ঐক্য প্রতিষ্ঠার মহানবীর কর্মপন্থা - The Prophet's way of establishing unity
ঐক্য প্রতিষ্ঠার মহানবীর কর্মপন্থা : আল্লাহ ঐক্যকে পছন্দ করেন, এজন্য মদীনা শরীফ এসে আল্লাহর নবী প্রথমেই বললেন হে আউস-খাজরাজ, অনেক দিন থেকে তোমরা যুদ্ধ করছ, তোমরা যুদ্ধ বন্ধ করে দাও, আজকে মদীনাতে তোমরা ভাই ভাই, ইসলাম তোমাদেরকে ভাই ভাই করে দিয়েছে, ইবনে হিশামের ইতিহাস পড়ে দেখুন, ইবনে কাছিরের আল- বেদায়া ওয়ান্নেহায়া পড়ে দেখুন।
আল্লাহর নবী মদীনাতে এসে প্রথম কাজ করেছেন,
اخا بين المهاجرين والأنصار
কেউ মক্কার মানুষ কেউ মদীনার কোন পার্থক্য নেই। ইসলাম তোমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে দিয়েছে তোমরা ভাই ভাই, দু'জন দুজনে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সৃষ্টি করেছেন । ঐক্যবদ্ধ করে দিয়েছেন। শুধু মুসলমানদের সাথে নয়, পুরো মদীনার মধ্যে যারা ইহুদী-খ্রীষ্টান ছিল সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আল্লাহর নবী একটি সংবিধান রচনা করলেন, এটাকে বলা হয় ‘আল্লাহর নবীর সংবিধান’। সবাইকে বললেন- হে ইহুদী! হে খ্রীষ্টান! হে মুসলমান!! যারা মদীনায় বাস কর সকলে একই দেশের নাগরিক, এক সংবিধানের উপরে তোমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাও। আল্লাহর নবী খ্রীষ্টানদের সাথে ভাল ব্যবহার করলেন, ইহুদীদের সাথে ভাল আচরণ করলেন, মুসলমানদেরকে ভাই ভাই করলেন, এটা হচ্ছে ঐক্যের শিক্ষা ।
অনৈক্যের কু-ফল
মুসলমানরা যখন ঝগড়া-বিবাদ করবে, দাঁড়ানো-বসা নিয়ে মারামারি করবে, লম্বা টুপি গোল টুপি নিয়ে মারামারি করবে, কাটা জামা আর গোল জামা নিয়ে, দ্বোয়াল্লিন আর যোওয়াল্লিন নিয়ে মারামারি করবে, সারা পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি তাদেরকে ধিক্কার দেবে আর বলবে, পঁচা জাতি, মূর্খ জাতি, অজ্ঞ জাতি । আর যখন ঐক্যবদ্ধ হবে ইহুদী-খ্রীষ্টান তাদেরকে ভয় পাবে। আল্লাহর নবী বলেন- এমন একটি সময় আসবে পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি ঐকবদ্ধ হয়ে তোমাদের উপর আঘাত করবে, সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলুল্লাহ্! তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হব? তিনি উত্তরে বললেন- না, সংখ্যায় মুসলমানরা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশী হবে, কিন্তু পানির উপর যেমন কচুরি পানা থাকে, ওগুলো যেমন দূর্বল, তদ্রুপ মুসলমানরাও ঈমানের দিক থেকে দুর্বল থাকবে । মারামারি- হানাহানি করবে, কাফেরদের মনে মুসলমানদের যে ভয়-ভীতি ছিল সেটা আল্লাহপাক কেড়ে নিয়ে যাবে। কোন জাতিই তাদেরকে আর ভয় পাবেনা।
ইহুদীরা মারবে ফিলিস্তিনে, খ্রীষ্টানরা মারবে ইরাকে, আফগানিস্তানে, বার্মিজরা মারবে আরাকানে, হিন্দুরা মারবে কাশ্মীরে, একেক জায়গায় একেক জাতি মুসলমানদের আঘাত করবে, কোন জাতিই আর ভয় পাবেনা । ঐক্য ভ্রাতৃত্বকে বিনষ্ট করার কারণে প্রতিটি জাতিই তাদেরকে আঘাত করবে। আপনার সাথে আমার অমিল থাকতে পারে, মতের অমিল থাকতে পারে, রাজনৈতিক দিক থেকে ভিন্ন মত থাকতে পারে, কিন্তু আমরা সকলে ইসলামের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ, একজন আরেক জনকে শ্রদ্ধা করব, সালাম দেব, এক কাতারে দাঁড়িয়ে আমরা নামায আদায় করব । আমরা ভাই ভাই, এমন নয় যে, আপনাকে দেখলে আমি চেহারা ফিরিয়ে নেব, এটা আমার ফেরকার লোক না, আমার দলের লোক না ।
দলের লোক হলে গলায় গলা মিলাব, আর আমার দলের লোক না হলে, তাকে সালাম দেবনা, এটা ইসলামের আদর্শ নয়। বাংলাদেশে আজ কয়েক বছর ধরে মুসলমানদেরকে বিভক্ত করার জন্য একবার গ্রেনেড- একবার বোমা হামলা, বিভিন্ন অজুহাত সৃষ্টি করে মুসলমানদেরকে দ্বিধাবিভক্ত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। আঞ্চলিক-জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পত্রিকায় বড় বড় করে হেডিং করা হচ্ছে। মৌলবাদ, জঙ্গীবাদ সহ নানা পরিভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। মুসলমান দ্বিধাবিভক্ত। তারা চায়-ডিভাইড, তোমরা বিভক্ত হয়ে যাও, তখন নিজেরা বিচার করতে পারবেনা। তখন বলবে এফ,বি,আই আস, হ্যারি কে টমাস আস! আমরা তো বিচার করতে পারছিনা আমাদেরকে একটু বিচার করে দাও।