ছিষ্ট
(৫) হিংস্র প্রাণীর লালা
(৬) মুরগির বিষ্ঠা
(৭) যে সকল বস্তু মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া দ্বারা ওজু ভেঙে যায়।

নাজাসাতে গলিজার হুকুম
নাজাসাতে গলিজা ১ দিরহাম (৫টাকার কয়েন থেকে সামান্ন বড়)

পরিমাণ হলে মাফ। যদি নাজাসাতে গলিজা ১ দিরহাম পরিমাণ থেকে বেশি হয় তাহলে পানি অথবা নাপাক দূরকারী কোন বস্তু দ্বারা ধোয়া আবশ্যক এবং তা সহ নামাজ জায়েজ হবে না।

নাজাসাতে খফিফা:
নাজাসাতে খফিফা হলো যার নাপাক হওয়া সুদৃঢ় নয় এমন কোন দলিল পাওয়া যাওয়ার কারণে যা তাঁর পবিত্র হওয়া বুঝায়।

নাজাসাতে খফিফার দৃষ্টান্ত:
(১) ঘোড়ার পেশাব
(২) যে প্রাণীর গোশত খাওয়া যায় তার পেশাব যেমন গরু ছাগলের পেশাব ।(৩) যে পাখির গোশত খাওয়া হয়না তার বিষ্টা।

নাজাসাতে খফিফার হুকুম:
নাজাসাতে খফিফা বেশি না হওয়া পর্যন্ত মাফ। বেশি পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে, কাপড় ও শরীরের এক চতুর্থাংশ, পেশাবের ছিটা মাফ যখন সূচের মতো হয়।
যদি নাপাক কাপড় অথবা নাপাক বিছানা ঘুমন্ত ব্যক্তির ঘামে ভিজে যায় তাহলে যদি শরীর বা পায়ে নাপাকির চিহ্ন প্রকাশ পায় তবে শরীর নাপাক ধরা হবে। আর যদি চিহ্ন না পায় তাহলে নাপাক হবে না।

নাপাকি দূর করার পদ্ধতি:
যদি নাপাকি দৃশ্যমান হয়, যেমন রক্ত, মল, তাহলে সে নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জন হবে, নাপাকি দূর করার দ্বারা, চাই নাপাকির মূল একবার ধৌত করার মাধ্যমে দূর হোক অথবা বেশি বার ধৌত করার মাধ্যমে দূর হোক।
যদি নাপাকির চিহ্ন যেমন রং গন্ধ কাপড়ে বাকি থেকে যায় তাতে কোন অসুবিধা হবে না যদি তা দূর করা কষ্টকর হয় বা অসম্ভব হয়।

যে নাপাকি দৃশ্যমান নয়, যেমন পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জিত হয়, যখন কাপড় তিনবার ধৌত করা হয় এবং প্রত্যেকবার নিংরানো হয় যে পর্যন্ত না পানির ফোঁটা শেষ হয় এবং প্রতিবার পবিত্র নতুন পানি ব্যবহার করা হয়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

শেয়ার করুন

View Comments

Recent Posts

সহবাস সম্পর্কে গুরুত্ব দিক নির্দেশনা

সহবাস সম্পর্কে গুরুত্ব দিক নির্দেশনা প্রত্যেক বিবাহিত ছেলে মেয়েদের সহবাস সম্পর্কে জ্ঞান রাখা জরুরী। যে… Read More

4 months ago

মহিলাদের জন্য শারীরিক ব্যায়ামের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

মহিলাদের জন্য শারীরিক ব্যায়ামের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা শরীর সুস্থ ও সবল রাখতে ব্যায়ামের বিকল্প কিছু… Read More

4 months ago

বিবাহের পূর্বে কিছু দিক নির্দেশনা

বিবাহের পূর্বে কিছু দিক নির্দেশনা সন্তানাদি যখন প্রাপ্ত বয়সে পৌঁছে, তখন পিতা-মাতার উচিত বিবাহের পূর্বে… Read More

4 months ago

কেমন নারীকে বিবাহ করা উচিত

কেমন নারীকে বিবাহ করা উচিত বিবাহের ক্ষেত্রে এমন নারী নির্বাচন করবে যার মধ্যে ধার্মিকতা ও… Read More

4 months ago

মানুষের জন্য খাতনা করা জরুরি ও উপকারীতা

মানুষের জন্য খাতনা করা জরুরি ও উপকারীতা সুপারির উপরে টুপির মত চামড়া কর্তন করাকে মুসলমানি… Read More

4 months ago

হায়েয ও নেফাসের সময় কত দিন

হায়েয ও নেফাসের সময় কত দিন উত্তর : হায়েযের সর্বনিম্ন সময় হল তিন দিন। আর… Read More

4 months ago

This website uses cookies.