দিবস পালন করা কি শিরক?

দিবস পালন করা কি শিরক?

জন্ম দিবস পালনের ইতিকথা :

একইভাবে মুসলমানরা জন্ম দিনও পালন করতে পারেনা। কারণ, ইসলামী চিন্তাবিদ খালেদবেগ বলেন-জন্মদিন পালনের ইতিহাস যদি আমরা অনুসন্ধান করি দেখতে পাই এটাও পৌত্তলিক সমাজ থেকে এসেছে। পৌত্তলিকরা মনে করে যে, মানুষের বয়স যখন বেড়ে যায় শয়তানী শক্তি তার উপর বেশী ভর করে । শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য তারা একটি কাজ করল। 

একজন লোকের বয়স যখন এক বছর বেড়ে যায় সে দিন তার উপর শয়তান অতি মাত্রায় ভর করে, এটা তাদের ধারণা এ জন্য বন্ধু-বান্ধব মিলে জন্ম দিনে শয়তানের প্রভাব যাতে তার উপর না পড়ে একটি উৎসবের মাধ্যমে তারা সবাই তাকে ঘিরে রাখে। এটা হচ্ছে জন্ম দিবস পালন করার ইতিহাস। তাহলে এখানেও কুসংস্কার জড়িত। কাল্পনিক, অবাস্তব ও অবান্তর ধারণা জড়িত। তাদের বিশ্বাস হল, জন্মদিন পালনের মাধ্যমে শয়তানি শক্তিকে বিফল করা যায় । এজন্য কোন মুসলিম জন্ম দিবস পালন করতে পারেনা, কেক কাটতে পারেনা, মোমবাতি জালাতে পারেনা; এগুলো হচ্ছে পৌত্তলিক সমাজ থেকে আগত অপসংস্কৃতি ।

হাসির ছলেও দিবস পালন করা যাবে না :

আমরা এই দিবসকে ভালবাসা দিবস বলবনা আমরা এই দিবসকে বলব অপ- দিবস। এগুলোকে যদি হাসিচ্ছলে আপনি আজকে গ্রহণ করেন, আগামী বছর এটা আরেকটু শক্তি পাবে। আপনার পরবর্তী প্রজন্ম আপনাকে দেখবে যে, আমার বাবাতো করেছেন। অথচ এটি আপনি ঈমানী কাজ হিসেবে সিরিয়াসলি করছেন না । হাসি-তামাশা হিসাবে করছেন, আগামীতে এটা আর হাসি তামাশা থাকবে না, নিয়মিত একটি অনুষ্ঠান হয়ে যাবে । নিয়মিত একটি রেওয়াজ হয়ে যাবে। সংস্কৃতি অঙ্গন দখল করে নেবে। 

অপসংস্কৃতির এই বিষ পোড়াকে অপারেশন করে তখন আর সংস্কৃতির দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবেনা । ‘যায় যায় দিন’ নামক একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ঘটা করে এই দিবসকে উদযাপন শুরু করে । তারা প্রকাশ করে ভালবাসা সংখ্যা। যুবকরা সেখানে যা কিছু লেখে আপনি যদি পড়ে দেখেন লজ্জায় মাথা অবনত হয়ে যাবে । অন্যান্য যুবকরা এই অপকর্ম করার জন্য উৎসাহিত হবে। কে কোথায় কি করেছে, কার সাথে কে কোন মুহুর্তে কি অপকর্ম করেছে, কাদের দিকে কারা হা করে তাকিয়ে থাকত, এই জাতীয় ফালতু জিনিষগুলোতে শতাধিক পৃষ্ঠা ভরে দেয়া হয় । যুবকদের মন মানসিকতাকে কলুষিত করার জন্য তারা এভাবে কাজ করছে। প্রত্যক্ষ- পরোক্ষভাবে যুবকদেরকে উৎসাহিত করছে তারা যেন এই পথে অগ্রসর হয় ।

এ দিবসের কু-প্রভাব

ভ্যালেন্টাইন’স ডে তে কিছু যুবক তার প্রেমিকাদেরকে গোলাপ ফুল উপহার দেয় । দুই বন্ধু একে অপরকে জিজ্ঞেস করে আমি অমুককে গোলাপ ফুল দিয়েছি তুমি কাকে দিয়েছ? তখন যদি বলে যে, আমিতো কাউকে গোলাপ ফুল দেইনি । কারণ আমার তো কেউ নেই যাকে ফুল দেব। তখন তাকে বলা হল যে, এটা কেমন কথা, ফুল দেয়ার মত তোমার একটি পাত্রী নেই। এই কথাটা তার মনে প্রভাব বিস্তার করবে, মনে রেখাপাত সৃষ্টি করবে। এই বছর গোলাপ দেয়ার মত আমি একটি পাত্রী যোগাড় করতে পারিনি আমি কেমন যুবক। তার মনের ভিতরে একটা সংকল্প আসবে যে, আগামী বছর ১৪ ই ফেব্রুয়ারী আসার আগে আগে আমার যেন একজন পাত্রী যোগাড় হয়ে যায় এবং তীব্রভাবে সে চেষ্টা চালাবে পাত্রী যোগাড় করার জন্য।

এজন্য দেখা যাবে কলেজের ক্লাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস গোলায় যাক, মিনি রেষ্টুরেন্ট আড্ডা দেয়ার জন্য যাবে। পার্কে ও বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দিয়ে ঘুরবে, সিডি, ভিসিডি তাদেরকে আরো উৎসাহিত করবে। টিভি চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে আকাশ পথে যে অপসংস্কৃতি ঘরে ঘরে প্রবেশ করছে যুবকদেরকে আরো উৎসাহিত করবে। আগুনের মধ্যে পেট্রোল ঢেলে যুবকদের চরিত্রকে যেন ভস্মিভূত করা হচ্ছে। আমি বলতে চাই, আমরা হাসিচ্ছলেও ভ্যালেন্টাইনসডেকে গ্রহণ করতে পারিনা। তামাশা হিসেবেও গ্রহণ করতে পারিনা। আজকের এই তামাশা আগামী দিনের নৈতিকতাকে হত্যা করে দিবে । আল্লাহ বলেন-

لا تقربوا الزنا

‘যেনার কাছেও যেওনা । ভ্যালেন্টাইন’সডে এটা যেনা নয়, কিন্তু যেনার স্পর্শে আমাদেরকে নিয়ে যাবে । আল্লাহ বলেন-

قل للمؤمنين يغضوا من أبصارهم ويحفظو فروجهم

হে নবী! আপনি মুমিন যুবকদেরকে বলেন, তোমাদের অক্ষিযুগল নত কর, অপর যুবতীদের দিকে তাকানো থেকে বিরত হও এবং নিজেদের লজ্জাস্থানকে পবিত্র রাখ ।

قل للمؤمنات ان يغضضن من أبصار هن ويحفظن فروجهن

হে রাসূল! আপনি যুবতীদেরকে বলেন তারাও যেন নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে, কোন যুবকের দিকে চোক না দেয় এবং তাদের সম্ভ্রমকে রক্ষা করে।”

Leave a Comment