হযরত নূহ (আ.) এর ইতিহাস

হযরত নূহ (আ.) এর ইতিহাস

হযরত আদম (আ)-এর পর হযরত নূহই হচ্ছেন প্রথম ব্যক্তি যাকে নবুওয়তের সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। সহীত মুসলিমের শাফাআত আধ্যায়ে হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ রিওয়ায়েত আছে। তাতে এক স্থানে বলা হয়েছে। হে নূহ তুমি হচ্ছো পূথিবীতে প্রথম রাসূল।

(১) ঐতিহাসিক ও জীবনীকারগণ সাধারণতর হযরত আদম (আ) এর পর হযরত ইদরীস (আ) অতপর হযরত নূহ (আ)-এর বর্ণনা করে থাকেন। কিন্তু আমরা ঐ সব মতানৈক্যের প্রেক্ষিতে, যার উল্লেখ হযরত বিবরণীতে রয়েছে। সাধারণ রীতির বরখেলাফ তাঁর (ইদরীস) উল্লেখ হযরত নূহ (আ) এর পরেই করেছি। এএতদসত্ত্বেও যে সব সম্মানিত পাঠকের কাছে আমাদের এই উপস্থাপনা অপছন্দণীয় মনে হবে তারা যেন হযরত আদম (আ) এর বিবরণী পর হযরত ইদরীস (আ)-এর বিবরণী পাঠ করেন‘ অতপর হযরত নূহ (আ)-এর 

(২) যার উপর আল্লাহর অহী নাযিল হয় তিনি নবী, আর যাকে নতুন কোন শরীয়ত দেয়া হয় তিনি রসূল।

বংশ তালিকা বংশ-বিদ্যা-বিশারদরা হযরত নূহের বংশ তালিকা যেভাবে বর্ণনা করেছেন তা হলো, নূহ বিন ল্যমিক বিন মতো শালেহ বিন আখনূখ ইয়াখনুখ বিন ইয়ারুদ বিন মাহল্যয়ীল বিন কী‘নান বিন আনোশ বিন শীস (আ) বিন আদম (আ)।

ঐতিহাসিকগণ (এবং তাওরাতের বর্ণনাও) এই তালিকাকে সঠিক মনে করলেও এ ব্যাপারে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। বরং নিশ্চতার সাথে সাথে এটা বলা যেতে পারে বংশ তালিকায় হযরত আদম (আ) ও হযরত নূহ (আ) মধ্যে আরো কিছু স্তর রয়ে গেছে যার বর্ণনা ঐতিহাসিক রয়ে গেছে যার বর্ণনা ঐতিহাসিকরা (তাদের তালিকায়) করেন নি। তাওয়াতে আদম (আ) এর পয়দা এবং নূহ (আ)-এর জন্ম সেই সাথে আদমের মৃত্যু এবং নূহের জন্মের মধ্যবর্তী সময়কালের যে বর্ণনা দেয়অ হয়েছে আমরা এখানে তার বর্ণনা করাও সমীচীন মনে করি। অবশ্য এক্ষেত্রে একটি কথা স্মরণ রাখা উচিত তাওরাতের ইবরানী, সামী এবং গ্রীক ভাষার সংষ্করণ সমূহে এ ব্যাপারে অনেক মতভেদ রয়েছে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আল্লামা শেখ রহমতুল্লাহ হিন্দী কীরানা জেলা মুজাফফর নগর-এর বিখ্যাত বই ইজহারে হক অধ্যয়ন করা যেতে পারে। যাহোক তাওরাতে বর্ণিত বংশ তালিকার ছক নিম্নরূপঃ

আদমের সৃষ্টি ও নূহের জন্মের মধ্যবর্তী সময় কাল ১০৫৬ বছর।

আদম (আ) এর জীবনকাল ৯৩০ বছর

আদমের মৃত্যু ও নূহের জন্মের মধ্যবর্তী সময়কাল ১০২৬

আপনি যদি এই দুই ছকের অংশের হিসাবে সামন্চস্য বিধান করতে ইচ্ছুক হন তবে সফলকাম হতে পারবেন না। কেননা উপরে প্রদত্ত হিসাব থেকে আপনার কাছে নিশ্চয়ই এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে এসব কিছু অনমান নির্ভর। আর এ কারণেই তাওরাতের বিভিন্ন সংস্করণেই এ বিষয়ে প্রচুর মতাভেদ ও বৈপরিত্য পরিলক্ষিত হয়।

পবিত্র কুরআনে হযরত নূহ (আ)-এর বর্ণনা

পবিত্র কুরআনের কুদরতী ভাষার প্রকৃতি এ যখন তা কোন ঐতিহাসিক ঘটনাকে বর্ণনা করে তখন আপন উদ্দেশ্য উপদেশ দান এর প্রেক্ষিতে সেই ঘটনার ঐসব দিকই বর্ণনা করে যেসবের মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব। আর একমাত্র এই উদ্দেশ্য সামনে রেখেই ঘটনাকে প্রসারিত অথবা সংক্ষেপিত করা করা হয়। এবং প্রয়োজন বোধে তার পুনরাবৃত্তিও করা হয়। মোটকথা, শিক্ষা ও উপদেশ দানই কুরআনের মূল উদ্দেশ্য। আর হযরত নূহের ঘটনার এই উদ্দেশ্য সামনে রেখেই পবিত্র কুরআন মোট ৪৩ সংক্ষেপে অথবা বিস্তৃত আকারে হযরত নূহের ঘটনার বর্ণনা করেছে।

কিন্তু এই ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা শুধু সূরা আ‘রাফ, হূদ, মুমিনূন, শুআ‘রা, কামর, নূহে রয়েছে। এথেকে হযরত নূহ এবং তার কওমের যে ইতিহাস আবিষ্কৃত হয়, এখানে তাই আমাদের মুখ্য বিষয়।

নূহের কওম

হযরত নূহ (আ) এর আবির্ভাবকালে তার সমগ্র কওম আল্লাহর তাওহীদ (আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস) তথা সঠিক দীনের আলো থেকে ছিল বহু দূরে।তাদের সমাজে ও পরিবেশে আল্লাহর স্থান দখল করে নিয়েছিল হাতে গড়া প্রতিমামূর্তিরা। তাদের পূজা-অর্চনাই তখন মানব জাতির সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছিল।

আল্লাহর দিকে আহ্বান, দীন প্রচার এবং কওম কর্তৃক তা অস্বীকার শেষ পর্যন্ত আল্লাহর চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী তাদের হেদায়েত ও পথ প্রদর্শনের জন্য তাদেরই কওমের মধ্য থেকে হেদায়াতের জন্য তাদেরই রসূল হিসাবে হযরত নূহ (আ)-কে প্রেরণ করা হয়।

হযরত নূহ (আ) তাঁর কওম ন্যায়পথ ও সত্য মাযহাবের জীবন ব্যবস্থা প্রতি আহব্বান জানান। কিন্তু তারা সে আহবানে সাড়া দেয়নি। বরং ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখান করে। আমির উমরা ও সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাকে হেয়- মিথ্যা প্রতিপন্ন করার আপ্রান চেষ্টা চালায়। তাদের দেখাদেখি সাধারণ মানুষরা তাকে (নূহহে) লাজ্জিতও অপমানিত  করতে উদ্বুদ্ধ হয়। অত্যাচার-নির্যাতনের এমন কোন পদ্ধতির নেই যা হযরত নূহ (আ)-এর  উপর প্রয়োগ করেনি। তাদের মত, ধন সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি দিক  গিয়ে আমাদের উপর যার কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই যা মনুষ্যত্বের মর্তবার উপর উন্নতি হতে পারেনি অর্থাৎ ফেরেশতারূপে আমাদের কাছে আসে নি তার কি অধিকার আছে আমাদের নেতা হওয়ার আর আমাদেরই বা এমন কি ঠ্যাকা পড়েছে তার নির্দেশ পালন করার?

 যখন তারা সমাজের দুর্বল ও দরিদ্র মানবদেরকে হযরত নূহের অনুসরণ করতে দেখত তখন অত্যন্ত গর্বভরে ও ঘৃণা মিশ্রিত কন্ঠে বলত, আমরা তো আর এদের মত (ছোট লোক) নই তোমার আজ্ঞাবহ দাসে রূপান্তরিত হবে এবং তোমাকে আমাদের একচ্ছত্র নেতা বলে স্বীকার নেব? তারা মনে করত যে, এসব দুর্বল ও হেয় লোকেরা অন্ধভাবেই নূহের অনুসরণ করে চলছে। না এদের এমন বিবেকবুদ্ধি আছে কোন বিষয়কে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে বলতে পারে, আর না এমন দূরদর্শিতা আছে প্রকৃত পরিস্থিতি যাঁর বিচার করে দেখতে পারে। কখনো কখনো হযরত নূহের কথা তাদের পছন্দ হত বটে, তবে তার তাঁর উপর বার বার প্রবল চাপ সৃষ্টি করত এ বলে তুমি যদি এসব গরীব ও বাজে মানবদেরকে তোমার দরবার থেকে তাড়িয়ে দাও তবেই আমরা তোমার কথা শুনবো। কেননা এদেরকে আমরা ঘৃণা করি তাই এদের সাথে একত্রে ওঠা বসা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

হযরত নূহ (আ) ওদের কথায় একটি মাত্র উত্তর দিতেন এ বলে এটা কখনো হতে পারে না। কেননা এরা আল্লাহর খাঁটি দাস আমি যদি এদের সাথে সেই ব্যবহার করি যা তোমরা কামনা কর তবে আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় আমাদের থাকবে না। আল্লাহর কাছে আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতারই মূল্য অধিক, ধনী গরীবের প্রশ্ন সেখানে অবান্তর।

তিনি তাদেরকে আরো বলতেন, আমি তোমারেদ কাছে আল্লাহর হেদায়েতের বাণী নিয়ে এসেছি। আমি গায়েবের অদেখা বস্তুর খবর রাখি না, মালায়েকা হওয়ার দাবি করি না। আমি আল্লাহর একজন মনোনীত সংবাদ বাহক ও রসূল। মানুষকে সত্যের প্রতি আহবান করা এবং সৎপথ দেখানোই আমার একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আর পরাক্রম, গায়েবের উপর অবহিতি কিংবা মালায়েকা রূপে আবিষ্কৃত হওয়ার সাথে এর কোন সম্পর্ক বা যোগ নেই। এই দুর্বল ও নিঃস্ব লোকেরা, যারা অন্যন্ত নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর উপর ঈমান রাখে, তোমাদের চোখে হেয় ও নগণ্য কি এজন্য তারা তোমাদের মত ধন-সম্পদের অধিকারী নয়? তোমাদের মতে এ ধরনের লোক না মঙ্গল লাভ করতে পারে, আর না সৌভাগ্য। কেননা এ দুটি বস্তু ঐশ্বর্য ও পরাক্রম ব্যতীত লাভ করা অসম্ভব । কিন্তু তোমাদের অবশ্যই জেনে রাখা উচিত যে আল্লাহত তাআলা মঙ্গল ও সৌভাগ্য লাভের যে নীতি নির্ধারণ করেছেন তা ঐশ্বর্য ও পরাক্রম দ্বারা নিয়ত্রিত হয় না । প্রকৃতপক্ষে মঙ্গল সৌভাগ্য অর্জিত হয়-শান্ত মন, আল্লাহর সন্তুষ্টি, সংকল্পের বিশুদ্ধতা ও আমলে মালেহ দ্বারা।

হযরত নূহ (আ) তাদেরকে বার বার সতর্ক করে দেন এ বলে সত্যের এই আহবান এবং সৎপথ প্রদর্শনের বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন ধনসম্পদ বা পদ মর্যাদার অভিলাষি নাই। আমি তোমাদের কাছে এজন্য পারিশ্রমিক চাই না। আমার এ কর্মের সত্যিকার পুরস্কার আল্লাহর হাতে রয়েছে এবং তিনিই শ্রমের শ্র্রেষ্ঠ বিনিময়দাতা।

সূরায়ে হুদে উল্লেখিত কথোপকথন, তর্কবিতর্ক ও সত্য প্রচারের বিষয়টি অধিক সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে, তাঁর কওমের প্রধানরা, যারা ছিল সত্য প্রত্যাখানকারী,তারা বললো আমরা তোমাকে তো আমাদের মতই মানব দেখছি, আমরা তো দেখছি অনুধাবন না করে তোমার অনুসরণ করছে তারাই যারা আমাদের মধ্যে অধম এবং আমরা তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব দেখছিন , বরং তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি।

সে বললো, হে আমার কওম, তোমরা আমাকে বল, আমি যদি আমার প্রভু-প্রেরিত স্পষ্ট নির্দশনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর নিজ নিয়ামত বা অনুগ্রহ দান করে থাকেন, অথচ এ বিষয়ে তোমরা জ্ঞানান্ধ হও, আমি কি এই বিষয়ে তোমাদেরকে বাধ্য করতে পারি যখন তোমরা এটা অপছন্দ করে?

হে আমার কওম এর পরিবর্তে আমি তোমাদের কাছে ধন সম্পদ যাচঞা করি না। আমার শ্রমফল আছে আল্লাহর কাছে এবং মুমিনদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া আমার কাজ নয়, তাদের প্রভুর সাথে নিশ্চিত ভাবে তাদের সাক্ষাত ঘটবে। কিন্তু আমি দেখছি তোমরা এ অজ্ঞ কওম?

হে আমার কওম, আমি যদি তাদেরকে তাঁড়িয়ে দেই তবে আল্লাহর শান্তি থেকে আমাকে কে রক্ষা করবে? তবুও কি তোমরা অনধাবন করবে না? আমি তোমাদেরকে বলি না, আমার নিকট আল্লাহর সম্পদ ভান্ডার আছে। অদৃশ্য সম্বন্ধে আমি জ্ঞান নই, এবং আমি এটাও বলি না যে, আমি মালায়েক। তোমাদের দৃষ্টিতে যারা হেয় তাদের সম্বন্ধে আমি বলিনা আল্লাহ তাদেরকে কখনই মংগল দান করবেন না, তাদের অন্তরে যা আছে তা আল্লাহ সম্যক, জ্ঞাত। এরূপ বললে আমি অবশ্যই সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভূক্ত হব।(সূরা ‍হুদা ঃআয়াতঃ ২৭-৩১)

যাহোক, হযরত নূহ (আ) আপ্রাণ চেষ্টা করেন যাতে তাঁর দুর্ভাগ্য কওম সত্য অনধ্বান করতে পারে এবং আশ্রয় নিতে পারে, আল্লাহর রহমতের ছায়ায়। কিন্তু তার সব চেষ্টা ব্যর্থ হলো। তারা তার কথা শুনলো না বরং তিনি তাদের মধ্যে যত জোরেসোরে সত্য প্রচার করতে লাগলেন তারা তত দৃঢ়ভাবে তার দুশমনী করতে লাগলো। অত্যাচার নির্যাতনের এমন কোন পদ্ধনি নেই যা তারা হযরত নূহের উপর প্রয়োগ করেনি। তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা জনসাধারণকে পরিষ্কার বলে দিল তোমরা কখনো ওয়াফ সূয়া; ইয়ূস, ইয়াউক‘ এবং নাসরের মত দেবতাকে ত্যাগ করবেন না। উপরোক্ত বিষয়ের বিষদ বর্ণনা রয়েছে সূরা নূহে।

নূহকে আমি প্রেরণ করেছিলাম তার কওমের প্রতি এই নির্দেশসহঃ তুমি তোমার কওমকে সতর্ক কর তাদের প্রতি শাস্তি আসার পূর্বে। সে বলেছিল, হে আমার কওম আমি তো তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী এই বিষয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে ও তাঁকে ভয় করবে এবং আমার আনুগত্য করবে, তিনি তোমাদের পাপ মাফ করবেন এবং তিনি তোমাদেরকে সুযোগ দেবেন এক নিদিষ্ট কাল পর্যন্ত আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত কাল উপস্থিত হলে তা বিলম্বিত হয় না যদি তোমরা এটা জানতে পারতে।

সে বলেছিল, হে আমার প্রভু, আমি তো আমার কওমকে দিনরাতি আহবান করেছি কিন্তু আমার আহবান ওদের পলায়ন প্রবণতা বৃদ্ধি করেছে। আমি তো আমার কওমকে দিনরাতি আহবান করেছি। কিন্তু আমার আহবান ওদের পলায়নপ্রবনতাই বৃদ্ধি করেছে। আমি যখনই ওদেরকে আহবান করি যাতে তুমি ওদেরকে মাফ কর, ওরা কানে আংগুল দেয় এবং বস্ত্র ঢেকে ফেলে ওদেরকে মুখমন্ডল এবং সত্য প্রত্যাখ্যানে জেদ করতে থাকে ও অতিশয় উদ্ধত্য প্রকাশ করে। 

অতপর আমি ওদেরকে আহবান করেছি প্রকাশ্যে, পরে আমি সেচ্ছায় প্রচার করেছি ও উপদেশ দিয়েছি নির্জনে। বলেছি, তোমাদের প্রভুর কাছে মাফ চাও তিনি তো মহা ক্ষমাশীল।(সূরাঃ নূহঃআয়াতঃ১-১০)

ওরা বললো তোমরা ত্যাগ করো না তোমাদের দেবদবীকে । ত্যাগ করে না ওয়াদ্দ সূয়া, ইয়াষূস, ইয়াউফ ও নাসরকে। (সূরা নূহঃ আয়াতঃ ২৩)

এবং শেষ পর্যন্ত চ্যালেন্জ দিয়ে বলতে লাগলো, হে নূহ, আমাদের সাথে আর বিতন্ডা করো না, আমাদের এই অবাধ্যতার কারণে যদি তোমার প্রভুর আযাব নিয়ে আসতে পার তবে নিয়ে আস।

 তারা বললো, হে নূহ, তুমি আমাদের সাথে বিতন্ডা করেছ আমাদের সাথে অতিমাত্রায়, সুতরাং তুমি সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যার ডর দেখাচ্ছে তা নিয়ে এস। (সূরা হুদঃ আয়াতঃ ৩২)

হযরত নূহ (আ) উত্তরে বললেন আল্লাহর শান্তি তো আমাদের অধিকারে নেই। এটা তো তারই অধিকারে যে আমাকে রাসূল করে প্রেরণ করেছেন। সে ইচ্ছা করলে সব কিছুই ঘটাতে পারে।

সে বললো, ইচ্ছা করলে আল্লাহই তা তোমাদের কাছে উপস্থিত করবেন এবং তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না। (সূরা হুদঃ আয়াত ৩৩) 

যাহোক, হযরত নূহ (আ) যখন তার কওমের হেদায়েত থেকে নিরাশ হয়ে গেলেন এবং তাদের একগুয়েমির দিকটি তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল এবং কুরআনের ভাষায় তাঁর সাড়ে নশ বছরের তাবলীগ ও সত্যের প্রতি আহবান তাদের উপর কোন প্রভাব বিস্তার করল না তখন তিনি অধিক দুঃখিত ও মর্মাহত হলেন। এমতাবস্থায় আল্লাহতালা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, 

নূহের প্রতি প্রত্যাদেশ হয়েছিল যারা ঈমান এনেছে, তারা ছাড়া তোমার কওমের জন্য কেউ কখনো বিশ্বাস করবে না। সুতরাং তার যা করে সেজন্য তুমি ক্ষোভ করো না।(সূরা হুদঃ আয়াতঃ ৩৬)

যখন হযরত নূহ (আ) জানতে পারলেন তার সত্য প্রচারের কাজে কোনরূপ ঢিলিমি হয়নি, বরং এই অস্বীকার কারীদের গ্রহণ ক্ষমতার অভাব এবং অবাধ্যতার কারণেই এমনটি হয়েছে তখন তিনি তাদের এই দুস্কর্ম ও অসদাচরণে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানালেন, হে আমার প্রভু, পৃথিবীতে সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কোন গৃহবাসীকে অব্যাহতি দিও না। তুমি ওদেরকে অব্যহতি দিলে ওরা তোমাদের বিভ্রান্ত করবে এবং জন্ম দিতে থাকবে কেবল দৃস্কৃতিকারী ও প্রত্যাখ্যানকারী। (সূরা নূহঃ আয়াতঃ ২৬-২৭)

গোপন মাসাআলা

আমাদের ইউটিউব ইউটিব চ্যানেল

Spread the love

Leave a Comment