ক্বিয়ামের ইতিহাস

ক্বিয়ামের ইতিহাস

৭৫৫ হিজরীতে খাজা তকী উদ্দিন ছবকী মালেকী (রহ.) এর দরবারে জনৈক কবি হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) এর শানে প্রশংসা কাব্য পাঠকালে খাজা সাহেব মাজযুব বা আল্লাহ্ ও তার রাসূল প্রেমে গভীর আসক্ত হওয়ার দরুন আবেগ অবস্থায় দাঁড়িয়ে যান। এটা কোন মিলাদ মাহফিল ছিল না। তিনি ছিলেন একজন সুফিবাদ পন্থি মালেকী মাযহাবের সাধক ব্যক্তি। তার ব্যক্তিগত আবেগ পূর্ণ আসক্ত অবস্থার কোন আমল শরীয়তের দলিল হতে পারে না। আলবায়ানুল ফাছেল বাইনাল হক্কেওয়াল বাতিল-৮৫

কারণ-১   খাইরুল কুরুন বা সাহাবা, তাবিঈন, তাবে তাবিঈন তথা ইসলামী স্বর্ণ যুগ শরীয়তের সীমা নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। তাতে ক্বিয়ামের প্রমাণ নেই।

দ্বিতীয়- ক্বিয়াম একটা মালেকী মাযহাবের এক বুযুর্গের আমল, যা হানাফী, শাফী, হাম্বলী মাযহাবের জন্য দলিল হতে পারে না। যদি এ আমলটা আমল করার বিষয় হয় তাহলে মালেকী মাযহাব পন্থীদের জন্য তা বৈধ হতে পারে। অথচ মালেকী মাযহাবে ক্বিয়াম করার কোন প্রচলন নাই।

তৃতীয় : খাজা তকী উদ্দিন ছবকী (রহ.) জীবনে শুধু উক্ত আমল আবেগপূর্ণ ভাবে জীবনে একবারই করেছেন। দ্বিতীয় বার করার প্রমাণ তার জীবনে খুঁজে পাওয়া যায় না।

চতুর্থ : খাজা সাহেব একজন গভীর আবেগী ব্যক্তি ছিলেন। যার বিশেষ কোন আমল শরীয়তের বা অন্য কারো জন্য করণীয় দলিল হতে পারে না। কারণ প্রকৃত কোন আশেকে নবী বা নবী প্রেমিকের আবেগপূর্ণ কাজ অন্যের জন্য যদি করণীয় বা দলিল হতো, তাহলে হযরত ওয়ায়েজ কুরুনী (রহ.) এর ন্যায় সমস্ত দাঁত কেন উঠান হয় না। এটা কি গভীর আবেগের কাজ ছিল না? যার বিনিময়ে হযরত রাসুলে আকরাম (সা.) এর জুব্বা মুবারক অর্জিত হয়েছিল। এটা কি কোন মন্দ কাজ ছিল? তবে কোন স্বাভাবিক অবস্থার লোকের জন্য এটা বৈধ নয়। তেমনি ভাবে ক্বিয়াম একজন গভীর আবেগ পূর্ণ অস্বাভাবিক ব্যক্তির জীবনে একটি বারের জন্য জযবার হালাতে আমল ছিল যা স্বাভাবিক লোকের জন্য বৈধ বা করণীয় না।

প্রচলিত মিলাদ ও ক্বিয়ামের মাঝে দূরত্ব

প্রিয় পাঠকবৃন্দ প্রচলিত মিলাদের আবিস্কার হল ৬০৪ হিজরীতে। যা আবিস্কার করলেন ওমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দেহিয়া। আর ক্বিয়ামের আবিস্কারক তকী উদ্দিন ছবকী ৭৫৫ হিজরীতে। এখন দুটি বিষয়ই মিলিয়ে দেখা যাক বিষয় দুটির মধ্যে দূরত্ব কত। প্রচলিত মিলাদের আবিস্কারক ১৫১ বৎসর পূর্বে এবং প্রচলিত ক্বিয়ামের আবিস্কার ১৫১ বৎসর পরে। অতএব ১৫১ বৎসরের ব্যবধানের দুইটি নব আবিস্কৃত আমলকে একত্রিত করে খিচুরী মার্কা মিলাদ ও ক্বিয়াম বানানো হয়েছে। প্রচলিত মিলাদ ও ক্বিয়াম এ দুটি আমল এক সাথে উল্লেখিত দুজনের কারো থেকেই প্রমাণ নেই। আলবায়ানুল ফাসেল- ৮৭।

দ্রাসা শিক্ষা সিলেবাসে প্রচলিত মিলাদ ও কিয়ামের আলোচনা নাই

আমাদের দেশে তথা ভারত উপমাহাদেশে দু ধারার মাদ্রাসা শিক্ষা প্রচলিত আছে। ১) কাওমী  ২) আলিয়া। উভয় শিক্ষা ব্যবস্থায়ই শিশু শ্রেণি থেকে কামিল/দাওরা এবং তাফসীর ইফতা ইত্যাদি তাকমিল পর্যন্ত পাঠ্য সূচীগুলি এমন ভাবে সাজানো হয়েছে, ঐ সকল পাঠ্য পুস্তকে শরীয়তের ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, নফল ও মুস্তাহাবসহ ইসলামের সকল বিষয় বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। ওজু, গোসল, পাক-পবিত্র, নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাতসহ দ্বীনের সকল আমলের নিয়ম পদ্ধতি বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু একজন ব্যক্তির আলেম হওয়ার জন্য দেশ-বিদেশে এমন কি আন্তর্জাতিক যে পাঠ্যসূচী রয়েছে তার মধ্যে কোথাও প্রচলিত মিলাদ ও কিয়ামের আলোচনা নাই।

বিশ্বাস না হয়, যে কোন বড় আলেমকে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন, হুজুর আপনি যে বড় আলেম হয়েছেন আপনার ইলম শিক্ষার পাঠ্য সূচীর কোন বই বা কিতাবে প্রচলিত মিলাদ ও কিয়ামের নিয়ম পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু পেয়েছেন কি? উত্তরে তিনি না-ই বলবেন। অতএব প্রচলিত মিলাদ ও কিয়াম যদি শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ পূণ্যের কাজ হতো তাহলে একজন ব্যক্তিকে আলেম হতে গেলে তার এ বিষয় অবশ্যই পাঠদান করা হতো। অথচ শিশু শ্রেণি হতে তাকমিল পর্যন্ত ১৮ বৎসরের ধর্মীয় শিক্ষা সিলেবাসে বা পাঠ্য  তালিকায় কোন বই বা কিতাবে এ বিষয়ে কোন আলোচনা নেই। বুঝা গেল প্রচলিত মিলাদ ও কিয়াম ইসলামী কোন বিষয় নয়। বরং এটা ইসলামের নামে মনগড়া ভ্রান্ত নিয়ম পদ্ধতিতে নব আবিস্কৃত বিদআত ও নাজায়েজ।

1 thought on “ক্বিয়ামের ইতিহাস”

Leave a Comment