মৃত্যু যন্ত্রণা সম্পর্কে ঈসা (আ.) এর ঘটনা থেকে শিক্ষা

মৃত্যু যন্ত্রণা সম্পর্কে ঈসা (আ.) এর ঘটনা থেকে শিক্ষা

হযরত ঈসা (আ.) তার সাথীদের নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন।  পথিমধ্যে তিনি একটি কবর দেখে বললেন এটা নুহ (আ.) এর ছেলে সামের কবর।  যখন প্লাবন আসলো সবাই মৃত্যুর কবলে পড়ল।  এরপর তার তিন সন্তান থেকে আল্লাহ পাক আবার পৃথিবী আবাদ করেছেন। তিন সন্তান হলেন, সাম, হাম, ইয়াফেস।  আমরা সবাই সামের সন্তান।  ইউরোপবাসী ইয়াফেসের সন্তান।  সমস্ত আফ্রিকাবাসী হামের সন্তান।

হযরত ঈসা আঃ এর সাথিরা আরজ করলেন, হে আল্লাহর নবী (আ.) আপনি তাকে জীবত করুন। কেননা আপনি বললে আল্লাহ পাক মৃতকে জিন্দা করে দেন।  ঈসা (আ.) বললেন (কুম বি ইযনিল্লাহ) আল্লাহ তা’য়ালার অনুক্রমে কবর থেকে বের হয়ে আসো।  সাম জীবত হয়ে কবর থেকে বের হলেন। এবং কিছু কথাবার্তা হল।  অতপর বললেন যাও কবরে চলে যাও। তিনি বললেন যাব, তবে একটি শর্তের উপর। দ্বিতীয়বার যেন আমার মৃত্যুর কষ্ট না হয়।

কেননা মৃত্যুর সময় আমার যে কষ্ট হয়েছিল এর ব্যথা আজও আমার হাড্ডিতে বিদ্যমান। এখানে এর জন্য কোন ব্যথানাশক ঔষধ নেই তাকওয়া এবং খোদাভীতি ছাড়া।  আর কোন উপায়ও নেই।

দেখুন কত বড় প্রমাণ মৃত্যু আমাদের প্রত্যেকের জীবনে আসবে। অথচ আমাদের কত বড় গাফিলতি! আমরা কত বড় উদাসীন! মৃত্যুর জন্য কী প্রস্তুতী আমরা নিচ্ছি? কবরের সম্বল আমাদের জোগাড় হয়েছে কি? কবর হলো সাপ, বিচ্ছুর ঘর, কবর হলো নির্জন আতঙ্কের ঘর কবর। কবর পোকামাকড়ের ঘর সেখানে না থাকবে কোন আলো-বাতাস না কোন বাতি।

মৃত্যু যন্ত্রণা সম্পর্কে ঈসা (আ.) এর অন্য ঘটনা

একদিন হযরত ঈসা একমহল্লা অতিক্রম করার সময় দেখলেন সবকিছু ধ্বংস হয়ে মাটির সাথে মিশে আছে।  ঈসা আ(আ.) বললেন, এদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসেছে।  এসব আল্লাহর নাফরমানীর কারণে হয়েছে। ঈসা মৃতদের সাথে কথা বলতেন।

আওয়াজ দিলেন, হে বস্তির অধিবাসীরা! জবাব এলো আমরা হাজির হে আল্লাহর নবী, ঈসা আ. বললেন তোমাদের কি অপরাধের কারণে ধ্বংস করা হলো। আওয়াজ এলো আমাদের দুটি কাজ ছিল, প্রথমত দুনিয়ার প্রতি মহব্বত। দ্বিতীয়ত তাগুতের সাথে মহব্বত ছিল।

ঈসা (আ.) বললেন, তাগুতের সাথে মহব্বতের উদ্দেশ্য কি? উত্তরে বললেন, নিকৃষ্ট ও অসৎ প্রকৃতির লোকদের সাথে সুসম্পর্ক ছিল। আর নিকৃষ্ট লোকদের সাথে উঠাবসা করতাম।

ঈসা আ. বললেন, দুনিয়ার মুহাব্বত দ্বারা উদ্দেশ্য কি? উত্তরে বললেন, আমাদের ভালোবাসা দুনিয়ার সাথে এমন ছিল! যেমন মা তার সন্তানকে ভালোবাসে। যখন আমরা ধন-সম্পদ হাতে পাই তখন খুবই আনন্দিত হতাম। আর যখন তা হাত ছাড়া হয়ে যেত তখন আমরা অস্থির হয়ে যেতাম। হালাল হারামের চিন্তা না করেই ধন-সম্পদ কামাই করতাম। জায়েজ নাজায়েজ এর পরোয়া না করেই সম্পদ ব্যয় করতাম। অসৎ পথে সম্পদ ব্যয় করতাম।

এর মধ্যেই আমরা ধ্বংস হয়ে গেলাম।  ঈসা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, এরপর তোমাদের সাথে কেমন আচরণ হয়েছে? উত্তর এলো, রাতে আমরা সবাই ঘরে শুয়ে ছিলাম কিন্তু সকাল হলেই দেখি আমরা সবাই বাতাসে হাওয়াইতে পৌঁছে গেছি। জিজ্ঞেস করলেন হাওয়াইয়া কি? উত্তরে বললেন, হে আল্লাহর নবী এমন এক জেলখানা যার এক একটি জ্বলন্ত কয়লা সাতটি দুনিয়ার সমান।  আর আমাদেরকে সেখানে দাফন করা হয়েছে।

ঈসা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি একা কথা বলছো আর কি কেউ নেই কথা বলার মত? আওয়াজ এলো হে আল্লাহর নবী, সবার মুখে আগুনের লাগাম দেওয়া হয়েছে।  এজন্য তারা কথা বলতে পারছে না তাদের মুখ বন্ধ, আমার মুখ বন্ধ হয় নাই। লাগাম দেওয়া হয় নাই, তাই আমি কথা বলতে পারছি।  তিনি বললেন, তুমি কিভাবে বাঁচলে আওয়াজ এলো আমি সিজ্জীনের কিনারায় বসে আছি।

এ শাস্তি আমাকে এজন্য দেওয়া হয়েছে যে, আমি তাদের সাথে থাকতাম ঠিকই তবে তাদের মত চলাফেরা করতাম না। কিন্তু তাদের সাথে থাকার কারনে আমাকে পাকড়াও করা হয়েছে। এখন আমি সিজ্জীনের কিনারায় এমন স্থানে বসে আছি, ঠিক নেই কোন সময় নিচে পড়ে যাই। নাকি আল্লাহতালা অনুগ্রহ করে আমাকে মাফ করবেন তা আমি জানিনা।  আল্লাহ আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। আমিন

ইসলামী জীবন

গুগলে খুজুন islamimedia

Spread the love

Leave a Comment