Narrow selection

News

12/04/2023

রক্তাক্ত ফিলিস্তিন, গুজরাট, লেবানন ও আমাদের করণীয় - Bloody Palestine

রক্তাক্ত ফিলিস্তিন, গুজরাট, লেবানন ও আমাদের করণীয়

نَحْمَدُهُ وَتُصَلَّى عَلَى رَسُولِهِ الكَرِيمِ أَمَّا بَعْدُ فَاعْوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ ـ بِسمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَقَاتْلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةً ويَكُونَ الدِّينُ كُلَّهُ لِلَّهِ الحَ وَقَالَ عَلَيْهِ الصَّلوةُ وَالسَّلَامُ إِذَا تَرَكْتُمُ الجِهَادَ فَسَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ الذُّلَّةَ حَتَّى تَرْجِعُوا إِلَى دِينِكُمُ اى إِلَى

جِهَادِكُمْ أَوْ كَمَا قَالَ عَلَيْهِ الصَّلوةُ وَالسَّلَامُ .

..ছাত্র সংসদ কর্তৃক আয়োজিত আজকের মহতী জলসার মান্যবর সভাপতি, বিচক্ষণ বিচারকমণ্ডলী, সুদক্ষ পরিচালক ও উপস্থিত সুপ্রিয় শ্রোতাবৃন্দ। আজকের আলোচনার বিষয় “রক্তাক্ত ফিলিস্তিন, গুজরাট, লেবানন ও আমাদের করণীয়"।

প্রিয় সুধী!

পৃথিবীতে এখন শুধু দুইটি প্লাটফর্ম রয়েছে। একটি শোষকের আরেকটি শোষিতের, একটি অত্যাচারীর, আরেকটি অত্যাচারিতের। একটি জালেমের আরেকটি মাজলুমের। এক পক্ষে ইসলাম ও অন্য দিকে সমস্ত কুফরী শক্তি। আর যত মাজলুম, দুর্বল, শোষিত এ পৃথিবীতে রয়েছে তার সিংহ ভাগ হচ্ছে মুসলমান। আফগান, আরাকান, বসনিয়া, চেচনিয়া, কাশ্মীর, গুজরাট, ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বের যে কোন রাষ্ট্রের দিকে তাকান সেখানেই নির্যাতিত মুসলমান। মুসলমানদের চির শত্রু ইয়াহুদী-খৃস্টান-হিন্দু চক্র এরা

(একই জাতি) বাস্তব রূপ হিসেবে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য মুসলিম গণহত্যার যে বর্বর পদ্ধতি গ্রহণ করেছে তারই জ্বলন্ত প্রমাণ এসব গণহত্যা। আরব সাম্রাজ্যের বিলাসিতা, উদাসীনতা ও মার্কিন মিত্রতার সুযোগে মার্কিনীদের সহযোগিতায় ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনের ভূমিতে মুসলমানের চিরশত্রু ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল জন্ম লাভ করে। তারপর থেকে সেখানে চলতে থাকে একের পর এক ইয়াহুদী তান্ডব। যার সর্বশেষ শিকার জেনিন উদ্বাস্তু শিবির। সেখানে হাজার হাজার নারী, পুরুষ, শিশুকে হত্যা করা হয়।

মায়ের সামনে ছেলেকে নির্মমভাবে জবেহ করা হয়। হত্যা করা হয় কোলের শিশুকে। হাজার হাজার গ্রাম, ঘর, বাড়ী উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়। নির্বিচারে আবালবৃদ্ধবনিতাদের ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। আর ঐ লাশগুলো বুলডোজার দিয়ে পিষে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। অসহায় মা-বোনদেরদের ইজ্জত হরণ করা হয়। ইদানিং শুধু জেনিন নয় বরং রামাল্লা, পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা, জেনিনসহ সমস্ত ফিলিস্তিনে মুসলমানদেরকে গুলি করে হত্যার মহড়া চালাচ্ছে। গ্রেফতার করে আটকে রাখছে ফিলিস্তিনের মন্ত্রী, এম.পি, নেতাকর্মীদের ।

প্রিয় মুজাহিদ ভাইয়েরা আমার!

মুসলিম গণহত্যার আরেক মহড়া প্রদর্শিত হয় ভারতের গুজরাটে। ১৯৪৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ভারতে কয়েক হাজার দাঙ্গা হয়েছে। আর গুজরাটে সাম্প্রতিক দাঙ্গার সূত্রপাত হয় ১৯৮৬ সালের ৯ জুলাই। এদিন বিনা উস্কানিতে আমার ৫০ জন মুসলমান ভাইকে শহীদ করা হয়। হাজার হাজার মুসলমানদের ভিটেমাটি ছাড়া করা হয়। সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০০২ সালে আবার উগ্রপন্থী হিন্দুদের হিংস্র থাবার শিকার হয় অসহায় মুসলমানরা। শিবসেনার নিষ্ঠুর হায়েনারা বহু ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। আর অজস্র মুসলমানকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে মারা হয়। যুবকদের ধরে ধরে হত্যা করা হয়।

হাজার হাজার বাড়িঘর লুটপাট করা হয়। বহু মসজিদ ও কবরস্থান ধ্বংস করে দেওয়া হয়। শত শত কুরআন শরীফ পুড়ে ফেলা হয়। মুসলমানদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলার মাধ্যমে খুনজখম ও লুটপাটের মহড়া চালানো হয়। ছোট ছোট মেয়েদেরকে রাস্তায় উলঙ্গ করে ধর্ষণ করা হয়। অসহায় তরুণীদের ঘর থেকে বের করে ধর্ষণ করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। তাদের আর্তচিৎকারে গুজরাটের আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়। তারা চিৎকার করছে-

رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا الحَ

হে আল্লাহ! এ জালেম জনপদ থেকে আমাদের বের করে দিন এবং আমাদের জন্য রক্ষক পাঠিয়ে দিন। -সূরা নিসা : ৭৫

কোথায় আজকে মানবতাবাদের ধ্বজাধারীরা। একজন কাফের মারা গেলে মানবতা বিলুপ্তির নামে সারা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে যায়। আর হাজার অগ্নিদগ্ধ অসহায় মুসলমানের আর্তচিৎকার তাদের কান পর্যন্ত পৌঁছে না।

প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা!

শুধুই কি ফিলিস্তিন আর গুজরাট? খুলে দেখুন পত্রিকার পাতা (রহমত-২০০২) কানাডিয়ান প্রেস কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে ২০০২ জানুয়ারী পর্যন্ত গত ৯০০ বছরে ৪৫ লাখ মুসলমানকে শহীদ ও 80 লাখ মুসলমানকে বাস্তুহারা করা হয়েছে। মুসলমানদের উপর এ জুলুম নির্যাতনের একটিই কারণ যা পবিত্র হাদীসে ইরশাদ হচ্ছে-

إِذَا تَرَكْتُمُ الْجِهَادَ فَسَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ الذِّلَّةَ الخ

তোমরা যখন জিহাদ ছেড়ে দিবে, জিল্লতির শেষ সীমায় তোমাদেরকে পৌঁছে দেওয়া হবে। আবার গর্বের সাথে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে যদি জিহাদের পথে ফিরে আস।

শহীদী কাফেলার সাথীরা আমার!

ইসলামের এ দুর্দশা দূর করতে হলে কাঁথামুড়ি দিয়ে শুয়ে থেকে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখলে হবে না। বরং এর জন্য চাই কার্যকরি পদক্ষেপ। সে জন্য সর্বপ্রথম আমাদেরকে জনগণের মধ্যে আত্মসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। অতীত ইতিহাস তাদের সামনে তুলে ধরে কাফেরদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। সে জন্য তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে যেতে হবে। সেই সাথে নিজেকে একজন কলম সৈনিক, বাগ্মী ও সমর সৈনিক হিসেবে যোগ্য করে গড়তে হবে। রাজনৈতিক শক্তি ও সমরশক্তিতে বলীয়ান হয়ে কাফেরদের মোকাবিলা করতে হবে। আত্মম্ভরিতা ও আত্মকলহ দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে কুফরী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাদের সমস্ত পণ্য বর্জন করতে হবে এবং সর্বশেষ তাদের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে হবে।

প্রিয় বন্ধু!

যে আল্লাহ তারিককে দিয়ে স্পেন জয় করিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন কাসিমকে দিয়ে সিন্ধু জয় করিয়েছেন। সুলতান মাহমুদকে দিয়ে সোমনাথ মন্দিরকে মসজিদে রূপান্তর করেছেন সে আল্লাহ ও স্থায়ী এখনও জীবিত আছেন, সে আল্লাহ সাহায্যকারী এখনও আমাদের অপেক্ষায় আছেন, প্রয়োজন শুধু আরেকবার গর্জে উঠার ।

ওহে তারিকের উত্তরসূরীরা! মুহাম্মদ বিন কাসিম, সুলতান মাহমুদের উত্তরসূরীরা তোমার ভাইয়ের রক্তের হেফাজত করার জন্য, তোমার বোনের ইজ্জত রক্ষা করার জন্য গর্জে উঠো আরেকবার। কুফরী শক্তির উপর বিদ্যুৎ গতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার বিষদাঁত ভেঙ্গে চুরমার করে দাও। প্রতিষ্ঠিত করো আল্লাহর রাজ। তাহলেই হবে আজকের আলোচনা সার্থক। মুসলমানদের উদ্দেশ্যে কবির বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে-

বাজিছে দামামা বাঁধরে আমামা শির উঁচু করি মুসলমান, দাওয়াত এসেছে নয়া যামানার ভাঙ্গা কেল্লায় উড়ে নিশান। মহান আল্লাহ আমাদের কবুল দান করুন। আমীন।

نَصْرٌ مِّنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ

 

 

Design theme color

Primary color


Alternative color