শরীয়তের দৃষ্টিতে ক্বিয়ামের বিধান

শরীয়তের দৃষ্টিতে ক্বিয়ামের বিধান

মিলাদ প্রসঙ্গে ক্বিয়াম দ্বারা বুঝান হয়, বিশেষ ধরণের কাসিদা বা তাওয়াল্লুদ পাঠ করার পর রাসূলে কারিম (সা.) মিলাদ মাহফিলে হাজির হয়েছেন একীন বা ধারণা করে অথবা ধারণা না করেই বা একীন না করেই ইয়ানবী বলে দাঁড়িয়ে প্রথাগত সালাম পাঠ করা। এ ধরণের কাসিদা বা তাওয়াল্লুদ পাঠ করা বা ইয়ানবী সালাম-আলাইকা বলে সালাম পাঠ করা, মাঝে মাঝে কবিতা পাঠকরা, মিলাদ মাহফিলে রাসূলে আকরাম (সা.) হাজির হওয়ার ধারণা রাখা বা ধারণা না রেখে সম্মানের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়া, সম্মিলিত সুরে রেওয়াজগত সালাম পাঠকরা। এসব কিছুই নব আবিস্কৃত বিদআত।

কেননা মিলাদ মাহফিলে রাসূলে আকরাম (সা.) হাজির হওয়ার বিশ্বাস বা আক্বিদা রাখা শিরকের শামিল। বিধায় এ ধরণের বিশ্বাস তো করাই যাবে না।

শুধু ধারণা করে বা আবেগের সহিত কোন কাজ করা ইসলাম সমর্থন করে না। না দেখে দুর থেকে সম্মান প্রদর্শন করা বা সালাম দেওয়া এটা তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ ধরণের সম্মান প্রদর্শন ও সালাম বিনিময় সামাজিকতার দৃষ্টিতেও অপছন্দীয়।

রাসূলে আকরাম (সা.) এর জীবদ্দশায় সাহাবাগণ দূর দেশে ইসলাম প্রচার ও জিহাদের জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু নবী করিম (সা.) এর শানে এ ধরণের না দেখে দূর দেশ থেকে ইয়ানবী বলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সালাম দেওয়ার নজীর কোন একজন সাহাবা থেকেও প্রমাণ নেই। অতঃপর তাবিঈন, তাবে তাবিঈন এবং আইয়িম্মায়ে মুজাতাহিদীন থেকেও এ ধরণের সালাম পেশ করার প্রমাণ নেই। বরং বিশ্বনবী (সা.) এর জীবদ্দশায় তার শানে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করা তিনি নিষেধ করেছেন। যেমন-

عن ابى امامة قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم  متكئا على عصا فقمنا له فقال لا تقوموا كما يقوم الاعاجم يعظم بعضها بعضا- مشكوة ٤٠٣

হযরত আবু উমামা

অর্থাৎ হযরত আবু উমামা (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাসূলে করিম (সা.) লাঠিতে ভর করে বের হলেন, আমরা তাঁর সম্মানে তার জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি বললেন অমুসলিম ও অনারারী লোকদের মত তোমরা দাঁড়াবে না। কারণ তারা এভাবে দাঁড়িয়ে একে অপরকে সম্মান প্রদর্শন করে। আবু দাউদ মিশকাত- পৃষ্ঠা- ৪০৩

عن انس رضـ قال لم يكن شخص احب اليهم من رسول الله (صـ) وكانوا اذا راوه لم يقوموا لما يعلمون من كراهيته لذالك-

অর্থ- হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরামের নিকট রাসূলে আকরাম (সা.) অপেক্ষা কোন ব্যক্তিই অধিক প্রিয় ছিল না। অথচ তাঁরা যখন তাকে দেখতেন তখন দাঁড়াতেন না। কেননা তাঁরা জানতেন যে তিনি এটা পছন্দ করেন না। (তিরমিযি, মিশকাত) পৃষ্ঠা- ৪০৩

উল্লেখিত দুই খানা সহীহ পর্যায়ের হাদিস। প্রথম হাদিস খানাতে রাসুলে আকরাম (সা.) ক্বিয়াম অর্থাৎ নিজের জন্য দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করা সরাসরি ষ্পষ্ট ভাবে নিষেধ করেছেন।

পাঠকবৃন্দ

প্রিয় পাঠকবৃন্দ চিন্তা করে দেখুন যে, কাজ নবী করিম (সা.) পছন্দ করেন নাই বরং নিষেধ করেছেন এমন কাজ যদি কেউ নবী প্রেমের দাবীদার হয়ে করে বসে, তাকে নবী প্রেমিক বলবেন, নাকি দুশমন বলবেন? বিষয়টি ভেবে দেখা প্রয়োজন। যে কিয়াম রাসূলে কারিম (সা.) এর হাজির হওয়া অবস্থায় নিষেধ হলো সেই ক্বিয়াম তার হাজির না থাকা অবস্থায় হাজার হাজার মাইল দুর থেকে কিভাবে জায়েজ হতে পারে। অবশ্যই না বলতে হবে।

দ্বিতীয় হাদিস দ্বারা ষ্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, সাহাবায়েকেরামের নিকট রাসূলে কারিম (সা.) অপেক্ষা বেশী প্রিয় কোন ব্যক্তি ছিল না। এমন কি কিয়ামত পর্যন্ত সাহাবায়েকেরাম থেকে বেশী নবী প্রেমিক দুনিয়াতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। নবী করিম (সা.) কে নিজের স্ত্রী সন্তান, ঘরবাড়ী, মাল সম্পদ এমন কি দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে যারা ভাল বাসলেন, নবী (সা.) এর পদাংক অনুসরনই যাদের জীবনের পেশা ও নিশা ছিল। নবী করিম (সা.) এর কথা বা ইশারায় যারা জীবন দিতে কুন্ঠাবোধ করেনি, তারা নবী (সা.) কে স্বচক্ষে দেখে ক্বিয়াম করল না।

কেননা রাসূলে করিম (সা.) ক্বিয়াম বা দাঁড়ানকে অপছন্দ করতেন। আর রাসূলের অপছন্দনীয় কাজ সাহাবায়েকেরামদের পছন্দ হবে এটা তো হতেই পারে না। এটা শুধু পেট পুজারী স্বার্থপর অর্থলোভী মিথ্যা আশেকে রাসূল দাবীদারদের দ্বারাই সম্ভব হতে পারে। যারা উলামায়েছু নামে পরিচিত। আল্লাহ্ পাক আমাদের সকলকে সহীহ্ বুঝ দান করুন।

বীর্য ঘন করার ঔষধ তৈরির পদ্ধতি

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

1 thought on “শরীয়তের দৃষ্টিতে ক্বিয়ামের বিধান”

Leave a Comment