প্রচলিত মিলাদ মাহফিলে আপত্তিকর দিকসমূহ

প্রচলিত মিলাদ মাহফিলে আপত্তিকর দিকসমূহ

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, উল্লেখিত আলোচনা থেকে বোঝা গেলা যে, দুরুদ ও সালাম পাঠক করার জন্য শরীয়তে সুনির্দিষ্ট কোন নিয়ম পদ্ধতি এবং স্থান নির্ধাররিত করা হয়নি। তবে নামাজের মধ্যে বসে দরুদ ও সালাম এবং জানাযার নামাজে দাঁড়িয়ে শুধু দরুদ পাঠ করার সুনির্দিষ্ট স্থান ব্যতিত অন্য কোন নিয়ম বা স্থান শরীয়তে নির্দিষ্ট করা হয়নি।

এখন যদি কেউ দরুদ ও সালাম পাঠের জন্য ভিন্ন কোন নিয়ম বা পদ্ধতি এবং স্থান নির্ধারণ করে যে আজ অমুক স্থানে ও অমুক সময়ে মিলাদের নামে এলান করে জনগণকে একত্রিত করে দু একটি দরুদ. কিছু সালাম, দু-একটি আয়াত কিছু কবিতা ও ছন্দ পাঠ করে তাহলে বিচার করুন এটা কি হলো?

প্রচলিত মিলাদে দরুদ ও সালাম পাঠ করার জন্য সময় ও স্থান নির্ধারণ করা এবং জনগণকে একত্রিত করা একটি গর্হিত কাজ। ইমদাদুল ফাতুয়া-১নং খন্ড-পৃষ্ঠা- ২৪

وقد صح عن ابن مسعود  (رضـ) انه  سمع  قوما  اجتمعوا  فى  مسجد  يهللون ويصلون عليه الصلوة فراح اليهم فقال ما عهدنا ذالك على عهده عليه السلام ما اراكم الامبتدعين فمازال يذكر ذالك حتى اخرجهم عن المسجد – احسن الفتوى صــ٣٦٣

অর্থাৎ হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসুদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি একবার একটি কাফেলার নিকট গিয়ে দেখতে পেলেন তারা সম্মিলিত ভাবে সুরালু কষ্ঠে মজজিদে আল্লাহ্ পাকের তাসবীহ তাহলিল এবং রাসূলে কারিম (সা.) এর উপর দরুদ পাঠ করছে। এই দৃশ্য দেখে তিনি অবাক হলেন এবং বললেন কি ব্যাপার তোমরা কি করছ? এমনটি  তো আমরা রাসূলের যুগে কখনো দেখিনি।

আমার মতে তোমরা সকলেই বিদআতে লিপ্ত। একথা বলে শেষ পর্যন্ত তিনি তাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিলেন। ফাতোয়া আলমগীরি- খন্ড-১, পৃষ্ঠা- ৩৬৩

দরুদ ও সালাম পাঠের জন্য দিন তারিখ বা সময় নির্ধারণ করা  নিঃসন্দেহে ভ্রান্ত ও বিদআতি কাজ এবং লোকজন জমায়েত করা শরীয়ত সম্মত নয়।

ইমদাদুল আহকাম- /৯৫,ফাতোয়া রহমানিয়া ২/২৮২,ফতোয়া রাশিদয়া ১২০ পৃষ্ঠা

হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠের নিয়ম হলো প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত ভাবে পৃথক পৃথক ভাবে দরুদ ও সালাম পাঠ করবে। এর জন্য অনেকের এক সঙ্গে সমবেত হওয়ার দরকার নেই। কারণ দুরুদ ও সালাম পাঠের জন্য সম্মেলিত হওয়া জায়েজ নেই। আজকাল সমাজে মিলাদের নামে সম্মিলিত ভাবে সমবেত কন্ঠে যে দরুদ ও সালাম পাঠ করা হয় তা কুরআন ও হাদিসের কোন ভিত্তি নেই। আহসানুল ফতোয়া ১/৩৬৩, ফতোয়া রহমানিয়া ২/২৮২

প্রচলিত মিলাদ মাহফিলের শেষে মিষ্টি বা জিলাপী বিতরণ করা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যা না করলে মিলাদে লোকজন পাওয়া মুশকিল এবং মিলাদী মেজবান যা না করলে সমালোচনার শেষ থাকে না।অথচ দরুদ ও সালামের উদ্দেশ্য হলো নেকী হাসিল করা, কিন্তু বর্তমান মিলাদ নামে দরুদ ও সালাম পাঠের দ্বারা উদ্দেশ্য হয়েছে মিষ্টি  জিলাপি হাসিল করা। নাউযুবিল্লাহ্

কেননা আমার ব্যক্তিগত জীবনে মিষ্টি বা জিলাপি ছাড়া কোন মিলাদ অনুষ্ঠান দেখেনি। এমন কি মিষ্টি বিতরণের সময় মসজিদের মধ্যে হৈ-চৈ ও সোরগোল লেগে যায়, যা  সম্পূর্ণ রূপে মসজিদের মধ্যে নিষেধ।

আহসানুল ফতোয়া ১/৩৮৩, ফতোয়া সাফী- ১/৩৬৩

এছাড়াও  বহু আপত্তিকর দিক রয়েছে যা উল্লেখ করলে বইখানা দীর্ঘ হবে মনে করে শুধু হাওয়ালা পেশ করা হলো। মুসলিম সমাজকে তা দেখে নেওয়ার জন্য অনুরোধ রইল। ইমদাদুল ফতুয়া-১/২৪৯, আহসানুল ফতুয়া ১/৩৬৩, ফতুয়া রহিমিয়া ২/২৮২, ফতুয়া শামী ১/৬৬০, আহছানুল ফতুয়া ১/৩৮৩, ফতুয়া রশিদীয়া পৃষ্ঠা ২৩৪, ফতুয়া আলমগিরি ৫/৩২৭, ফতুয়া রশিদিয়া ১৩৫, ফতুয়া রশিদিয়া ৬৮, ফতুয়া শামী ২/৫১৮, আল আশবা ওয়ান নাযায়ির ৫৩, ফতুয়া রশিদীয়া ৬২, ইমদাদুল ফতুয়া ৫/৩৮৫, তাফসিরে কুরতবী ১২/৩২২, ইমদাদুল আহকাম ১/৯৫, ফতুয়া শামী ৬/৫৬, ইমদাদুল আহকাম ১/১২, ফতুয়া শামী ২/২৪১, ইমদাদুল ফতুয়া ১/২৪৯, কিফায়াতুল মুফতি ১/১৫৩, আহসানুল ফতুয়া ১/৬৬০, আহসানুল ফতুয়া ৮/১৮

প্রচলিত মিলাদ ও কিয়াম

translate

Spread the love

Leave a Comment