সফরের নিয়ম ও আদব আল্লাহর পথে দাওয়াত

সফরঃ- রওয়ানেগী হেদায়েত (যা সফরে যাওয়ার পূর্বে বলা হয়) শুনে মুছাফাহা করার পর যখন রোখের পার্চা বা কাগজ হাতে আসবে তখন থেকে সফরের কার্যক্রম শুরু হবে, সর্ব প্রথম সফরে বের হওয়ার নিয়ত ঠিক করা। আর নিয়ত হলোঃ- 

১. আল্লাহকে রাযী-খুশী করা,

২. দ্বীন শিখা,

৩. দ্বীনের উপর চলতে শিখা,

৪. দ্বীনের মেহনত শিখা, ৫. নগদ জামাত বের করা।

অতপর আমীর সাহেব সকল সাথীকে নিয়ে বসে সংক্ষিপ্ত ভাবে পরিচয় নিবে 

যেমনঃ- নাম, পেশা, জেলা, পূর্বে কত সময় লাগিয়েছে ইত্যাদি। অতপর সকল সাথীকে জামাত নাম্বার ও রোকের ঠিকানা জানিয়ে দিবে এবং প্রয়োজনে ছোট কোন কাগজে লিখে প্রত্যেক সাথীকে দিবে যাতে কোন সাথী রাস্তায় হাড়িয়ে গেলেও আপন রোখে পৌছতে পারে অতপর সাথীদের সাথে মাশওয়ারা করবে যে,আমাদের এজ্তেমায়ী সামানা যেমনঃ- হান্ডি-পাতিল চুলা ইত্যাদি ভাড়া করতে এত টাকা এবং ফাজায়েলে আমল ইত্যাদি। কিতাব কিনতে এত টাকা এবং আমাদের রোখে পৌছতে এত টাকা লাগবে, সুতরাং কত টাকা করে উঠানো যেতে পারে? প্রয়োজন পরিমান টাকা উঠিয়ে এমন দুইজন সাথীর নিকট রাখবে যাদেরক জামাতের অন্যান্য সাথীগণ চিনে।

একক কোন ব্যক্তির নিকট টাকা রাখবে না এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা উঠাবে না এবং একজনের টাকা অন্যজনের নিকট জমাও রাখবে না। অতপর জামাতের আমীর সাহেব সাথীদেরকে জাননেওয়ালা এবং নাজাননেওয়ালা, যুবক-বৃদ্ধ, ও নতুন-পুরাতনের প্রতিলক্ষ রেখে দুই দুই জন করে জোড়া বানিয়ে দিবে। এবং দুইজন সাথীকে বাস, ট্রেন ইত্যাদি ঠিক করার জন্য নির্দিষ্ট করে দিবে যাতে অন্যান্য সাথীদের পেরেশানি না হতে হয়।

অতপর যত দূরত সম্ভব কাকরাইল মসজিদ থেকে বের হয়ে যাবে।মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় মসজিদ থেকে বের হওয়ার আমল পুরা করবে। যেমনঃ- বিসমিল্লাহ, দরূদ শরীফ, ও দোয়া পড়ে বাম পা আগে বের করে বাম পার জুতার উপর রাখবে। এগুলো একত্রে এভাবে পড়বে

بسم الله و الصلاة و السلام على رسول الله اللهم انى اسئلك من فضلك

অতপর সফর শুরু করার দোয়া পড়বে। যেমনঃ-

 بسم الله توكلت على الله لا حول و لا قوة الا بالله العلى العظيم-

اللهم انا نسئلك فى سفرنا هذا البر و التقوى ومن العمل ما ترضى اللهم هون علينا سفرنا هذاو

   اطوعنا بعده اللهم انت الصاحب فى السفر و الخليفة فى الاهل اللهم انى اعوذبك من وعثاء السفر و

   كابة المنظر و سوء المنقلب فى المال و الاهل-  ( مسلم )

ষ্টেশনে গিয়ে কোন মসজিদ বা কোন নিরাপদ স্থানে সামানাপত্র রেখে সাথীরা তা‘লীম শুরু করবে আর নির্দিষ্ট সাথীরা বাস ইত্যাদি ঠিক করবে।

টিকেট ক্রয়ের সময় বাসওয়ালাদের সাথে একথা বলে নিবে যে, নামাযের সময় হলে নামাযের জন্য বাস থামাতে হবে, বাসের মধ্যে গান-বাজনা বাজাতে পারবে না, টি,ভি ইত্যাদি চালাতে পারবে না।

বাসে উঠার সময় বিস্মিল্লাহ বলে ডান পা দিয়ে উঠবে এবং সিটে বসে আলহামদুলিল্লাহ বলবে অতপর এই দোয়া পড়বে।

 سبحان الذى سخرلنا هذا و ما كنا له مقرنين و انا الا ربنا لمنقلبون

অতপর তিনবার আলহামদুলিল্লাহ ও তিনবার আল্লাহু আকবার বলবে, তারপর এই দোয়া পড়বে,

لا اله الا انت سبحانك انى ظلمت نفسى فاغفرلى ذنوبى انه لا يغفر الذنوب الا انت-

তারপর একটু মুচকি হাসবে। দাওয়াত, তা‘লীম, নামায ও জিকির এই চার আমলের সাথে সফর করবে। সফরাবস্থায় কোন অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া কোন কিছু খাবে না। কেননা মুমিন অন্যকে ধোকা দিবেনা এবং নিজেও ধোকা খাবেনা। রাস্তায় চলার সময় রাস্তার আদবের প্রতি লক্ষ রাখিবে। যেমনঃ-

১. বড় রাস্তার ডান দিক দিয়ে চলা।

২. সালামে-কালামে চলা।

৩. জিকিরে-ফিকিরে চলা।

৪. সালামের উত্তর দেওয়া।

৫. নযরের হেফাজত করা।

৬. শিখতে-শিখাতে চলা।

৭. রাস্তায় কোন কষ্ট দায়ক জিনিস থাকলে তা সরিয়ে দেওয়া বা পিছনের সাথীকে বলে দেওয়া।

৮. সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা।

দলীল: 

   عن أبى سعيد الخدرى رضى الله تعالى عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال إياكم والجلوس 

   بالطرقات فقالوا يا رسول الله ما لنا من مجالسنا بد نتحدث فيها فقال فإذا أبيتم إلا المجلس فأعطوا

   الطريق حقه قالوا وما حق الطريق يا رسول الله؟ قال غض البصر وكف الأذى ورد السلام

   و الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر- ( بخارى )

   قال رسول الله صلى الله عليه و سلم: إن الله يحب التيامن حتى تنعلا و ترجلا أو كما قال صلعم-

অর্থ:- হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাঃ বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তোমরা রাস্তার উপর বসিও না সাহাবাগণ আরজ করলেন ইয়া রসূলাল্লাহ! আমাদের জন্য রাস্তার উপর না বসে উপায় নেই। আমরা সেখানে বসে কথাবার্তা বলে থাকি। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন, যদি বসতেই হয় তবে রাস্তার হকসমূহ আদায় করবে। সাহাবাগণ আরজ করলেন ইয়া রসূলুল্লাহ! রাস্তার হকসমূহ কি? তিনি এরশাদ করলেন, দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্টদায়ক জিনিস থাকলে রাস্তা হতে সরিয়ে দেওয়া, সালামের উত্তর দেওয়া, সৎকাজের আদেশ করা, ও অসৎকাজের নিষেধ করা।

সফরাবস্থায় সচ্ছল বা ভাল অবস্থায় থাকার আমলঃ-

সফরাবস্থায় সচ্ছল থাকার জন্য পাঁচ সূরা ছয় বিস্মিল্লাহর সাথে বেশীবেশী পাঠ করা। অর্থাৎ সূরা কাফিরুন, সূরা নাছর, সূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক ও সুরা নাস বিস্মিল্লাহসহ একবার একবার করে পাঠ করা এবং সূরা নাস শেষে একবার বিস্মিল্লাহ পাঠ করা।

দলীল: একদিন নবী করীম স. হযরত জুবায়ের ইব্নে মুনঈম রা. কে বললেন, হে জুবায়ের! তুমি কি চাও যে, সফরাবস্থায় তুমি তোমার সাথীদের মধ্যে সবার চেয়ে বেশী সচ্ছল থাকবে? হযরত জুবায়ের রা. বললেন, হে আল্লাহর রসূল! স. আমার আব্বা-আম্মা আপনার উপর কোরবান হোক অবশ্যই আমি তা চাই। তখন নবী করীম স. তাকে বললেন তাহলে তুমি এ নিয়মে পাঁচটি সূরা ( সফরাবস্থায় ) পড়তে থাকবে যে, প্রথমে সম্পূর্ণ বিস্মিল্লাহ পড়বে অতপর সূরা কাফিরুন পড়বে তারপর বিস্মিল্লাহসহ সুরা নাছর অতপর বিস্মিল্লাহসহ সুরা এখলাছ পড়বে এরপর বিস্মিল্লাহসহ সুরা ফালাক অতপর বিস্মিল্লাহসহ সুরা নাস পড়বে। এবং সব শেষে পূনরায় একবার বিস্মিল্লাহ পড়বে।

হযরত জুবায়ের রা. বলেন আমি অনেক সম্পদশালী ছিলাম কিন্ত যখন সফরে যেতাম তখন সবার চেয়ে দুরাবস্থায় ও অভাবগ্রস্থ হয়ে পরতাম আর যখন নবী করীম স. আমাকে উল্লেখিত নিয়মে সুরাসমূহ পড়তে বললেন এবং আমি ঐ নিয়মে পড়তে শুরু করলাম তখন থেকে আমি পূর্ণ সফরের মধ্যে ফিরে আসা পর্যন্ত আমার সাথীদের মধ্যে সবার চেয়ে বেশী ভাল ও সচ্ছলাবস্থায় থাকতাম।

যৌন তত্ত্ব

গোপন মাসাআলা

আমাদের ইউটিউব ইউটিব চ্যানেল

Spread the love