তাকলীদ ও মাযহাব সম্পর্কে ইসলামী আকীদা

তাকলীদ ও মাযহাব সম্পর্কে ইসলামী আকীদা

তাকলীদ এর আভিধানিক অর্থ গলায় হার পরিধান করানো। পরিভাষায় তাকলীদ বলা হয় অন্যের কোন উক্তি বা কর্ম সঠিক –এরুপ সুধারণার ভিত্তিতে কোন দলীল প্রমাণ না দেখে তার অনুসরণ করা। যেন এই অনুসরণকারী ব্যক্তি অন্যের কথা বা কাজকে প্রমাণ তলব করা ছাড়া নিজের গলার হার বানিয়ে নিল। 

তাকলীদের সারকথা হল কোন বুযুর্গ ও বিজ্ঞ আলেম ব্যক্তির হক্কানিয়্যাতের প্রতি আস্থা রেখে –যে তিনি কুরআন ও হাদীছ মোতাবেক এ উক্তিটি করেছেন এবং সে মোতাবেক তিনি এ কাজটি করেছেন-তাঁর কথা ও কাজের অনুসরণ করা। আর এই অনুসরণকে সংশ্লিষ্ট কথা ও কাজের দলীল/প্রমাণ জানার উপর ঝুলন্ত না রাখা । কিন্তু তার দলীল/প্রমাণ যদি তখন জানা হয় অথবা পরবর্তীতে জানা যায়, তাহলে এটি তাকলীদের পরিপন্থী নয়। মোটকথা ,তাকলীদে দলীল/প্রমাণ অন্ধেষণ অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে দলীল /প্রমাণ জানা এ পরিপন্থী হয় না।

প্রত্যেক মুসলমানের উপর মূলতঃ আল্লাহ এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর আনুগত্য ও অনুসরণ করা ফরয। কুরআন এবং হাদীছের অনুসরণের মাধ্যমেই এ ফরয আদায় হবে। কিন্তু সরাসরি যারা কুরআন হাদীছের অনুসরণের মাধ্যমেই এফরয আদায় হবে।

কিন্তু সরাসরি যারা কুরআন হাদীছের ভাষা-আরবী বোঝেন না,কিংবা আরবী ভাষা বুঝলেও কুরআন-হাদীছ যথাযথ ভাবে অনুধাবন ও তা থেকে মাসআলা–মাসায়েল চয়ন ও ইজতেহাদ করার জন্য আরবী ব্যাকরণ, আরব অলংকার, আরবী সাহিত্য উসূলে ফেকাহ, উসূলে হাদীছে, উসূলে তাফসীর ইত্যাদি যেসব আনষঙ্গিক শাস্ত্রগুলো বোঝা প্রয়োজন নিয়মতান্ত্রিক ভাবে সেগুলো পাঠ করেননি বা পাঠ করলেও গভীরভাবে এসব বিদ্যায় পারদশী হতে পারেন নি,তাদের পক্ষে সরাসরি সব মাসআলা-মাসায়েল কুরআন হাদীছ থেকে চয়ন ও ইজতেহাদ (গবেষণা) করে বের করা যেমন সম্ভব নয় তেমনি তা নিরাপদও নয়।

বরং গভীর বুৎপত্তি ও দক্ষতার অভাবে এরুপ লোকদের গবেষণা ও ইজতিহাদে অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও গোমরাহীর শিকার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই স্বাভাবিক ।তাই এসব শ্রেণীর লোকদের জন্য বিস্তারিত মাসআলা-মাসায়েল ও বিধি –বিধানের নিমিত্তে এমন কোন বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হওয়া ব্যতীত গত্যন্তর নেই ,যিনি উপরোক্ত বিদ্যাসমূহে পারদর্শী ও দক্ষ হওয়ার ফলে সরাসরি সব মাসআলা-মাসায়েল ও বিধি বিধাণ কুরআন হাদীছ থেকে চয়ন ও ইজতেহাদ করে সব মাসআলা-মাসায়েল ও বিধি –বিধান যেভাবে বলেন তার অনুসরণ করা।

তাকলীদ করা তাই উপরোক্ত শ্রেনী সমূহের লোকদের জন্য ওয়াজিব এবং ও যে ইমামেরই হোক এরুপ যেকোন এক জনেরই তাকলীদ করা ওয়াজিব। এক এক মাসআলায় এক এক জনের অনুসরণ করার অবকাশ নেই এবং সেরুপ করা জায়েযও নয়, কারণ তাতে সুবিধাবাদ ও খাহেশাতের অনুসরণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়ে যায় এবং তার ফলে গোমরাহী-র পথ উন্মুক্ত হয় 

ইতিহাসে অনুরুপ মুজতাহিদ ইমাম অনেকেই অতিবাহিত হয়েছেন। তবে তন্মধ্যে বিশেষভাবে চারজন ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধি ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছেন এবং তাঁদের চয়ন ও ইজতেহাদকৃত মাসআলা –মাসায়েল তথা তাঁদের মাযহাব ব্যাপকভাবে অনুসৃত হয়ে আসছে। তাই আমরা চার ইমাম ও চার মাযহাব-এর কথা শুনে থাকি।উক্ত চার জন ইমাম হলেন-

১.হযরত ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)

২.হযরত ইমাম শাফিঈ (রহঃ)

৩.হযরত ইমাম মালেক (রহঃ)

৪.হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ)

তাঁদের মাযহাবকেই যথাক্রমে হানাফী মাযহাব, শাফিঈ মাযহাব,মালেকী মাযহাব, ও হাম্বলী মাযহাব বলা হয়ে থাকে। আমাদের আকীদা হল এ সব মাযহাবই হক, তবে অনুসরণ যে কোন একটারই করতে হবে,যেমন পূর্বে বলা হয়েছে । উপমহাদেশের মুসলমান সহ পৃথিবীর অধিক সংখ্যক মুসলমান হযরত ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) –এর তথা হানাফী মাযহাব-এর অনুসারী।

সালাফী ও গায়ের মুকাল্লিদগণ তাকলীদের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করেন। এমনকি তারা তাকলীদকে প্রায় শিরক পর্যায়ভুক্ত মনে করেন। এ প্রসঙ্গে ২য় খন্ডে তাকলীদের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণে কুরআন ,হাদীছ, তা‘আমুলে সাহাবা ও কিয়াস প্রভৃতি দলীল –প্রমাণ যোগে বিস্তারিত আলোচনা পেশ করা হয়েছে।

তাকলীদ ও মাযহাব সম্পর্কে

যৌন তত্ত্ব

মুখে বলে সহজে লিখুন

আমাদের ইউটিউব ইউটিব চ্যানেল

Spread the love

Leave a Comment