হযরত ইদরীস (আঃ) এর জীবনী

হযরত ইদরীস (আঃ) এর জীবনী: হযরত ইদরীস (আঃ) সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এইভাবে উক্ত হইয়াছেঃ

অর্থাৎঃ কিতাবে উল্লেখিত ইদরীসকে স্মরণ কর। নিশ্চয় সে তস্য নবী ছিল এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁহাকে উচ্চতর স্থানে উঠাইয়া লইয়াছিলেন। (সূরাঃ মারয়াম, আয়াতঃ ৫৬-৫৭)

হযরত ইদরীস (আঃ) –এর মূল বা আসল নাম ছিল আখনুক । তবে তাঁর নাম ইদরীস হওয়ার কারণ হল, তিনি দেশের জনসাধারণকে শিক্ষা-দীক্ষায় উপযুক্তরূপে গড়ে তুলেছিলেন।শিক্ষা প্রদান করাকে দারস বা প্রশিক্ষণ বলা হয়। আর সেই দারস শব্দ হতেই ইদরীস শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।

হযরত ইদরীস (আঃ) একদিকে যেমন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন, অন্যদিকে তিনি নানা গুণেও বিভূষিত ছিলেন। অধিকাংশ সময়ই তিনি মানুষকে শিক্ষা প্রদান এবং তাদের মাঝে ওয়াজ নসিহতে ব্যয় করতেন এবং ইবাদাত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকতেন।তাঁর সম্পর্কে জানা যায় যে, তিনি নিজের জামা কাজড় নিজেই সেলাই করে ব্যবহার করতেন। অন্যের জাম –কাপড়ও সেলাই করে দিতেন। অবশ্য সেজন্য তিনি কারও নিকট হতে মজুরী বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন না। তিনি এমনই ইবাদাতগুজার ব্যক্তি ছিলেন যে, একদিকে তিনি কাজ করতেন, অন্যদিকে মনে মনে যিকির করতেন। গুনা যায়, জামাকাপড় সেলাই করাকালে সূচের প্রতিটি ফোড়ে ফোড়ে তিনি আল্লাহর নামের তাসবীহ পড়তেন।

কুরআনে হযরত ইদরীসের বর্ণনা

পবিত্র কুরআনে মাত্র দুটি স্থানে হযরত ইদরীসের বর্ণনা আছে। যেমনঃ এই কিতাবে বর্ণিত ইদরীসের কথা বর্ণনা কর, সে ছিল সত্যবাদী, িএবং আমি তাঁকে দান করেছিলাম উচ্চমর্তবা। (সূরা আম্বিয়াঃ আয়াতঃ ৫৬-৫৭)

এবং স্মরণ কর ইসমাঈল, ইদরসীস ও যুলকিফল- এর কথা প্রত্যেকেই ছিল ধৈর্য্যশীল।(সূরা আম্বিয়াঃ আয়াতঃ ৮৫)

নাম বংশ সময়কাল

হযরত ইদরীসের নাম, বংশ ও সময়কাল সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে চরম ধরনের মতানৈক্য বিদ্যমান। এই মতানৈক্য এমনি অনেক চিন্তাভাবনা করেও সব মতামতের মধ্যে একটি মোটামুটি সমন্বয় সাধন, এমনকি কোন একটি মতামতকে আগ্রাধিকার প্রদানও প্রায় অসম্ভব।

এর কারণে এ কুরআনে মূল লক্ষ্য হেদায়েত ও পথ প্রদর্শন। তাই এতে নবীদের কোন নাম-ধাম ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা না করে তাদের উচ্চ মর্তবা ও মহৎ গুণাবলি সম্পর্কেই আলোকপাত করা হয়েছে। হাদীসে রসূলও এর চেয়ে আগে বাড়েনি। তাই এক্ষেত্রে যা কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় তার সবই ইসরাইলী রেওয়াতে থেকে নেয়া, আর এমনভাবে নেওয়া তা পরস্পর মতানৈক্য ভরপুর।

এক দলের মতে, হযরত ইদরীস হচ্ছেন হযরত নূহ (আ) এর প্রপিতামহ। তাঁর মূল নাম ছিল আখনুখ এবং উপাধি ছিল ইদরীস। এবং ইরবানী ও সুরিয়ানী ভাষায় আখনুখ বলা হতো।তার বংশলতিকা হচ্ছে নিম্নরূপ, খানুখ অথবা আখনুখ (ইদরীস) বিন ইয়ার্দ ববিন মাহলাইলে বিন কীমান বিন আনুশ বিন শীশ বিন আদম (আ)। ইবনে ইসহাকও এই মতামতই সমর্তন করেছেন।

অপর দলের মতামতে, ইদরীস ছিলেন বনী ইসরাইলের নবীদের অন্যতম । আর ইলিয়াস ও ইদরীস হচ্ছে একই ব্যক্তির যথাক্রমে নাম ও উপাধি।

উপরোক্ত দুটি মতের মধ্যে সমস্বর সাধন করতে গিয়ে কিছু আলেম মতামত প্রকাশ করেছেন নূহের পিতামহের নাম ছিল আখনূহ এবং ইদরসীস ছিল তার উপাধি। আর বনী ইসরাইলের একজন নবীর নাম ছিল ইদরীস এবং ইলিয়াস ছিল তার উপাধি। কিন্তু এই মতামতের পিছনে কোন সনদ বা প্রমাণ নেই। তাছাড়া কুরআনে ইলিয়াস এবং ইদরীসকে পৃথক পৃথক বর্ণনা করায় তারা যে এক ব্যক্তি নন তা পরিষ্কার বুঝা যায়।

(১) সহীহ ইবনে হাব্বানের এক বর্ণনায় রয়েছে ইদরীস ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি হস্তাক্ষর প্রবর্তন করেন। ইবনে কাসীর অন্যান্য রেওয়ায়েতের সাথে এই মর্মেও একটি উব্দৃতি দিয়েছেন কোন কোন মুফাসসির ও বিজ্ঞজনের ধারণা, হযরত ইদরীসই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি কালিমাতে রমল (রমল শব্দাবলি বা হস্তাক্ষর) উদ্ভাবন করেন।

(২) বর্ণিতত মনীষীগণ তাকে হারামাস আল হারামিসা? উপাধিতে ভূষিত করেছেন।

(৩) এবং তাকে উপলক্ষ করে এমন অনেক অমূলক কথা বলেছেন, যা তিনি ছাড়াও সাধারণভাবে অনেক নবী, আলিম, বিজ্ঞ ও অলিউল্লাহ, সম্পর্কে বলা হয়েছে।

গোপন মাসাআলা

আমাদের ইউটিউব ইউটিব চ্যানেল

Spread the love

Leave a Comment