হযরত মূসা (আঃ)-এর ভগ্নী

হযরত মূসা (আঃ)-এর ভগ্নী

মূসা (আঃ)-এর ভগ্নীর নাম নিয়ে মতভেদ আছে।অনেকের মতে মরিয়ম। আবার কারো মতে কুলসুম। আল্লাহ্ তাআলার আদেশ পেয়ে হযরত মূসা (আঃ)-কে সিন্ধুকে ভরে ভাসিয়ে দিলেন।সঙ্গে সঙ্গে মরিয়মকে নির্দেশ দিলেন সিন্ধুক ভেসে কোথায় যায়,অবশেষে কোথায় যায় তা দেখবার জন্য।

সিন্ধুকটি সাগরে ভাসতে ভাসতে ঢেউয়ের তালে তালে নাচতে নাচতে জালিম বাদশাহ্ ফেরআঊনের ঘাটে এসে ভিড়ল।ফেরআঊনের লোকেরা কৌতুহলী মনে সিন্ধুক উঠিয়ে খুলে ফেলল।সিন্দুকে তারা সুন্দর ফুটফুটে সোনালী চেহারার এক ছেলে দেখতে পেল।

ছেলেটিকে নিয়ে তারা ফেরআঊনের সামনে হাজির হলো। নিষ্ঠুর জালিম বাদশাহ্ ছেলেটিকে কতল করার ইচ্ছা করল।কিন্তু ফেরআঊনের নেকবখত বিবি ছেলেকে কতল করতে দিল না। তার মাতৃ সুলভ সস্নেহে ছেলেকে আপন পুত্র রুপে গ্রহণ করলেন।

এতে বাধ্য হয়ে ফেরআঊন ও রাজি হয়ে গেল। কিন্তু ছেলেকে দুধ পান করানোর দরুন সমস্যা দেখা দিল। ছেলে কারো স্তন পান করতে চায় না। সকলেই এই ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়ল। সকলেই মাথায় হাত দিয়ে চিন্ত করতে লাগল কি করা যায়?এই সময় মরিয়ম তথায় উপস্থিত হলেন।

আল্লাহর রহমতে তার মাথায় এক চূড়ান্ত বুদ্ধি হল। তিনি বললেন,আমি তোমাদের নিকট এমন এক দুধ মায়ের সন্ধান দিতে পারি, যার দুধ অতি উত্তম এবং তিনি সন্তান পালনেও বিশেষ পারদর্শী। এই বলে তিনি মূসা (আঃ)-এর মাতার নাম বলে দিলেন। তাকে ডেকে আনা হল। ছেলে তারই দুধ পান করতে লাগল। অতঃপর ছেলের লালন-পালন মূসা (আঃ)-এর মাতার ‍উপরই অর্পণ করা হল। এভাবে আল্লাহ তাআলা স্বীয় পুর্বকৃত ওয়াদা পুরা করলেন।

হযরত মূসা(আঃ)-এর ভগ্নী অত্যন্ত  বুদ্ধিমতি নারী ছিলেন। তাই তিনি অতি সুষ্ঠু কৌশলে, তীক্ষ বুদ্ধির বলে অত্যন্ত নিরাপদে ছেলের দুধ-মার স্থলে প্রকৃত মাতাকেই নিযুক্ত করতে সক্ষম হলেন। দুশমনেরা উপস্থিত থেকেও কোন কিছু টের পেল না। অতএব ,দেখা যাচ্ছে যে আক্কল অত্যন্ত মুল্যবান বস্তু।আর সুবুদ্ধি বলে কাজ করতে পারলে তার পরিণাম অতি উত্তম।

Leave a Comment