মুহাজিরদের জন্য আনসারদের অর্থনৈতিক আত্বত্যাগ

মুহাজিরদের জন্য আনসারদের অর্থনৈতিক আত্বত্যাগ

হজরত আবু হোরায়া (রাঃ) বলেন, আনসারগণ নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট হাজির হইয়া আবেদন করিল, খেজুরের বাগানসমূহ আমাদের ও আমাদের মুহাজির ভাইদের মধ্যে বন্টন করিয়া দিন। নবী করীম (সাঃ) বলিলেন, না। আনসারগণ বলিল, তবে আপনি যেভাবে ভালো মনে করেন সেভাবে করুন।

নবী করীম (সাঃ) বলিলেন, তোমরা কি চাও যে, বাগানে যাবতীয় পরিশ্রম তোমরা করিবে, তার পর আমরা সমান ভাগ করিয়া ফল লইব? আনসারগণ বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা শুনিলাম হজরত আবদুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম (রাঃ) বলেন, নবী করীম (সাঃ) আনসারদেরকে বলিলেন, তোমাদের ভাইয়ের কি নিজেদের অর্থ সম্পদ পরিবার পরিজন পরিত্যাগ করিয়া তোমাদের নিকট আসে নাই? আনসারগণ বলিলেন, আমরা আমাদের অর্থ সম্পদ মুহাজির ভাইয়ের সঙ্গে অর্ধেক অর্ধেক ভাগাভাগি করিব।

নবী করীম (সাঃ) বলিলেন, ইহা চাড়া অন্য ব্যবস্থা ও তো হইতে পারে। আনসারগণ জানিতে চাহিলেন, তাহা কি? নবী করীম (সঃ) বলিলেন, মুহাজিরগণ কৃষি কাজ করিতে জানে  না, তোমরা এই ব্যাপারে তাহাদের সহাযোগিতা কর। তারপর উৎপাদিত ফসল নিজেদের মাধ্যে বন্টন করিয়া লইবে। আনসারগণ বলিলেন, আমরা তাহাই করিব।

হজরত আনাস (রাঃ) বলেন, মুহাজিরগণ নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট আরজ করিল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সেই জাতির নিকট আসিয়াছি, ইহার চাইতে উওম জাতি আমরা দেখি নাই। ছোট ছোট জিনিসের, ক্ষেএেও তাহারা আমাদের কথা ভুলিয়া যায় না, বড় বড় জিনিস ও আমাদের জন্য সানন্দে ব্যয় করে আমাদেরকে কাজ করিতে দেয় না।

আমরা আশষ্কা করিতেছি যে,তাহারাই সব সওয়াব লাইয়া না যায়। নবী  করীম (সাঃ) বলিলেন, তাহা নহে। যতদিন তোমরা তাহাদেরকে ভাল বলিবে এবং তাহাদের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করিবে। হজরত জাবের (রাঃ) বলেন, প্রত্যেক আনসারী তাহাদের খেজুরসমূহ গাছ হইতে চায়ন করিবার পর দুই ভাগ করিতেন।

এক ভাগে কম এবং অন্য ভাগে বেশি থাকিত। যেই ভাগে খেজুর কম হইত, সেই ভাগে খেজুর শাকা মিলাইয়া দেওয়া হইতে। অতঃপর মুহাজিদরদের যে কোন এক ভগে গ্রহণের জন্য বলা হইত। মুহাজিরগণ বড় ভাগ গ্রহণ করিতেন। আনসাগণ খেজুর শাখা মিলনো ছোট ভাগ গ্রহণ করিতেন। খায়বরে বিজয় পর্যন্ত এ ব্যবস্থা চালিতে থাকিল। নবী করীম (সাঃ) বলিলেন, তোমাদের উপর আমাদের যে অধিকার ছিল তাহা তেমরা পূর্ণ করিয়াছ।

যদি তোমরা চাও তবে খায়বরে আমরা তোমাদের অংশ দিয়া সন্তুষ্ট করিব। আনসারগণ বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের উপর আপনার কিছু শর্ত ছিল, আপনার উপর আমাদেও একটি অঙ্গীকার পূরণ করিয়াছেন এ কারণে আমরা নিজেদের শর্তবলী পূরণ করিয়াছি। নবী করীম (সাঃ) বলিলেন, নিঃসন্দেহে।

অনুপ্রেরণার বাণী

মুখের ব্রণ দূর করার সহজ উপায়

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

Leave a Comment