তাবীজ ও ঝাড় ফুঁক সম্বন্ধে আকীদা

তাবীজ ঝাড় ফুঁক সম্বন্ধে আকীদা

  • তাবীজ ও ঝাড় –ফুঁকে কাজ হওয়াটা নিশ্চিত নয়,পারে না হতেও পারে।যেমন দুআ করা হলে রোগ –ব্যাধি আরোগ্য হওয়াটা নিশ্চিত নয়-আল্লাহর ইচ্ছা হলে আরোগ্য হয় নতুবা হয় না । তদ্রুপ তাবীজ এবং ঝাড় ফুঁকও একটি দুআ এবং তাবীজের চেয়ে দুআ বেশী শক্তিশালী ।
  • তাবীজ এবং ঝাড়-ফুঁকে কাজ হলেও সেটা তাবীজ বা ঝাড় ফূকের নিজস্ব ক্ষমতা নয় বরং আল্লাহর ইচ্ছাতেই সবকিছু হয়ে থাকে।
  • সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব তাবীজ ও ঝাড়-ফুঁকই এজতেহাদ এবং অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত ,কুরআন  ও হাদীসছে যার ব্যাপারে স্পষ্ট বলা হয়নি যে,অমুক তাবীজ বা অমুক ঝাড়-ফুঁক দ্বারা অমুক কাজ হবে। অতএব কোন তাবীজ বা ঝাড়-ফুঁক দ্বারা কাঙ্খিত ফল লাভ না হলে কুরআন –হাদীছের সত্যতা নিয়ে কিছু বলার বা ভাবার অবকাশ নেই।
  • তাবীজ ও ঝাড়-ফুঁক কুরআন হাদীছের বাক্যাবলী এবং আল্লাহর আসমায়ে হুসনা দ্বারা বৈধ উদ্দেশ্যে করা হলে তা জায়েয। পক্ষন্তরে কোন কুফর শিরকের কথা থাকলে বা এরুপ কোন যাদু হলে তা দ্বারা তাবীজ ও ঝাড়-ফুঁক হারাম । এমনি ভাবে কোন অবৈধ উদ্দেশ্য হাছিলের জন্য তাবীজ ও ঝাড়-ফুঁক হলে তা জায়েয নয়,যদি ও কুরআন হাদীছের বাক্য দ্বারা তা করা হয় । মুসলিম হাদিছে এসেছে

হযরত আউফ ইবনে মালিক আশজায়ী বলেন, আমরা জাহিলী যুগে ঝাড়-ফুঁক করতাম । তাই জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রসূলাল্লাহ! এ ব্যাপারে আপনার মত কি? তিনি বললেন, তোমরা কি দিয়ে ঝাড় –ফুঁক কর তা আমার কাছে পেশ কর । যাতে শিরক নেই এমনি কিছু দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করাতে কোন দোষ নেই। (মুসলিম)

  • যেসব বাক্য বা শব্দ কিংবা যেসব নকশার অর্থ জানা যায় না তা দ্বারা তাবীজ ও ঝাড়-ফুঁক করা বৈধ নয়।
  • কোন বিষয়ের তাবীজ বা ঝাড়-ফুঁকের জন্য কোন নির্দিষ্ট দিন বা সময় রয়েছে বা বিশেষ কোন শর্ত ইত্যাদি রয়েছে –এরুপ মনে করা ঠিক নয়।
  • তাবীজ বা ঝাড় –ফুঁকের জন্য কারও এজাযত প্রাপ্ত হওয়া জরুরী –এরুপ ধারণাও ভুল ।
  • তাবীজ বা ঝাড়-ফুঁক দ্বারা ভাল আছর হলে সেটাকে তাবীজ দাতার বা আমলের বুযুর্গী মনে করা ঠিক নয়। যা কিছু হয় আল্লাহর এচ্ছাতেই হয়।

তাবীজ ও ঝাড়- ফুঁক কুরআন হাদীছের বাক্যাবলী দ্বারা বৈধ উদ্দেশ্যে করা হলে তা জায়েয । এ সম্পর্কে কয়েকটি দলীল নিম্নে পেশ করা হলঃ

এ হাদীছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) কর্তৃক তার বাচ্চাদের জন্য তাবীজ লিখে দেয়ার কথা উল্লেখিত হয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা)

এ হাদীছেও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর আবনুল আস (রাঃ) কর্তৃক তার বাচ্চাদের জন্য তাবীজ লিখে দেয়ার কথা উল্লেখিত হয়েছে।(আবূ দাঊদ)

এ রেওয়ায়েতে হযরত মুজাহিদ (রহঃ) কর্তৃক মানুষকে তাবীজ লিখে দেয়ার কথা বর্ণিত আছে এবং আবূ জাফর, মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) –এর প্রত্র উবায়দুল্লাহ ও জাহহাক প্রমুখের অন্যদেরকে তাবীজ লিখে দেয়ার কথা,সুতা বাধা ,তাবীজ হাতে বা গলায় বাধাঁ ও তাবীজ লেখা বৈধ হওয়ার মর্মে তাদের মন্তব্য বর্ণিত হয়েছে।

এ রেওয়ায়েতে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বাচ্চা প্রসবের সময় প্রসূতূীর প্রসব বেদনা লাঘব করা ও সহজে প্রসব হওয়ার জন্য বিশেষ তাবীজ শিক্ষা দেয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে।এ রেওয়ায়েতটি সালাফী ও গায়ের মুকাল্লিদগণের সর্বজনমান্য ব্যক্তিত্ব ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) তাঁর ফাতাওয়াতে উল্লেখ করেছেন।

বর্তমান যুগের গায়রে মুকাল্লিদ ও সালাফীগণ তাবীজ কবজকে নিষিদ্ধ এমনকি শিরক বলে আখ্যায়িত করেন। এ প্রসঙ্গে ২য় খন্ডে ঝাড়-ফুঁক ও তাবীজ –কবচ প্রসঙ্গ শিরোনামে আমাদের বিস্তারিত বক্তব্য ও দলীল- প্রমাণ এবং তাদের দলীল –প্রমাণ খন্ডনসহ আলোচনা পেশ করা হয়েছে।

তাবীজ ও ঝাড় ফুঁক সম্বন্ধে আকীদা

দীর্ঘ সময় সহবাস করার উপায় ও কৌশল

মুখে বলে সহজে লিখুন

আমাদের ইউটিউব ইউটিব চ্যানেল

Spread the love

Leave a Comment