মনজিল করার নিয়ম | আল্লাহর পথে দাওয়াত

মনজিল করার নিয়ম: যে মসজিদে আমাদের রোখ থাকবে সে মসজিদের মহল্লার শুরুতে মন্জিল করবে মসজিদের সামনে গিয়ে নয়। মন্জিল করার নিয়ম হলো, মসজিদের মহল্লার শুরুতে রাস্তার এক পাশে খালি যায়গায় সব সামানা রেখে তার চতুর পাশে সকল সাথী গোল হয়ে দাঁড়াবে।

অতপর মন্জিলের দোয়া পড়বে, দোয়া এই,

   رب انزلنى منزلا مباركا و انت خير المنزلين-  المؤمنون  

এবং এই দোয়া পড়বে,

   اللهم رب السموات السبع وما اظللن و رب الارضين و ما اقللن و رب الشياطين وما اضللن و 

   رب الرياح و ما ذرين فانا نسألك خير هذه القرية و خير اهلها و نعوذبك من شرها و شر اهلها

   و شرما فيها-

অতপর এই দোয়া পাঠ করবে-

   اعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق-

হযরত খাওলা বিনতে হাকীম রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোথাও অবতররণ করে এই দু‘য়া পড়বে

  اعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق

সে ঐ স্থান ত্যাগ করা পর্যন্ত তাকে কোন কিছু ক্ষতি করবে না।

অতপর একজন মন্জিল করার উদ্দেশ্য ইত্যাদি বলবে, যেমনঃ- মন্জিলের উদ্দেশ্য হলো, আমরা রাস্তায় আসতে বিভিন্ন জিনিস দেখার কারণে আমাদের দিল ও ফিকির বিভিন্ন দিকে চলে গিয়েছে সুতরাং এখন আমরা পুনরায় আমাদের ফিকিরকে এক করি যে, আমরা যে তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে এই মহল্লায় এসেছি তা কিভাবে বাস্তবায়ন হয়।

তিনটি উদ্দেশ্য হলো, ১. আমরা এমন ভাবে মেহনত করবো যাতে করে আমাদের প্রত্যেকটি সাথী জ্ঞানি-গুণি, কর্মট, মুখলেছ ও দ্বীনের দায়ী বনতে পারে বা ইমানওয়ালা আমলওয়ালা, মুখলেছ ও দ্বীনের দায়ী বনতে পারে।

২.আমরা এমন ভাবে মেহনত করবো যাতে এই এলাকার প্রত্যেকটি ঘর 

থেকে একএক জন বালেগ পুরুষ বারীবারী করে অর্থাৎ একের পরএক আল্লাহর রাস্তায় বের হতে পারে। অথবা এই এলাকা থেকে নগদ জামাত আল্লাহর রাস্তায় বের করা যায়। এবং এই এলাকার প্রত্যেকটি বাড়ীর প্রত্যেকটি মানুষের নিকট দাওয়াত পৌছানো যায়।

৩. এই মহল্লার মসজিদে যদি পাঁচ কাজ চালু না থাকে তাহলে চালু করা আর যদি চালু থাকে তাহলে জরদার বা মজবুত করা আর যদি মজবুত থাকে তাহলে তা থেকে ফায়দা নেওয়া বা উপকৃত হওয়া।

এবং মসজিদের আদব আলোচানা করা যে, আমরা মসজিদে প্রবেশের সময় বাম পায়ের জুতা খুলে বাম পায়ের উপর রাখবো অতপর ডান পায়ের জুতা খুলে ডান পায়ে বিস্মিল্লাহ , দরূদ শরীফ ও দোয়া পড়ে মসজিদে প্রবেশ করবো এবং ই‘তেকাফের নিয়ত করবো।

অতপর দোয়া করা এবং দোয়ার মধ্যে বিশেষ ভাবে একথা উল্লেখ করা যে, হে আল্লাহ! তুমি এই এলাকার ভালায়ী আমাদেরকে দান করুন এবং অকল্যাণ হতে আমাদেরকে হেফাজত করুন, এবং আমাদের ভালায়ী তাদের মধ্যে দান করুন ও আমাদের অকল্যাণ হতে তাদেরকে হেফাজত করুন, এবং এলাকা বাসির অন্তরে আমাদের প্রতি মহব্বত এবংআমাদের অন্তরে এলাকা বাসির প্রতি মহব্বত পয়দা করে দেন এবং আল্লাহ তায়ালার সাহায্য চাওয়া। কেননা আল্লাহ তায়ালার সাহায্য না থাকলে আমরা কিছুই করতে পারবো না।

দোয়ার মধ্যে আশে পাশে থাকা এলাকা বাসিদেরকেও শরীক করার চেষ্টা করবে। দোয়ার পর বিনয়ের সহিত নিচের দিকে তাকিয়ে পূর্বে বর্ণিত তিনটি বিষয়ের ফিকির নিয়ে মসজিদের দিকে যাবে । অতপর মসজিদের সুন্নাত আদায় করে মসজিদে প্রবেশ করবে। মসজিদ অপরিস্কার থাকলে পরিস্কার করে সামানাগুলো মসজিদের এক পাশে গুছিয়ে রেখে যদি মাকরূহ ওয়াক্ত না হয় তাহলে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামায পড়বে। অতপর জলদি জলদি মাশওয়ারায় বসে যাবে।

পূর্বের মসজিদ থেকে জরুরত সেরে অজুয়াবস্থায় পরের মসজিদে আসার চেষ্টা করবে। যেন নতুন মসজিদে এসেই জরুরতে না যাওয়া লাগে, যা দেখতে খারাপ দেখা যায়।

সফরের নিয়ম ও আদব

যৌন তত্ত্ব

গোপন মাসাআলা

আমাদের ইউটিউব ইউটিব চ্যানেল

Spread the love

Leave a Comment