Narrow selection

News

12/04/2023

জাতিসংঘ এর বাস্তব রূপ - The reality of the United Nations

জাতিসংঘ এর বাস্তব রূপ - The reality of the United Nations

نَحْمَدُهُ وَنُصَلَّى عَلَى رَسُولِهِ الْكَرِيمِ أَمَّا بَعْدُ! فَاعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ بِسمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى اولياء الخ صَدَقَ اللهُ الْعَظِيمِ

জাগো মুসলিম সারা দুনিয়ার ঘুমিও না আর ঘরে, জালিমের তরে আর কতকাল প্রাণ দিবে অকাতরে?

কর্তৃক আয়োজিত আজকের সভার

আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আপনারা সকলেই অবগত আছেন, আর তা হচ্ছে “জাতিসংঘ আল কুফরু মিল্লাতুন ওয়াহেদা-এর বাস্তব রূপ" উক্ত বিষয়ে আমি কয়েকটি পয়েন্ট আলোচনা করব।

১. জাতিসংঘ কী ও কেন?

২. আল কুফরু মিল্লাতুন ওয়াহেদার বাস্তবরূপ। ৩. এর সমাধান কী?

এ তিনটি বিষয়ের উপর আমি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপনাদের সামনে সারগর্ভ ও তথ্যবহুল আলোচনা তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ, যে আলোচনার মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়ে যাবে জাতিসংঘের স্বরূপ। উন্মোচিত হবে তার প্রকৃত চেহারা। জানা যাবে কিভাবে তারা শান্তির নামে অশান্তি সৃষ্টি করে। কীভাবে তারা মুসলমানদের খতম করার জন্য গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলমানদের মাঝে বিবাদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কীভাবে তারা রচনা করছে মুসলিম বিশ্বের রক্তাক্ত প্রতিচ্ছবি। কীভাবে এই ইহুদী সংঘের কোপানলে পড়ে মজলুম মুসলমানদের করুণ আর্তনাদ আর আহাজারী কানে ভেসে আসছে। কীভাবে মুসলমানরা তপ্ত লহুর মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে?

এসব কিছু জানতে হলে আমাদের বিবেককে ঘুরিয়ে নিতে হবে বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ের দিকে। এ সময়ে শুরু হয়েছিল ইসলামী জাগরণের পূর্ণ গণজোয়ার। ইসলামের উত্থানে সারা বিশ্বে কুফরী শক্তি যখন 'সংঘবদ্ধ মৌলবাদ ঠেকাও' বলে যখন সারা দুনিয়ার ইসলামবিরোধী শক্তি উঠে পড়ে লেগেছে ঠিক তখনি মুসলমানদের চোখে ধুলা দিয়ে ১৯৩৯ সালের ২য় বিশ্ব যুদ্ধের পর বিধ্বস্ত পৃথিবীতে তথাকথিত শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে সকল কুফরী শক্তি ইসলামী গণজাগরণ প্রতিরোধের জন্য ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ সাইনবোর্ডে ঐক্যবদ্ধ হয়। তারা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যাত্রা শুরু করে আর অপরিণামদর্শী মুসলমানরা তাদের মিষ্টি কথা শুনে তাদের ষড়যন্ত্রের জালে আবদ্ধ হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে প্রতিটি মুসলিম জনপদে নেমে আসে নির্যাতনের কালো পাহাড়।

সংগ্রামী কাফেলার বন্ধুরা আমার!

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার শ্লোগান ছিল বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, বিশ্বের সকল মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। জাতিসংঘ সনদের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল “বিশ্বের যে কোন প্রান্তেই জাতি, ধর্ম, গোত্র, বর্ণ নির্বিশেষে যে কেউ নির্যাতিত হবে সেখানেই জাতিসংঘ তাকে সাহায্য করবে।” কিন্তু গত ৬০ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই যে, পদে পদে জাতিসংঘ এই মূলনীতির প্রকাশ্য লংঘন করে যাচ্ছে এবং অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে আরো ব্যাপক আকারে লংঘন করবে।

তাইতো আমরা দেখতে পাই, ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ আরবদের রক্ত-মাংসের উপর সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় বিশ্ব মানবতার দুশমন ইহুদীবাদী ইসরাঈল নামক জারজ রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। ঐ ইহুদীরা আমেরিকা, রাশিয়া, বৃটেনসহ সাম্রাজ্যবাদীদের প্রত্যক্ষ মদদে সামরিক শক্তিতে সুসংহত এবং পরমাণু শক্তির অধিকারী হয়ে পাশ্চাত্যের সমর্থন নিয়ে রাতের আঁধারে লাখ লাখ মুসলমানকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। ফিলিস্তিন থেকে মুসলমানদের উচ্ছেদ করে নতুন নতুন ইহুদী বসতী স্থাপন করতে থাকে। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাঈল যুদ্ধে নির্লজ্জভাবে জাতিসংঘ ইসরাঈলকে সাহায্য করেছিল।

কসভো ও বসনিয়ায় নগ্ন সার্বীয় আগ্রাসনের ফলে কসভো ও বসনিয়ার মাটি মুসলমানদের রক্তে লাল হয়ে উঠে। তবুও জাতিসংঘ ঐ জালেম সার্বীয়দের সাহায্য করে। এমনিভাবে ফিলিপাইন ও মায়ানমারে সামরিক জান্তারা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করে দেশ থেকে বের করে দেয়; কিন্তু এ সকল ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কাশ্মীরে বিল-ঝিলের পানি মুসলমানদের রক্তে লাল হচ্ছে প্রতিদিন । আগুনের লেলিহান শিখায় আজও জ্বলে অনেক মুসলমানের বাড়ীঘর।

কাশ্মীরী মুসলমানদেরকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে; কিন্তু জাতিসংঘ তার প্রতিবাদ করছে না; বরং দখলদার ভারতকে সাহায্য করে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৬০ বছরেও কাশ্মীরী জনগণ স্বাধীনতা পেল না। অথচ আন্তর্জাতিক আইনে আছে কোন নির্দিষ্ট এলাকার সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের দাবিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হবে; কিন্তু কাশ্মীরের অধিকাংশ মুসলমান তাদের এ দাবির ফল পাচ্ছে না।

অথচ একটি মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়াকে ভেঙ্গে অল্প দিনের মধ্যেই জাতিসংঘ আমেরিকার মদদে পূর্ব তিমুর নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে।

মুসলিম জাতির সিপাহসালার বন্ধুরা!

লক্ষ্য করুন, চীনের দিকে সেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা সিংকিয়াংয়ে মুসলমানদের কণ্ঠ রোধ করে দিয়েছে। রাশিয়া এখনও চেচনিয়ার মুসলমানদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে। কিন্তু জাতিসংঘের এ ব্যাপারে কোন মাথাব্যাথা নেই। যেহেতু চেচেনরা মুসলমান। জাতিসংঘের কাজ শুধু যেখানে মুসলমান, সেখানে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া- এটা বললে মোটেও ভুল হবে না। যেমন আলজেরিয়ায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট জয়ী হলে জাতিসংঘের দানবেরা সরকার গঠন করতে দেয়নি ।

আমাদের দেশের ইতিহাসে দেখতে পাই যে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে জাতিসংঘ ভূমিকা রাখলেও যুদ্ধের পূর্বে কিছুই করেনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন নির্বাচনে জয়ী হলেন তখন পাকিস্তানীরা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করে; কিন্তু জাতিসংঘ পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর উপর কোন প্রকার চাপ সৃষ্টি করেনি। ফলে বাংলাদেশ সৃষ্টির লগ্নে ঝরে গেল ২৫-৩০ লাখ মুসলমানের জীবন।

হে জাগ্রত মুসলমানেরা!

এবার আসুন দেখাযাক আফগানিস্তান ও ইরাকের প্রতি জাতিসংঘ কী অবিচার করল। ২০০১ সালে ১১ই সেপ্টেম্বর আমেরিকার টুইন টাওয়ার এবং পেন্টাগনে সন্ত্রাসীরা বিমান হামলা চালাল; আর দায়ী করা হল মুসলমানদের। অথচ ঐ বিমান হামলাগুলোতে একজন মুসলমানও ছিল না। শেষ পর্যন্ত আমেরিকা দায়ী করল উসামা বিন লাদেনকে; কিন্তু উসামা বিন লাদেন আফগানিস্তানের মেহমান বলে প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ ওমর তাকে আমেরিকার হাতে সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানালে আমেরিকা আফগানিস্তানের উপর আকস্মিক অভিযান চালানোর হুমকি দেয়। অবশেষে হামলা করেও বসে।

এ হামলার জন্য জাতিসংঘের এক অধিবেশনে আমেরিকাকে অনুমতি দেয়া হয়; অথচ নিয়ম হল কুটনৈতিকভাবে সমাধান করা অথবা জাতিসংঘের সমন্বিত বাহিনী দ্বারা যুদ্ধ প্রতিরোধ করা; কিন্তু জাতিসংঘ তার উল্টা করল। ৭ই অক্টোবর আমেরিকা আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে লাখ লাখ মুসলমানকে শহীদ করল। যারা বন্দী হল তাদেরকে এ যাবত কালের নিষ্ঠুর কারাগারে বন্দী করে নির্যাতনের স্টীমরোলার চালানো হচ্ছে। অথচ জাতিসংঘ চুপ করে রয়েছে। আমেরিকা যুদ্ধবন্দীদের জন্য জেনেভা কনভেনশনের আইন অমান্য করে। সব ধরনের মানবাধিকার লংঘন করছে। অথচ জাতিসংঘ আমেরিকার বিরুদ্ধে কোন ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি কোন অবরোধ আরোপও করেনি। বিপরীতে কোন মুসলিম দেশের সামান্য ভুলের জন্য একাধিক অবরোধ আরোপ করা হয়।

উপস্থিত দ্বীন দরদী বন্ধুগণ!

এবার আমরা নজর দেই ইরাকের দিকে। ইরাক ছিল একটি স্বাধীন সার্বভৌম মুসলিম রাষ্ট্র। ইরাকের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা সাদ্দাম হোসেন। কিন্তু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় জালিম জর্জ ডব্লিউ বুশের দাবি ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে। সাদ্দামের সাথে আল-কায়েদার সম্পর্ক আছে। ইরাকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা দরকার ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই সাদ্দামকে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্বাসনে যাওয়ার হুমকি দেয়; কিন্তু সাদ্দাম হোসেন দেশ রক্ষার জন্য নিজেকে ইরাকের আজীবন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। গণভোটের মাধ্যমে সাদ্দাম আবারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

সাদ্দাম হোসেনের এই ঘোষণার পর নির্লজ্জ আমেরিকা জাতিসংঘকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২০শে মার্চ ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসী আক্রমণ চালায়। এই যুদ্ধে আমেরিকা হাজার হাজার টন নাপাম বোমা নিক্ষেপ করে লাখ লাখ ইরাকীকে হত্যা করতে থাকে। অথচ আন্তর্জাতিক আইন হচ্ছে- কোন দেশ, অন্য কোন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। আর এমনটি কেউ করলে তার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ব্যবস্থা নিবে।"

কিন্তু জাতিসংঘ আমেরিকার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়। তাই সারা বিশ্বের মানুষ জাতিসংঘের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কী হবে এই জাতিসংঘ দিয়ে? জাতিসংঘ এর কোন উত্তর দিতে পারেনি, পারবে না। তাই অনেক সমালোচক জাতিসংঘকে মরা ইঁদুরের সাথে তুলনা করেন। কারণ, জাতিসংঘ দিয়ে সারাবিশ্বের মানুষের কোন নিরাপত্তামূলক কাজ হয়নি। যেহেতু আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থা IAEA ( International Atomic Energy Agency) প্রধান পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ কমিটি দ্বারা প্রমাণ করেছিলেন ইরাকে কোন গণবিধ্বংসী অস্ত্র নেই। তারপরও আমেরিকা এই অবৈধ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়। আর আমেরিকার সাথে সহযোগিতা করে বিভিন্ন কাফের শক্তি; কিন্তু জাতিসংঘের এই নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় আজও সারা বিশ্বের দুর্বল রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

ইতিহাসে আমরা এমন আরো অনেক ঘটনা পাই, যেখানে জাতিসংঘ মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাফের শক্তিকে সাহায্য করে। যেমন- ইরানের পারমাণবিক জ্বালানীর বিরুদ্ধে তা আবারো স্পষ্ট হচ্ছে।

সংগ্রামী বন্ধুরা আমার!

আজ আমাদের সামনে সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, জাতিসংঘের সাইনবোর্ডে সকল সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আর আধিপত্যবাদী ও ইহুদী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ইসলামের গণজোয়ার প্রতিরোধ করার জন্যই। সুতরাং আমরা এই সংঘকে সার্বজনীন জাতিসংঘ বলে মেনে নিতে পারি না। এটা কখনোই সার্বজনীন জাতিসংঘ নয়। তাই আমি বলতে চাই-

১. এই সংঘ ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী সংঘ। ২. এই সংঘ খৃস্টবাদী সংঘ।

৩. এই সংঘ বিশ্ব মানবতার দুশমন ইয়াহুদী সংঘ।

৪. এই সংঘ আন্তর্জাতিক প্রতারক সংঘ।

৫. এই সংঘ সম্পূর্ণ ব্যর্থ সংঘ।

৬. এই সংঘ আল কুফরু মিল্লাতুন ওয়াহেদা-এর বাস্তব রূপ ।

হে ইসলামী রেঁনেসার অগ্রপথিক বন্ধুগণ! আমাদেরকে বসে বসে শুধু গরম বক্তৃতা দিলে আর শুনলেই চলবে না; বরং আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমাদেরকেই লড়াই করতে হবে। আজো পৃথিবীতে আমাদের ১৩০ (একশত ত্রিশ) কোটি মুসলমান জনশক্তি আছে। পেট্রোলিয়ামসহ বিভিন্ন খণিজ সম্পদের বিপুল সম্ভাবনা আছে মুসলিম দেশগুলোতে। কিন্তু সময়মত উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা আজ সারা বিশ্বে নির্যাতিত-নিপীড়িত হচ্ছি। তাই বর্তমানে আমাদের সামনে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং এই মুহূর্তে আমাদেরকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অগ্রসর হতে হবে। তাই আমি এই মুহূর্তেই সকল বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার জন্য কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান করছি মুসলিম নেতৃবৃন্দের প্রতি। এ জন্য কিছু যুক্তি ও প্রস্তাব পেশ করছি-

 

(১) বর্তমান কুফুরী জাতিসংঘের বিরুদ্ধে পাল্টা আন্তর্জাতিকমানের মুসলিম জাতিসংঘ গড়ে তুলতে হবে, যার মধ্যে থাকবে-

(ক) আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ।

(খ) মজবুত সামরিক শক্তি।

(গ) পারমাণবিক অস্ত্র ।

(ঘ) শক্তিশালী মিডিয়া ।

(ঙ) অর্থনৈতিক জোট।

(চ) মুসলিম বিশ্বের জন্য একক মুদ্রা প্রচলন।

(ছ) প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ ।

(জ) ও.আই.সির কার্যক্রমকে আরো জোরদার এবং অবশ্যই বিধর্মী প্রভাবমুক্ত করতে হবে।

(ঝ) দাওয়াত ও তাবলীগ বিভাগ ।

(২) মুসলিম রাষ্ট্রগুলো থেকে পাশ্চাত্য ঘেষা সাম্রাজ্যবাদীদের দোসর সরকারগুলোকে উৎখাত করে সঠিক ইসলামী চেতনাসমৃদ্ধ লোক বসাতে হবে।

(৩) প্রচলিত সৌদীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করে

এর সৌদী আরবকে মূল মারকাজ বানিয়ে সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

(৪) হযরত উমর, উসমান, আলী হায়দার, খালিদ বিন ওয়ালিদ, তারিক বিন যিয়াদ, মুহাম্মাদ বিন কাসিম, সালাউদ্দিন আইয়ুবীর দীপ্ত মশালধারী মুসলিম জাতিকে

وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفَتُمُوهُم .

এর দীপ্ত আহবান নিয়ে ঐ সম্মিলিত কুফরী শক্তি সাম্রাজ্যবাদীদের হৈচৈ নামের কুফরী সংঘের বিরুদ্ধে বুকে ঈমানী ডিনামাইট মাথায় হেলালী নিশান নিয়ে সশস্ত্র জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। গড়ে তুলতে হবে দুর্বার আন্দোলন । তীব্র বিপ্লবের প্রান্ত ভেদ করে আবার আমরা দেখতে পাব সুবহে সাদেকের আলোকে ইলমের বহ্নিশিখা, যে বহ্নিশিখায় জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে সকল কুফরী শক্তি। সৃষ্টি করতে হবে ইসলামী আন্দোলনের উত্তাল উর্মিমালা । যে উর্মিমালায় খড় কুটার ন্যায় ভেসে যাবে সকল তাগুতী শক্তি।

সেই জিহাদী কাফেলায় আপনারা কি শরীক হতে প্রস্তুত আছেন?

i) সে দিন বেশি দূরে নয় যেদিন কুফরী শক্তির ধ্বংস স্তুপের উপর পত্পত্ করে উড়বে ইসলামপন্থীদের কালিমাখচিত সবুজ হেলালী নিশান। পূর্ব দিগন্তে উদ্ভাসিত হবে খেলাফতে রাশেদার সোনালী সূর্য। সকল অন্যায়-অনাচার আর তাগুতির চাদর মিলে যাবে বাতাসে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমীন ।

পরিশেষে কবিতার দুটি চরণ দ্বারা আমার বক্তৃতার ইতি টানছি।

আনিয়াছে নব যুগের বার্তা নতুন ঈদের চাঁদ,

শুনিয়াছি খোদার হুকুম, ভাঙ্গিয়া গিয়াছে ভয়ের বাঁধ।

 

 

Design theme color

Primary color


Alternative color